স্যালুট, সাকিব অ্যান্ড কোম্পানি

ক্রিকেটারদের ১১ দফা দাবি দেখলে একটা উল্লেখযোগ্য ব্যাপার চোখে পড়বে-শীর্ষ ক্রিকেটারদের প্রত্যক্ষ লাভ আছে, এমন দাবি এখানে মাত্র একটা। যে দাবিতে তারা বলেছেন, বিপিএলে আগামীবার থেকে যেনো অন্তত আগের চেহারায় ফিরে যায়।

এ ছাড়া বাকি সব দাবি আসলে একটা টেস্ট খেলুড়ে দেশের মৌলিক শর্ত থাকা উচিত ছিলো। তারা কোচ, আম্পায়ার, গ্রাউন্ডসম্যান, প্রথম শ্রেনীর ক্রিকেটারদের বেতন বাড়াতে বলেছেন। তারা প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় বিভাগের ক্রিকেটকে স্বচ্ছ ও প্রতিদ্বন্ধীতামূলক করতে বলেছেন। তারা ঘরোয়া ক্যালেন্ডার ঠিক করতে বলেছেন।

তারা ঘরোয়া টি-টোয়েন্টি ও ওয়ানডে টুর্নামেন্ট বাড়াতে বলেছেন। আর্ন্তজাতিক মানের বল চেয়েছেন ঘরোয়া ক্রিকেটে। তারা চেয়েছেন প্রথম শ্রেনীর টুর্নামেন্টে ভদ্রস্থ অনুশীলন ও যাতায়াতের সুবিধা। তারা চেয়েছেন প্রথম শ্রেনীর দলগুলো যেনো সারা বছর কোচ, ফিজিও, জিমনেসিয়াম পায়।

আচ্ছা, বলেন তো, এসব কী দাবি জানানোর বিষয়?

যে ক্রিকেট বোর্ডের কোষাগারে কোটি কোটি টাকা, আক্ষরিক অর্থেই কয়েক শ কোটি টাকা আছে; তাদের কাছে এসব দাবি জানাতে হবে কেনো! এগুলো তো এমনিতেই হয়ে যাওয়ার কথা।
হয় না।

অবশেষে দেশের ক্রিকেট কাঠামো শুধরানোর জন্য আমাদের ক্রিকেটারদের মাঠে নামা লাগলো। এটা একই সাথে আমাদের জন্য গৌরবের ব্যাপার ও লজ্জার ব্যাপার।

লজ্জার ব্যাপার এই জন্য যে, টেস্ট অঙ্গনে ২০ বছর প্রায় পার করে ফেলার পর আমাদের এসব দাবি জানাতে হয়। আর গৌরবের ব্যাপার এই কারণে যে, কোটি কোটি টাকা আয় করেও সাকিব-তামিম-মুশফিক-রিয়াদরা শেকড় ভোলেননি। তারা তাদের আয়ের নিচে পড়ে থাকা সতীর্থদের জন্য নিজেদের ক্যারিয়ার আজ বাজি ধরেছেন।

স্যালুট, সাকিব ও তার সহযোদ্ধাদের।

আপনাদের দাবির সাথে একাত্মতা ঘোষনা করলাম।

– ফেসবুক ওয়াল থেকে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।