সালমানের এই ছবিগুলো আদৌ মুক্তি পায়নি!

বলিউডে স্টারডমের সর্বোৎকৃষ্ট উদাহরণ হলেন সালমান খান। অগণিত বিতর্কের পরও বর্তমান বলিউডের কোনো অভিনয়শিল্পীই তাঁর মত কেউই এত ভালবাসা দর্শকদের থেকে পাননি। বলিউডে এখন পর্যন্ত কোন অভিনেতা আসেননি যিনি কি না এই মেগাস্টারের জায়গাটি নিতে পারবেন। আর কোনো তারকার সিনেমাই তাঁর মত করে সহজেই ১০০ কোটির বেশি ব্যবসা করতে পারে না।

তবে, অসংখ্য বড় প্রজেক্টে যুক্ত থাকলেও সালমানের সাইন করা বহু চলচ্চিত্রই প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পায়নি। তেমন কিছু চলচ্চিত্র নিয়েই আমাদের আজকের আয়োজন।

  • রণক্ষেত্র

‘ম্যায়নে পিয়ার কিয়া’ চলচ্চিত্রে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায় সালমান খান-ভাগ্যশ্রী জুটি। তাঁরা ‘রণক্ষেত্র’ চলচ্চিত্রের জন্য চুক্তিবদ্ধ হন। কিন্তু,ভাগ্যশ্রী বিয়ের পিঁড়িতে বসলে এই চলচ্চিত্রের কাজ অঙ্কুরেই বিনষ্ট হয়ে যায়। চলচ্চিত্রটির স্ক্রিপ্ট ফাইলবন্দী হয়ে যায় চিরদিনের জন্য।

  • দিল হ্যায় তুমহারা

১৯৯১ সালের এই চলচ্চিত্রে কাজ করার কথা ছিল সালমান খান, সানি দেওল আর মীনাক্ষী শেষাদ্রীর। পরিচালক রাজকুমার সন্তোষীর চলচ্চিত্রটি প্রেক্ষাগৃহের মুখ দেখতে পারেনি। চলচ্চিত্রটির কাজ শুরুর কয়েকদিন পর রাজকুমার সন্তোষী শেখর কাপুরের পরিবর্তে ববি দেওল অভিনীত ‘বারসাত’ চলচ্চিত্রের পরিচালক হিসেবে চুক্তিবদ্ধ হন। আজীবনের জন্য থেমে যায় ‘দিল হ্যায় তুমহারা’র কাজ।

  • ঘেরাও

‘লস্ট প্রোজেক্ট’ ‘দিল হ্যায় তুমহারা’র পর আবার তিনি পরিচালক রাজকুমার সন্তোষীর ‘ঘেরাও’ চলচ্চিত্রে চুক্তিবদ্ধ হন সালমান। কিন্তু, চলচ্চিত্রটির কাজ মহরতের পর আর এগোয়নি। সালমানের বিপরীতে অভিনয় করা ছিল মনীষা কৈরালার।

  • আয়ে মেরে দোস্ত

চলচ্চিত্রটির জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন সালমান খান, কারিশমা কাপুর, আরবাজ খান ও দিব্যা ভারতী। চলচ্চিত্রটির কাজ শুরু হয়েছিল একটি গান রেকর্ডিং-এর মাধ্যমে। কিন্তু, তারপর আর এগোয়নি চলচ্চিত্রটির কাজ। সেই গানটি পরবর্তীতে ১৯৯৬ সালে সালমান খানের ‘মাঝদার’ চলচ্চিত্রে ব্যবহৃত হয়। ‘মাঝদার’ চলচ্চিত্রে সালমান খানের বিপরীতে মনীষা কৈরালা অভিনয় করেন।

  • বুলান্দ

চলচ্চিত্রটির অর্ধেকের বেশি কাজ সম্পন্ন হবার পরও অজ্ঞাত কারণে মুক্তি দেওয়া হয়নি। চলচ্চিত্রটিতে সালমান খানের বিপরীতে ছিলেন তার তৎকালীন প্রেমিকা শোমি আলী।

  • রাম

১৯৯৪ সালের চলচ্চিত্রটি পরিচালক সোহেল খানের প্রথম চলচ্চিত্র হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু, অর্ধেক শ্যুটিং শেষ হবার পর দেখা গেল, চলচ্চিত্রটি শেষ করতে বাজেটের থেকে বেশি অর্থ লাগবে। অগত্যা, থেমে যায় কাজ। পরবর্তীতে আর আলোর মুখ দেখেনি এই সিনেমা। এই চলচ্চিত্রে কাজ করেছিলেন সালমান খান, অনিল কাপুর ও পূজা ভাট।

  • চোরি মেরা নাম

চলচ্চিত্রটি সেই সময়ে সৃষ্টি করেছিল ব্যাপক ক্রেজ। চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করেছিলেন সালমান খান, সুনীল শেঠি, কাজল, শিল্পা শেঠির মত তারকারা। প্রায় অর্ধেক কাজ সম্পন্ন হবার পর অজ্ঞাত কারণে থেমে যায় চলচ্চিত্রটিফ কাজ। তবে চলচ্চিত্রটির একটি স্টান্ট পরবর্তীতে থাম্বস আপ-এর বিজ্ঞাপনে ব্যবহৃত হয়।

  • দাস

শ্যুটিং চলাকালেই পরিচালক মুকুল এস আনান্দ মারা গেলে চলচ্চিত্রটির কাজ থেমে যায়। চলচ্চিত্রটির সাথে যুক্ত ছিলেন সালমান খান, সঞ্জয় দত্ত, রাভিনা ট্যান্ডন ও শিল্পা শেঠি। চলচ্চিত্রটি মুক্তি না পেলেও চলচ্চিত্রটির সাউন্ডট্র্যাক মুক্তি পায় ১৯৯৯ সালে। ইউটিউবেও সিনেমার অংশ বিশেষ পাওয়া যায়।

  • রাজু রাজা রাম

খ্যাতনামা পরিচালক ডেভিড ধাওয়ানের এই চলচ্চিত্রের জন্য চুক্তিবদ্ধ হয়েছিলেন সালমান খান, গোবিন্দ ও জ্যাকি শ্রফ। কিন্তু,প্রোডাকশন কোম্পানি আর্থিক সমস্যায় পড়লে থেমে যায় চলচ্চিত্রটির কাজ।

  • আঁখ মিছোলি

‘জুড়ুয়া’র পর সালমান খান ১৯৯৭ সালে আনিস বাজমির ‘আঁখ মিছোলি’তে চুক্তিবদ্ধ হন। এই সিনেমায়ও সালমান খানের ডাবল রোল ছিল। কিন্তু, জুড়ুয়ার পর আরেকটি ডাবল রোলের ফিল্ম করা নিয়ে সাল্লুর মনে খুঁতখুঁতানির সৃষ্টি হলে তিনি চলচ্চিত্রটির কাজ ছেড়ে দেন।

  • জালওয়া

সঞ্জয় দত্ত, আরমান কোহলি ও সালমান খানকে অ্যাকশনধর্মী এই চলচ্চিত্রে কাজ করার জন্য চুক্তিবদ্ধ করলেও পরিচালক কেতন ধাওয়ান প্রোজেক্ট থেকে সরে আসেন ও এর পরিবর্তে একটি পারিবারিক ছবি বানানোর সিদ্ধান্ত নেন।

  • সাগার সে গ্যাহরা হ্যায়

চলচ্চিত্রটিতে রাভিনা ট্যান্ডন ও সালমান খানের অভিনয় করার কথা থাকলেও এর কাজ ঘোষণা দেওয়া পর্যন্ত সীমাবদ্ধ ছিল।

  • হ্যান্ডসাম

সালমান খান, সঙ্গীতা বিজলানি ও নাগমার এই চলচ্চিত্রটিতে কাজ করার কথা ছিল। তবে, ঘোষণা দেওয়ার পর আর কাজ এগোয়নি।

  • নো এন্ট্রি মে এন্ট্রি

আনিস বাজমি’র ‘নো এন্ট্রি’র ব্যবসায়িক সাফল্য দেখে এর সিক্যুয়েল বানানোর সিদ্ধান্ত নেন। চলচ্চিত্রটির স্ক্রিপ্ট তৈরিই ছিল। ভাইজানকে ডাবল রোলে দেখা যাবে বলে খবর বেরিয়েছিল। কিন্তু,অনেক বছর পেরিয়ে যাবার পরও চলচ্চিত্রটির কাজ এরপর আর এগোয়নি।

দেশিমার্টিনি অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।