সবাইকে সব কিছুতে মানায় না

তিনি চেষ্টা করেননি, সেটা তার শত্রুও বলবে না। চিত্রনাট্যের জন্য দর্শক মুখ ফিরিয়ে নিয়েছে, এটা যেমন সত্য, তেমনি সব ঠিক থাকা সত্ত্বেও সেই দর্শকেরাই ‘ফ্যান’ গ্রহণ করেনি, এই ব্যর্থতার দায়ভার তাকে পুরো দেওয়া যায় না। সর্বশেষ ছবিতেও তার অভিনয় নিয়ে অন্তত: দর্শকদের কোনো অসন্তুষ্টি ছিল না। রোম্যান্টিক ইমেজের তকমা গায়ে সেঁটে যাওয়াতে যে পক্ষান্তরে তার ক্ষতিই হয়েছে, এটা তার শুভাকাঙ্খীরা, বিশেষজ্ঞরাও অস্বীকার করেন না।

এরপরও তিনি নেতিবাচক চরিত্রে বেশ কিছু কালজয়ী পারফর্মেন্স উপহার দিয়েছেন। যার মধ্যে ‘ডন’ উল্লেখযোগ্য। শাহরুখের শক্তিশালী কণ্ঠ, সংলাপ প্রদানের ক্যারিশম্যাটিক দক্ষতা সর্বোপরি পুরো চরিত্রের মাঝে সম্পূর্ণভাবে মিশে যাওয়া – এখানে প্রকৃত অর্থেই শাহরুখ ব্যতীত অন্য কাউকে কল্পনা করাটাই দুঃস্বপ্নের মতো।

ফ্র্যাঞ্চাইজভিত্তিক থ্রিলার ছবিগুলো একভাবে দেখতে গেলে অনন্য। দুর্দান্ত কাহিনীর সাথে এমন এক চরিত্র এখানে সৃষ্টি করা হয়, যা একপ্রকার ইতিহাস তৈরি করে থাকে সেই চরিত্রের অভিনেতার জন্য। দর্শকও মানসিকভাবে প্রস্তুতি নিয়ে থাকে সেই অভিনেতার পারফর্মেন্স দেখার জন্য। এবার যখন কাস্ট পরিবর্তন করা হয়, তখন দুটো বিষয় ঘটে। হয়তো আগের চাইতে বেটার হয়, আর নয়তো ডিজাস্টার হয়।

সাম্প্রতিক উদাহরণই এর জ্বলন্ত প্রমাণ। ‘রেস ৩’ ছবিতে সালমান যা উপহার দিয়েছেন, সেটা আসলে অন্ধ ভক্ত ছাড়া হজম হয়নি কারও। এটা মানতেই হবে, সাইফ এমন একজন অভিনেতা, যাকে বক্স অফিস দিয়ে বিচার করতে যাওয়াটা মস্ত বড় ভুল। রেসে সাইফ যে বেঞ্চমার্ক সেট করে গেছেন, সেটা বিট করা এত সহজ কাজ নয়।

সালমান তার স্টারডম দিয়েও সেটা করতে পারেননি। চরমভাবে ব্যর্থই হয়েছেন। তবে তার বিশাল এক ভক্তবাহিনী আছে যারা ভাইজানকে বেইজ্জতি থেকে প্রতিবার বাঁচায়। এক্ষেত্রেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। তাই তো এখন বলা হয়, সালমানের ফ্লপ ছবির কালেকশন সাইফের হিট ছবির চাইতেও বেশি। অথচ বাস্তবতা এটাই যে ‘রেস ৩’ আবর্জনা ছাড়া কিছুই নয়।

একইভাবে, ‘টাইগার’ চরিত্রে সালমান ছাড়া কাউকে ভাবাটাও বোকামী। যাই হোক, শাহরুখের পরিকল্পনা কি, সেটা সেই জানে। তবে চলচ্চিত্র ‘ডিরেক্টর’স মিডিয়াম’ হওয়া সত্ত্বেও ‘টেম্পার’ কে ছেলেখেলা করার জন্য রণবীর সিং-রোহিত শেঠিকে ক্ষমা করা অসম্ভব। রোহিতকেও তিরস্কার। ‘ডন’ চরিত্রের কণ্ঠের আলাদা কারুকার্য আছে।

সংগ্রাম ভালেরাও সিম্বা

‘ডন কো পাকাড়না মুশকিল হি নেহি, না মুমকিন হ্যায়’ – এই সংলাপ শাহরুখ যে ভাবে-আবেগের সাথে বলেন, সেটা রণবীরের পক্ষে সম্ভব নয়। অবশ্য, জোকার টাইপের লাফাঙ্গা চরিত্রে যদিও খুব ভালো মানিয়ে যান তিনি, সেটার প্রমাণ সিমবা। আর যারা ‘খিলজি’ দিয়ে ডনের জন্য রনবীরের কাস্টকে জাস্টিফাই করছেন, তাঁদের জন্য সমবেদনা।

সব চরিত্র সবার জন্য নয়। রেসে যখন সালমানকে নেওয়া হয়েছিল, কতিপয় অন্ধ ভক্তগণ সেটাকেও জাস্টিফাই করেছিল। বাকীটা ইতিহাস!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।