এসেছে নতুন তারকা, তাঁকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান!

বিমান বন্দরে অপেক্ষায় আছেন মা। মেয়ে ফিরছে আমেরিকা থেকে। খ্যাতনামা কলোম্বিয়া ইউনিভার্সিটি থেকে উচ্চশিক্ষার পাট চুকেছে। কতদিন পর মেয়েটাকে দেখবেন। মায়ের চোখে ‍মুখে উৎকণ্ঠার ছাপ। কিন্তু, এ কি! মেয়েটাকে যে খুঁজেই পাওয়া যাচ্ছে না।

হঠাৎ একটা পরিচিত লাগেজ চোখে পড়লো। তখনই বুঝলেন, এটাই তাঁর আদরের মেয়ে। শুকিয়ে এমন অবস্থায় পৌঁছেছে যে মায়ের চোখও ধরতে পারেনি।

এই গল্পের মা হলেন অমৃতা সিং। আর মেয়ে হলেন সারা আলী খান। আক্ষরিক অর্থেই বিমানবন্দরে প্রথম দেখায় মেয়েকে চিনতেই পারেননি বলিউডের এই অভিনেত্রী। চিনবেন কি করে! যাওয়ার আগে সারা’র ওজন ছিল ৯৬ কেজি। সেখান থেকে তিনি ফিরেছেন পাক্কা ৩০ কেজি ওজন কমিয়ে।

সারা স্মৃতিচারণা করে বলেন, ‘মা তো আমাকে বিমানবন্দরে চিনতে পারে কেবল আমার স্যুটকেস দেখে। আমি একেবারেই পাল্টে গিয়েছিলাম।’

সারা নাদুসনুদুস একটা মেয়ে ছিলেন। সেখান থেকে তিনি এখন রীতিমত বলিউড ডিভা। ৩০ কেজি ওজন তিনি কমান মাত্র দেড় বছরের মধ্যে। সেই সারার হাতেই এখন পতৌদি পরিবারের আগামী দিনের সম্ভাবনার পতাকা।

অভিনয় জীবনের প্রথম বছরেই সারা বলিউডের সবচেয়ে বড় পুরস্কার ‘ফিল্মফেয়ার’ পেয়েছেন ‘কেদারনাথ’ ছবির জন্য। সিনেমার মূল আলোটা কেড়েছেন সুশান্ত সিং রাজপুত। তবে, তাঁর পাশে সারাও নিজের সহজাত অভিনয় দক্ষতায় মুগ্ধ করেছেন।

দেখে বোঝার উপায় ছিল না যে এটাই তাঁর প্রথম সিনেমা। অনেক সমালোচক সারার সাথে তাঁর মা অমৃতা সিংয়ের তুলনাও করেছেন। এক ধাপ এগিয়ে কেউ কেউ টেনে আনছেন সারার দাদী শর্মিলা ঠাকুরের প্রসঙ্গও।

এরপর তেলেগু সিনেমা ‘টেম্পার’-এর রিমেক রোহিত শেঠির ‘সিম্বা’ সিনেমায় তাঁর বিপরীতে ছিলেন রণবীর সিং। ‘আঁখ মারে’ গান দিয়ে আলোচনার ঝড় তুলেছেন সারা। ছবিটিও হয়েছে সুপার হিট।

পুরোদস্তর সিনেমার পরিবার থেকে এসেছেন। তাঁর যাত্রাটা অন্য যে কারো চেয়ে সহজ ছিল। যদিও, সারার সংগ্রামটাও সে তুলনায় কম নয়। বাবা সাইফ আলী খান চেয়েছিলেন মেয়ে আমেরিকার নিউ ইয়র্কে স্থায়ী হোক, ভাল একটা চাকরি করুক। কিন্তু, সারা পরিবারের ধারাবাহিকতা মেনে চলে এসেছেন বলিউডে।

সারার ক্যারিয়ার শুরু হতে পারতো ‘ঠাগস অব হিন্দোস্তান’ দিয়ে। তিনি ফাতিমা সানা শেখের চরিত্রটির জন্য অডিশনও দিয়েছিলেন। তবে, সেবার ব্যাটে বলে হয়নি।

এমনকি ‘সিম্বা’র প্রাথমিক পরিকল্পনাতেও ছিলেন না সারা। রোহিত শেঠি ‘সিম্বা’ নির্মানের ঘোষণা দেন ২০১৭ সালে। রণবীর সিংয়ের একটা পোস্টারও বের হয়। তখন থেকেই অনেক জল্পনা-কল্পনা ছিল, কে হবেন এই সিনেমার নায়িকা? গণমাধ্যমে অনেকগুলো নাম শোনা গেলেও শেষ অবধি সিনেমাটিতে নেওয়া হয় সারা আলী খানকে। রোহিত শেঠি জানান, সারা নিজে থেকে এসে সিনেমাটি করার জন্য আগ্রহ প্রকাশ করেন!

বাবা সাইফ আলী খানের সাথে সারা হাজির হয়েছিলেন ‘কফি উইদ করন’ শো-তে। এই মৌসুমের অন্যতম আলোচিত এপিসোড ছিল বাবা-মেয়ের এই যুগলবন্দী। যেভাবে প্রশ্নগুলোর উত্তর দিয়েছেন, বিতর্কিত প্রশ্নের সামলা করেছেন, তাতে একটা কথাই বলা উচিৎ – বলিউডে এসেছেন নতুন তারকা, তাঁকে ছেড়ে দিতে হবে স্থান!

– টাইমস অব ইন্ডিয়া ও হিন্দুস্তান টাইমস অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।