সার্জিও রামোস: মিস্টার কার্ড

মাস তিনেক আগে টুইটারে খেলাধুলা বিষয়ক স্প্যানিশ পত্রিকার এএসের একটা টুইট চোখে পড়লো। বিষয়বস্তু রিয়াল মাদ্রিদের অধিনায়ক সার্জিও রামোস।ওই দৈনিকে সেদিন প্রথম পাতায় ছাপা হয়েছিল ‘সার্জিও রামোস: মিস্টার কার্ড’ শিরোনামে তথ্যবহুল একটা ফিচার, যেখানে রামোসের ক্যারিয়ারের সকল হলুদ কার্ড ও লালকার্ড এর নথি তুলে ধরা হয়।

মারিও বালোতেল্লিকে ফুটবলের ব্যাডবয় হিসেবে বলা হয়। তবে আরো কিছু ব্যাডবয়ের নাম অনেকসময় উঠে এসেছে। বার্সায় যোগ দেবার আগ পর্যন্ত লুইস সুয়ারেজকেও সবাই ব্যাডবয় ভাবত। এক সময়ের অন্যতম প্রতিভাবান ডিফেন্ডার জন টেরির নামও আলোচনায় উঠে আসে। তাছাড়া জ্লাতান ইব্রাহিমোভিচ, কার্লোস তেভেজ, জেমি ভার্ডিরাও কম যান না। মাঠে কিংবা মাঠের বাইরে এরা ব্যাডবয়। তবে এসময়ে মাঠের খেলায় এদের সবাইকেই হয়তো ছাপিয়ে গেছেন স্পেন ও রিয়াল মাদ্রিদ অধিনায়ক সার্জিও রামোস।

আপনি যদি একটু পরিসংখ্যানের দিকে চোখ রাখেন তাহলে ব্যাপারটা খোলাসা হয়ে যাবে। সদ্য শেষ হওয়া লা লিগা মৌসুমে তিনি কুড়িয়েছেন নয়টি হলুদ কার্ড ও দু’টি লালকার্ড। গত মৌসুমে যেটা ছিল আটটি হলুদ ও একটি লালকার্ড এবং ২০১৫-১৬ মৌসুমেও নয়টি হলুদ ও দু’টি লালকার্ডের মালিক ছিলেন সার্জিও রামোস।

শেষ ১১ বছরে লা লিগায় ১১৮টি হলুদ কার্ড পেয়ে সবচেয়ে বেশি হলুদ কার্ডের মালিক এই সার্জিও রামোস। রামোসের পরের নামটা ফার্নান্দেজ গাবির (১১১টি)। রামোস তাঁর ১১৮ হলুদ কার্ডের ভিতরে সবচেয়ে বেশি ৭৪ টি হলুদ কার্ড পেয়েছেন প্রতিপক্ষের মাঠে। আর লা লিগায় এই সময়ের ভেতরে সবচেয়ে বেশি ১৫ টি লাল কার্ড পেয়েছেন এই রামোসই, যার চারটি ছিল সরাসরি লালকার্ড!

এবার যাওয়া যাক গোটা ফুটবলের ইতিহাসের দিকে। চ্যাম্পিয়নস লিগের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ৩৬ টি হলুদ কার্ড সার্জিও রামোসের দখলে। তাছাড়া তিনটি লাল কার্ডের মালিকও তিনি যার দুটোই ছিল প্রথম দফাতেই পাওয়া।

গোটা ফুটবল ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি ৪৬ টি লালকার্ডের মালিক কলম্বিয়ান ফুটবলার জেরার্ডো বেদোয়া। এরপরের ২৭ টি লাল কার্ড নিয়ে দ্বিতীয় স্থানে ফ্রান্সের ক্রাইল রোল। এর পরের নামটি আর কারোরই নয়, তিনি সার্জিও রামোস। ২০০৫ সালের ১৮ সেপ্টেম্বরে এস্পানিওলের বিপক্ষে প্রথম লালকার্ড হজম করেন তিনি। রামোস তার ক্যারিয়ারে মোট ২৪টি লাল কার্ড পেয়েছেন। তার ২৪ লালকার্ডের ভিতরে ১৯ টি লা লিগায়। রামোস সবচেয়ে বেশি পাঁচটি লাল কার্ড হজম করেছেন এল ক্লাসিকোতে।

ক্লাব ও জাতীয় দল মিলে ২৩৩ টি হলুদ কার্ডের মালিক সার্জিও রামোস, এটা এসময়ের যেকোনো ফুটবলারের চেয়েও বেশি। রিয়ালের হয়ে রামোসের হলুদ কার্ডের সংখ্যা ২০৬ টি, সেভিয়ার হয়ে সাতটি এবং বাকি ২১ টি স্পেনের হয়ে। তার মোট লালকার্ডের সবক’টিই রিয়ালের হয়ে। এর অর্থ হল, স্পেন জাতীয় দলের হয়ের রামোস কোনো লালকার্ড পাননি!

এখানেই শেষ নয়। ফুটবলে রামোসের অভিষেকের পর রামোসের চেয়ে বেশি কার্ড অন্য কোনো ফুটবলার পাননি। এছাড়াও অলটাইম ফুটবল রেকর্ডেও সবার উপরের নামটা এই রামোসেরই!

এবার চ্যাম্পিয়ন্স লীগের ফাইনালে সার্জিও রামোসের একটা ট্যাকলে বিশ্বকাপ স্বপ্ন অনেকটাই ভেঙে চুরমার হয়ে যায় লিভারপুলের মিশরীয় তারকা মোহাম্মদ সালাহর। কাগজে কলমে ট্যাকলটা অবশ্য বেআইনী ছিল না। তবেম সেটা হোক বা নাই হোক সালাহ যদি বিশ্বকাপে নামতে না পারেন, তাহলে মিশরের কাছে আজীবনের জন্য ভিলেন বনে যাবেন রামোস। লিভারপুলের কোচ তো রীতিমত ট্যাকলটাকে তুলনা করলেন কুস্তির সাথেও।

রামোস অবশ্য মাঠের ঘটনা মাঠেই ভুলে যেতে চান, টুইটে তিনি সালাহ’র প্রতি সহমর্মীতাও জানিয়েছেন। যদিও, ‘ভিলেন’-এর মুখের মিষ্টি কথাও এখন মিশর সমর্থকদের কাছে বিষের মত লাগার কথা!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।