আকাশ ছোঁবে এশিয়ান বাজপাখির ডানা?

১৯৯৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে প্রথম অভিষেক হয় ‘এশিয়ার বাজপাখি’ খ্যাত সৌদি আরবের। প্রথমবারই বাজিমাত করে দেশটি। গ্রুপ পর্বে, বেলজিয়াম, নেদারল্যান্ডস ও মরক্কোকে হারিয়ে নকআউট পর্বে নাম লেখায় সৌদি। এরপরই ছন্দপতন এর শুরু। দ্বিতীয় রাউন্ডে সুইডেনের সাথে ৩-১ গোলে হেরে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে পড়তে হয় তাদের। তবে সে বিশ্বকাপে ওয়াশিংটনের মাটিতে বেলজিয়ামের বিপক্ষে করা গোলটি এখনো বিশ্বকাপের ইতিহাসের অন্যতম সেরা গোল মানা হয়।

প্রথম বিশ্বকাপ এর তিনটি জয়ের পর ১৯৯৮, ২০০২ এবং ২০০৬ সালে পরপর তিনটি বিশ্বকাপে একটা ম্যাচেও জয় নিতে পারেনি তারা। প্রতিটি বিশ্বকাপেই গ্রুপ পর্ব থেকেই বাদ পড়ে সৌদি আরব। ২০১০ সালে দক্ষিণ আফ্রিকা ও ২০১৪ সালে ব্রাজিলের মাটিতে অনুষ্ঠিত বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতাই অর্জন করতে পারেনি দেশটি। যদিও এবছর এর রাশিয়া বিশ্বকাপের টিকিট নিশ্চিত করেছে দেশটি।

রাশিয়া বিশ্বকাপে সরাসরি যাওয়ার আগে গেলো বিশ্বকাপের ইতিহাসগুলো একটু দেখে নিই। জার্মানির মাটিতে ২০০৬ বিশ্বকাপে তিউনেশিয়ার বিপক্ষে ২-২ গোলেএ ড্র ছাড়া আর কোনো ম্যাচে ঘুরে দাড়াতে পারে নি সৌদিআরব।

২০০২ বিশ্বকাপের আয়োজক ছিলো দক্ষিণ কোরিয়া ও জাপান। এই বিশ্বকাপে প্রথম ম্যাচেই জার্মানির সাথে ৮-০ গোল খেয়ে মানসিক ভাবে ভেঙে পড়ায় বাকি দুই ম্যাচে ক্যামেরুন এবং আয়ারল্যান্ড এর সাথে আরোও চারগোল হযম করে গোলশূন্য বিদায় নিতে হলো তাদের।

১৯৯৮ সালে স্বাগতিক ফ্রান্সের সাথে ০-৪, ডেনমার্কের সাথে ০-১ গোলের হার এবং দঃ আফ্রিকার সাথে ২-২ গোলে ড্র নিয়ে বিশ্বকাপ থেকে বিদায় নেয় অ্যারাবিয়ানরা।

২০১৬ সালের এপ্রিলে ড্র হয় তৃতীয় রাউন্ডের। এশিয়া র‌্যাংকিংয়ের পঞ্চম স্থানে থাকা সৌদিআরব স্থান হয় বি-গ্রুপে। গ্রুপ-বি তে তাদের সাথে যুক্ত হলো থাইল্যান্ড, আস্ট্রেলিয়া, জাপান, ইরাক এবং সংযুক্ত আরব আমিরাত। তাদের বাছাইপর্ব এর মিশন শুরু হয় ২০১৬ সালের এক সেপ্টেম্বর থেকে।

১ সেপ্টেম্বর ২০১৬- ৮৪ মিনিটে আল আবেদের পেনাল্টি থেকে থাইল্যান্ড এর বিপক্ষে প্রথম জয় পায় এরাবিয়ানরা।

৬ সেপ্টেম্বর ২০১৬ – আবারো পেনাল্টি পেয়ে ভাগ্যবদল হয় ইরাকের সাথে ১-০ গোলে পিছিয়ে থাকা সৌদিআরব। ৮১ এবং ৮৪ মিনিটে পরপর দুইটা পেনাল্টি থেকে জয়সূচক গোল করেন আল আবেদ।

৬ অক্টোবর ২০১৬ – আল জাসিম এবং আল সামারানির গোলে ২-২ এর সমতায় অস্ট্রেলিয়ার সাথে ড্র করে সৌদি আরব।

১১ অক্টোবর ২০১৬ – আল মোয়াল্লাদ, আল আবেদ এবং আল সাহরীর তিন গোলে আরব আমিরাতের সাথে সহজ একটি জয় তুলে নেয় সৌদি।

১৫ নভেম্বর ২০১৬ – জাপানের বিপক্ষে ২-০ গোলে পিছিয়ে থাকা অবস্থায় ৯১ মিনিটে গোল করে হারের ব্যবধান কমান হাওসাওরী।

২৩ মার্চ ২০১৭ – সালাওহী, আল মওশোর এবং তানাবাদের আত্মঘাতী গোলের কারণে ৩-০ গোলে আবারো থাইল্যান্ড এর বিপক্ষে বিজয়ী হয় সৌদি।

২৮ মার্চ ২০১৭ – ৫৩ মিনিটে আল সাহরীর গোলে ইরাকের বিপক্ষে জয় পায় সৌদি আরব।

৮ জুন ২০১৭ – অস্ট্রেলিয়ার জালে ২৩ মিনিটেই বল পাঠাতে সক্ষম হলে ও এরপর ম্যাচের খেই হারিয়ে ফেলে তারা সা হাফটাইমের আগেই ২-১ গোলে এগিয়ে যায় অস্ট্রেলিয়া। তবে ৪৭ মিনিটে আল সালাহীর গোলে সমতা আসলেও খেলার শেষ মুহুর্তে অজিরা গোল ব্যবধান বাড়িয়ে ৩-২ গোলে হারিয়ে দেয় সৌদিকে।

২৯ আগষ্ট ২০১৭ – সংযুক্ত আরব আমিরাতের বিপক্ষে এই ম্যাচটা জিততে পারলে এখানেই নিশ্চিত হয়ে যেতো সৌদিয়ানদের বিশ্বকাপ খেলা। কিন্তু পেনাল্টি পেয়ে প্রথমে এগিয়ে থাকলেও শেষমেশ ২-১ গোলে হেরে যায় তারা।

তবে পাঁচ সেপ্টেম্বর শেষ ম্যাচে জাপানকে ১-০ গোলে হারিয়ে ১২ বছর পরে রাশিয়ার বুকে বিশ্বমঞ্চে সবুজ পতাকা উড়ানো নিশ্চিত করে অ্যারাবিয়ানরা।

২০১৮ বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ইতোমধ্যেই স্কোয়াড ঘোষণা করেছেন সৌদি আরবের কোচ হুয়ান আন্তোনিও পিজ্জি। তবে এবারের বিশ্বকাপ দল তাঁদের কাছে অন্যবারের চেয়ে আলাদা। কারণ এই প্রথম এই দলের নয়জন  খেলোয়াড় লা লিগার বিভিন্ন দলে খেলছেন। কোচ পিজ্জি ভাবছেন বিশ্বমানের এই লিগ থেকে বেশ অভিজ্ঞতা নিয়েই তাঁরা বিশ্বকাপের মঞ্চে নামবেন।

কিন্তু তাদের এই যুদ্ধ সহজ নয়। বিশ্বকাপের মঞ্চে তাদের গ্রুপে আছে স্বাগতিক রাশিয়া, দুইবারের বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন উরুগুয়ে এবং ব্যালন ডি’অরের অন্যতম দাবিদার মুহাম্মদ সালাহর মিশর।এজন্যই যুদ্ধটা এতোটা সহজ হবে না অ্যারাবিয়ানদের। দেখা যাক ভরসামান পিজ্জির এই নতুন সৌদি আরব কতদূর পৌঁছতে পারে।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।