কে এই সাকসেস কিড?

স্যোশাল মিডিয়ার সৌজন্যে এই ক্ষুদে শিশুটির সাথে আমরা কমবেশি সবাই পরিচিত। তার এই ছবিটিকে ঘিরে অসংখ্য ট্রল, মিম নির্মিত হয়েছে, হচ্ছে এবং হবে। তবে, অনেকেই এই ‘সাকসেস কিড’-এর আসল পরিচয় জানেন না।

এই শিশুটির নাম স্যামি গ্রিনার। বসবাস ফ্লোরিডার জ্যাকসনভিলে। বয়স যখন মাত্র ১১ মাস তখন মা ল্যানি রবার্টসন গ্রিনার ছবি শেয়ারিং ওয়েবসাইট ফ্লিকারে স্যামির বিখ্যাত এই ছবিটা পোস্ট করেন। সেটা ২০০৭ সালের ঘটনা।

২০১০ সালে ছবিটা ইন্টারনেট ব্যবহারকারীদের সৌজন্যে ভাইরাল হয়ে যায়। সে থেকে শুরু করে আজ অবধি ছবিটির আবেদন এক বিন্দুও কমেনি।

বাবা-মার সাথে স্যামি

ডিজিটাল স্পাইকে স্যামির মা ল্যানি সেই ছবি তোলার গল্পটা বলেন, ‘আমি সৈকত থেকে বাড়ি ফিরে ছবিগুলো ঘাটছিলাম। এই ছবিটা খুব ভাল লেগে যায় তখনই। ওতটুকু বাচ্চা কি দারুণ একটা পোজ দিয়েছে। এটা খুব কাকতালীয় ভাবে তুলে ফেলা একটা ছবি ছিল।’

যদিও, এই ছবিটা ঘিরে যে পরিমান ট্রল হয় স্যোশাল মিডিয়ায়, তাতে শুরুতে কিছুটা বিরক্ত ছিলে ল্যানি। তিনি এটাকে ‘ব্যক্তিগত নিরাপত্তা’র লঙ্ঘন হিসেবে দেখতেন।

তিনি বলেন, ‘যথন প্রথম ছবিটা ভাইরাল হতে দেখি তখন মোটেই আমি আনন্দিত হইনি। স্যামিতো এখনও ছোট। ওরও তো একটা প্রাইভেসি আছে। তখন আমি ‘মিম’ ব্যাপারটা বুঝতাম না। ২০০৯ সালের দিকে ব্যাপারটা বুঝতে শুরু করি। এখন আমার ভাবনাটা একটু বদলেছে।

এখন স্যামির বয়স ১২ বছর।

যদিও, ছবিটা ভাইরাল হওয়ায় যথেষ্ট উপকারও হয়েছে স্যামির পরিবারে। ওর বাবা জাস্টিন গ্রিনারের কিডনির অসুখ ছিল। ডাক্তার বলেছিল, বাঁচাতে হলে কিডনি ট্রান্সপ্লান্ট করানোর কোনো বিকল্প নেই। তখন ছবিটা ব্যবহার করে গোফান্ডমি নামের একটি পেজ তহবিল সংগ্রহে মাঠে নামে।

এর ফলে বিশ্বজুরে মানুষ প্রায় এক লাখ ডলার ডোনেট করে। সেই অর্থ কাজে লাগিয়ে ২০১৫ সালে অস্ত্রপচার করা হয় জাস্টিনের। এখন তিনি দিব্যি স্বাভাবিক জীবন যাপন করছেন।

ভাবাই যায় না, সামান্য একটা ছবি ভাইরাল হয়ে কতটাই না বদলে যেতে পারে একটি পরিবারের জীবন!

বাবা জাস্টিনের সাথে স্যামি

স্যামির বয়স এখন ১২ বছর। এক ছবি ভাইরাল হওয়ার সুবাদে আমেরিকায় সে বেশ পরিচিত মুখ। চাইলে আপনিও স্যামির নিয়মিত আপডেট পেতে পারেন। এর জন্য ফেসবুকে ফলো করতে হবে ‘Sam Griner, Success Kid’ নামের পেজটি।

– ডেইলি মেইল, এন্টারটেলস ও হ্যালো ম্যাগাজিন অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।