সালমান ‘সবচেয়ে লাভজনক’ খান

সালমান খান এই মুহূর্তে বলিউডের সবচেয়ে ‘লাভজনক’ তারকাদের একজন। সুরাজ বারজাতিয়ার ‘ম্যায়নে প্যায়ার কিয়া’ – ক্যারিয়ারের শুরুর দিকের এই সিনেমাটি এখনো তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় হিট সিনেমাগুলোর একটি।

একই পরিচালকের সাথে তাঁর করা ‘হাম আপকে হ্যায় কওন’ সিনেমাটা ভারতের সর্বকালের অন্যতম ব্লকবাস্টার হিসেবে হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। মাধুরী দিক্ষিতের সাথে সিনেমাটি সালমানকে খ্যাতির চূড়ায় নিযে যায়।

নব্বই-এর দশকে সালমানের ব্যবসাসফল অন্য সিনেমাগুলো হল ‘বাঘি’, ‘সাজান’, ‘করণ অর্জুন’, ‘জিত’, ‘জুড়ুয়া’, ‘বিবি নম্বর ওয়ান’, ‘হাম দিল দে চুকে সানাম’ ও ‘প্যায়ার কিয়া তো ডারনা ক্যায়া’।

এরপর থেকে সালমান খানের বাজে সময় শুরু হয়। পরের পাঁচ বছরে সালমানের হিট সিনেমা ছিল মোটে দুটি – ‘বাগবান’ (অতিথি চরিত্র) ও মাল্টি স্টারার ‘মুঝসে শাদি কারোগি’। যদিও তেরে নাম ও গার্ভ কম বেশি ব্যবসা করেছিল।

২০০৫ থেকে ২০০৯ সাল অবধি সালমান খান অম্লমধুর সময় কাটান। এই সময়ে যেমন ‘পার্টনার’ ও ‘নো এন্ট্রি’র মত সিনেমাগুলো দিয়ে বক্স অফিসে অসামান্য সাফল্য আসে তেমনি ‘জান-ই-মান’, ‘বাবুল’, ‘সালাম-ই-ইশক’. ‘যুবরাজ’ ও ‘ম্যারিগোল্ড’-এর মত সিনেমাগুলো বক্স অফিসে দিশা হারিয়ে ফেলে।

এরপর ২০০৯ সালে আসে সালমানের ক্যারিয়ারের টার্নিং পয়েন্ট। প্রভু দেবার পরিচালনা ও বনি কাপুরের প্রযোজনায় সালমান খান ‘ওয়ান্টেড’ সিনেমাটি করে ফিরে পান নিজের হারানো সিংহাসন। সিঙ্গেল স্ক্রিনে নিজের পুরনো দিনের দাপট ফিরে পান ভাইজান। এরপর থেকে সিনেমার ব্যাপারে সালমান খুব খুঁতখুতে। স্রেফ খাতিরের সম্পর্কের জন্য কোনো সিনেমা তিনি আর সাইন করেন না। সিঙ্গেল স্ক্রিন আর মাল্টিপ্লেক্স – দু’ধরণের দর্শকদের জন্যেই মানানসই এমন সিনেমা করেন।

২০১০ সালে মুক্তি পায় দাবাঙ। এই সিনেমাটি বক্স অফিসের সম্ভাব্য সব রেকর্ড ভেঙে দেয় – প্রথম দিনের সর্বোচ্চ যায়, উইকেন্ডের সর্বোচ্চ আয় করে সিনেমাটি। এমনকি থ্রি ইডিয়টসের এক সপ্তাহে সর্বোচ্চ আয় করার রেকর্ডও ভেঙে ফেলে।

এরপর ‘রেডি’ সিনেমাটি ‘নন-হলিডে রিলিজ’ হিসেবে বলিউডের সর্বকালের সবচেয়ে বেশি আয় করা সিনেমায় পরিণত হয়। এরপর ‘বডিগার্ড’ এসে ভেঙে দেয় দাবাঙের সব রেকর্ড। ২০১২ ‘এক থা  টাইগার’ প্রায় ২০০ কোটি রুপির ঘরে নাম লিখিয়ে ফেলে।

এক থা টাইগার হল সালমানের একদিনে সবচেয়ে বেশি আয় করা সিনেমা (৩২.৯২ কোটি রুপি)। প্রথম দিনেও এই আয় ছিল সালমানের ক্যারিয়ার সেরা। প্রথম সপ্তাহেই আয় করে ১৩৭ কোটি রুপি। এটাও সালমানের জন্য ছিল নতুন এক মাইলফলক।

টাইগার জিন্দা হ্যায় সিনেমায় সালমান খান।

একই বছরের ‘দাবাঙ ২’ আবারো ব্লকবাস্টার। বছর দেড়েকের বিরতি দিয়ে ২০১৪ সালে মুক্তি পায় সালমানের ‘জ্যায় হো’। সিনেমাটি ছিল সেমি হিট। ২০১৫ সালে আসে ‘বাজরাঙ্গি ভাইজান’। আবারো সালমানের কোনো সিনেমা জায়গা করে নেয় বলিউডের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি আয় করা সিনেমার তালিকায়।

২০১৫’র নভেম্বর থেকে ২০১৭-এর শেষ পর্যন্ত মুক্তি পেয়েছে সাল্লু ভাই অভিনীত চারটি সিনেমা। এর মধ্যে কোনোটাই ফ্লপ হয়নি। ২০১৭ সালের ‘টিউবলাইট’ কেবল বিলো অ্যাভারেজের তকমা পেয়েছে।  এর বাদে ‘প্রেম রাতান ধান পায়ো’ হিট, ‘সুলতান’ ও ‘টাইগার জিন্দা হ্যায়’ ব্লকবাস্টার। সুলতান ৩০০-কোটির ওপর ও টাইগার জিন্দা হ্যায় প্রায় সাড়ে ৩০০ কোটি রুপি আয় করে।

২০১৮ সাল থেকে সালমানের অবস্থার একটু অবনতি হয়েছে। তখন থেকে শুরু করে তিনটা ছবি মুক্তি পেয়েছে। এর মধ্যে ২০১৮ সালের ‘রেস থ্রি’ অ্যাভারেজ তকমা পেয়েছে। আর ২০১৯ সালের ‘ভারত’ সেমি হিট আর ‘দাবাঙ থ্রি’ ফ্লপ হয়। এর মধ্যে ‘রেস থ্রি’  ১৬৬ কোটি, ভারত প্রায় ২০০ কোটি রুপি আর ‘দাবাঙ থ্রি’ ১৩৪ কোটি রুপি আয় করে।

সব মিলিয়ে সালমানের ক্যারিয়ারে ব্যবসা সফল সিনেমার সংখ্যা ৩৬ টি। এই পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে, তিনি হলেন বলিউডের ডমেস্টিক বক্স অফিসের মুকুটহীন সম্রাট।

এক নজরে সালমান খানের বক্স অফিস রিপোর্ট

  • ডিজাস্টার – ৩
  • ফ্লপ – ৩০
  • বিলো অ্যাভারেজ – ৪
  • অ্যাভারেজ – ৪
  • সেমি হিট – ৩
  • হিট – ১০
  • সুপার হিট – ৪
  • ব্লকবাস্টার – ৬
  • অল টাই ব্লকবাস্টার – ৫

তথ্যসূত্র: বক্স অফিস ইন্ডিয়া 

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।