আমি কখনো স্ক্রিপ্ট পড়ি না

শ্যুটিংয়ে আমাদের অনেক ব্যস্ত থাকতে হয়। এর মধ্যে এসে অনেকেই সেলফি তুলতে চায়। তাতে আপত্তি করি না। কিন্তু, যখন বলে, ‘স্যার, স্মাইল প্লিজ!’ খুব বিরক্ত লাগে। ছবি তোলার সময় হাসি তো এমনিই দিবো, বলার কি আছে।

একদম শৈশব থেকেই আমি একজন শিল্পী ছিলাম, শুধু এমন কাউকে দরকার ছিল যে আমার ভেতর থেকে কাজ বের করে নিতে পারবে। নয়টা থেকে ছয়টার চাকরি আমার জন্য না। এমনকি গান, কবিতা, লেখা বা ছবি আঁকাও পছন্দ ছিল না, কারণ এগুলোতে অনেক সময় লাগতো। আমি একটু অলস প্রকৃতির। তাই, অভিনয়টাই একমাত্র শিল্পী যাতে আমি নৈকট্য খুঁজে পেতাম। এটাকে শুধু ক্যারিয়ার হিসেবে দেখিনি আমি, ভেবেছি এটাই আমার চরিত্রের সাথে সবচেয়ে ভালভাবে যায়।

তাই, আমি এই পথেই এগোলাম।(দিল্লীর) ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামাতে ভর্তি হলাম, মুম্বাই এলাম। স্ট্রাগল শুরু হল, সেটা এখনো অব্যাহত আছে। আমি স্ট্রাগল করছি নিজেকে প্রমাণ করার জন্য, স্ট্রাগল করছি প্রচলিত ঘরানা থেকে সরে ভিন্ন কিছু করার জন্য।

আমি মূলত সিনেমাতেই অভিনয় করি। সিনেমা ব্যাপারটা আমার মধ্যে একদম গোরা থেকেই ছিল। ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা আমার পায়ের নিচের মাটি শক্ত করেছে। সেখান থেকে আমি অভিনয়ের ব্যাপারে পরিস্কার ধারণা পেয়েছি, ‍বুঝেছি কিভাবে সেটা করতে হয়।

দিল্লী আর মুম্বাইয়ের থিয়েটারের মধ্যে আকাশ-পাতাল পার্থক্য। মুম্বাই এখানে দিল্লীর চেয়ে অনেক বেশি পেশাদার ও বানিজ্যিক। দিল্লীর থিয়েটারকে আমার একটু অপরিপক্ক মনে হয়। ওখানে নিজেরাই গল্প লিখে নাটক করে, পরিচিত-অপরিচিতদের দেখতে আসার আমন্ত্রণ জানানো হয়।

অন্যদিকে মুম্বাইয়ের থিয়েটারে অনেক অর্থকড়ি বিনিয়োগ করা হয়। একেকটা নাটকের ২০০ টা করে শো হয় বানিজ্যিক থিয়েটারগুলোতে। হিন্দি থিয়েটার কখনোই বানিজ্যিক ছিল না, অথচ মুম্বাইয়ের থিয়েটারে যারা কাজ করে তারা যা আয় করে তা দিয়ে দিব্যি জীবন চলে যায়। দিল্লীর থিয়েটার শিল্পীদের জন্য থিয়েটারের আয় দিয়ে জীবন কাটানো সম্ভব নয়। এটাই দিল্লী আর মুম্বাইয়ের বড় পার্থক্য।

মঞ্চ আর পর্দায় কাজ করার মধ্যেও অনেক পার্থক্য। থিয়েটারের মঞ্চে কেবল আপনি আর আপনার অভিনয় থাকবে। অন্যদিকে পর্দায় লাইট, ক্যামেরাসহ অনেক কিছু থাকে। অনেকগুলো লেন্স দিয়ে আপনাকে দেখা হবে। কোথায় কিভাবে আপনি নিজের অভিনয়ের আবেগটা দেখাবেন সেটা আপনাকে বুঝতে হবে।

আমি কখনো স্ক্রিপ্ট পড়ি না। স্ক্রিপ্টরাইটাররা আমাকে চরিত্রের ব্যাপারে বলে, আমি সেই অনুযায়ী নিজেকে তৈরি করি। আমি পরিচালকদের কথা মন দিয়ে শুনি, তাঁদের নির্দেশ মানা শুরু করি। ধরেন, আমি কোনো অন্ধ ব্যক্তির চরিত্র করছি। আমাকে অন্ধদের দিয়ে নির্মিত কিছু সিনেমা আমাকে দেখতে বলা হল। কিন্তু, আমি সেই ছবিগুলো আদৌ দেখি না। দেখলে, আমি সেসব অনুকরণ করা শুরু করবো। আমি শুধু, পরিচালক যা বলে তা অনুসরণ করি, আর নিজেকে অন্ধ মানুষ ভাবতে শুরু করি।

অধিকাংশ মানুষ আমাকে ‘আন্ডাররেটেড’ অভিনেতা বলেন। আমি এর জন্য ঈশ্বরের কাছে কৃতজ্ঞ। যদি আমি ওভাররেটেড হতাম, তাহলে দ্রুতই ইন্ডাস্ট্রি থেকে আমার বিদায় হত। কারণ, তখন চারপাশে আমার প্রশংসা হত, আর সেটা আমার জন্য সমস্যার সৃষ্টি করতো। আমি রাতারাতি তারকা হতে চাইনি। আমি দিনরাত এক করে সাফল্যের সিঁড়ি বেয়ে উঠছি, তবে জানি না আমি এখনো সফল কি না।

_______________

সঞ্জয় মিশ্র একজন সুপরিচিত অভিনেতা। লম্বা সময়ের চড়াই-উৎড়াইয়ের পর তিনি নিজেকে ইন্ডাস্ট্রিতে প্রমাণ করেছেন। ‘গোলমাল’ কিংবা ‘ফাস গায়া রে ওবামা’র মত ছবিতে পার্শ্ব-অভিনেতা হিসেবে প্রশংসা কুড়িয়েছেন। আবার ‘আঁখো দেখি’, ‘আঙরেজি মেয় ক্যাহতে হ্যায়’ কিংবা ‘কামিয়াব’-এর মত ছবিগুলো একাই টেনে নিয়ে গেছেন।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।