সালমানের সুদিন, সালমানের দুর্দিন

চলচ্চিত্র সমালোচক তারাণ আদর্শ বলেছেন ‘হতাশাজনক’। দুর্বল স্টোরি লাইন ও ছেলেমানুষি ডায়লোগের কারণে দর্শকরাও ‘রেস ৩’ সিনেমাটির ওপর কমবেশি নাখোশ।  বক্স অফিস অবশ্য বলছে ভিন্ন কথা। এক সপ্তাহ পার হওয়ার আগেই ১৩০ কোটির রুপি আয় করে বসেছে রেমো ডি’সৌজার এই ছবি।

আর এরই সাথে অনন্য এক মাইলফলকও ছুঁয়ে ফেললেন সালমান খান। ভাইজানের এটা টানা ১৩ তম সিনেমা হিসেবে ১০০ কোটির বেশি আয় করলো, সেটাও আবার মাত্র নয় বছর সময়ে। ২০১০ সালে দাবাং মুক্তির সময় থেকে শুরু হয় এই যাত্রা। এরপর একেএকে রেডি, বডিগার্ড, এক থা টাইগার, দাবাং ২, জ্যায় হো, কিক, বাজরাঙ্গি ভাইজান, প্রেম রাতান ধান পায়ো, সুলতান, টিউবলাইট ও টাইগার জিন্দা হ্যায় – সবগুলোই পৌঁছে যায় ১০০ কোটির ক্লাবে।

গঅনাগত বছরগুলোতে সালমান খানের এই রেকর্ড অব্যহত থাকলেও অবাক হওয়ার কিছু নেই। সালমান খানের আগামী সিনেমা আলী আব্বাস জাফরের ‘ভারত’, যেখানে আরো আছেন প্রিয়াঙ্কা চোপড়া, সুনিল গ্রোভার, দিশা পাতানিরা।

টানা সর্বোচ্চ সংখ্যক সিনেমায় ১০০ কোটির ঘরে নাম লেখানোর দিক থেকে বাকি দুই খান কিংবা, কুমার-রোশনদের চেয়ে অনেক এগিয়ে আছেন সালমান খান। সামান্য একটু পরিসংখ্যান ঘাটলেই এই বিষয়টা পরিস্কার হবে।

১০০ কোটির ক্লাব

  • শাহরুখ খান ( চার বছরে ছয় সিনেমা): রা ওয়ান, ডন ২, জাব তাক হ্যায় জান, চেন্নাই এক্সপ্রেস, হ্যাপি নিউ ইয়ার ও দিলওয়ালে (ফ্যান দিয়ে শেষ)।
  • অক্ষয় কুমার ( দুই বছর পাঁচ সিনেমা): এয়ারলিফট, হাউজফুল ৩, রুস্তম, জলি এলএলবি ২ ও টয়লেট: এক প্রেম কাঁথা (প্যাডম্যান দিয়ে শেষ)।
  • আমির খান (তিন বছরে তিন সিনেমা): ধুম ৩, পিকে ও দাঙ্গাল
  • হৃতিক রোশন (তিন বছরে তিন সিনেমা): অগ্নিপথ, কৃশ ৩ ও ব্যাঙ ব্যাঙ (মোহেঞ্জো দারো দিয়ে শেষ)।

এসব পরিসংখ্যান দেখে অবশ্যই চোখ বন্ধ করে বলে দেওয়া যায় যে, এখন চলছে সালমানের সুদিন। কারণ, রেস ৩ যতই ভাল ব্যবসা করুক না কেন, দর্শক ও সমালোচকদের কাছে ইমেজ নষ্ট হয়েছে সালমান খানের।

একটি সিনেমা দিয়ে সমালোচক ও সাধারণ দর্শক – সবাইকে সন্তুষ্ট করা কঠিন। তবে, যখন কোনো শ্রেণিই পুরোপুরি সন্তুষ্ট হয় না, তখন বুঝে নিতে হয় কোনো সমস্যা আছে। রেস ৩-এও তাই ঘরেছে। দর্শকরা এখানে প্রতারিত হয়েছে। গড়পরতা সাদামাটা মানের একটা গল্প, সাথে বেমানান কাস্টিং, এর সাথে সিনেমার টুইস্টগুলোও খুব অবাস্তব আর প্রেডিক্টেবল। অপ্রয়োজনীয় অ্যাকশন, অর্থহীন ডায়লোগ সিনেমাটিকে আরো বিরক্তিকর আর লম্বা করে তুলেছে।

এই সিনেমাটি তাঁর গান দিয়েও ‍উৎরে যেতে পারেনি। কোনো গানই লম্বা সময়ের জন্য দর্শকদের মনে গেঁথে থাকার মত নয়।  সামনের দিন গুলোতে সালমানকে তাঁর রেকর্ড ধরে রাখতে হলে ভাল গল্পের অর্থবহ সিনেমা করার দিকেও মন দিতে হবে। এই ইন্ডাস্ট্রির সাথে যেমন তাঁর ক্যারিয়ার জড়িয়ে আছে, তেমনি দর্শক-ভক্তদের সময়, অর্থ ও আবেগ – সবই মিশে আছে।

– বলিউড হাঙ্গামা ও কইমই অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।