সঞ্জয়-সালমান: সিনেমার গল্পকে হার মানানো জুটি

বখাটে স্টারকিড কিংবা খ্যাতিমান তারকা – সঞ্জয় দত্তকে চাইলে অনেক নামেই ডাকা যায়। যতটা আলোচিত তিনি, ততটা বিতর্কিতও। আর ঠিক এমন ভাবে আলোচিত সালমান খানের সাথে তার সম্পর্কও।

‘সাজান’ কিংবা ‘চাল মেরে ভাই’ সিনেমায় এই দুই ‘ব্যাড বয়’-এর রসায়ন এতটাই জনপ্রিয় হয়ে ওঠে যে, অনেক সময়ই সেটা ছাপিয়ে যায় নায়ক-নায়িকা জুটিকেও। পেশাদার সম্পর্কের বাইরেও এই দুই তারকার মধ্যে বেশ দারুণ বোঝা পড়া ছিল। একে অন্যের সাফল্য যেমন উদযাপন করতেন তেমনি দু:সময়ে দাঁড়াতেন পাশে এসে।

তবে, সেই সম্পর্কে এখন ভাঁটা পড়েছে। দু’জনের মধ্যে মুখ দেখাদেখি বন্ধ। পত্রপত্রিকায় এই নিয়ে বিস্তর লেখালিখিও হয়েছে। বন্ধুত্ব ভেঙে যাওয়ার কারণ কি? সঞ্জয় দত্ত নয়া দিল্লীতে এক অনুষ্ঠানে গিয়ে ‘ওয়ার্ড অ্যাসোসিয়েশন’ নামক একটা খেলা খেলেছিলেন। সেখানে সালমানের খানের প্রসঙ্গে এক কথায় তাঁকে ‘অহংকারী’ বলেছিলেন।

বিষয়টা সালমান খান সহজ ভাবে নেননি। এর সাথে ট্যাবলয়েড আর গণমাধ্যমের মুখরোচক খবর তো আছেই। তবে, তখনও দু’জনের সম্পর্ক এতটাও ঘোলাটে হয়নি, ঘোলাটে হয় ২০১১ সালে এসে।

সঞ্জয় দত্ত সব সময় সালমান খানকে ছোট ভাইয়ের চোখে দেখতেন। নিজের বাড়িতে দাওয়াত দিয়েছিলেন স্ত্রী মান্যতা দত্তর জন্মদিনে। সালমান নিমন্ত্রণে রক্ষা করতে এসে নিজের চূড়ান্ত রূপ দেখিয়ে যান। সঞ্জয়ের প্রিয় বন্ধু বান্টি ওয়ালিয়া তো বটেই, সালমান বাজে ব্যবহার করেন মান্যতার সাথেও। সঞ্জয়ও স্বাভাবিক ভাবেই তখন ক্ষেপে যান।

সালমান খান পরবর্তীতে ‘কিক’ সিনেমায় সঞ্জয় দত্তকে নিজের বাবার চরিত্রে কাজ করার প্রস্তাব দেন। সঞ্জয় খুব নম্রতার সাথে প্রস্তাব ফিরিয়ে দিয়ে বলেন, ‘আমি এখনো এতটা বুড়ো হইনি।’ তবে, ভেতরে ভেতরে এই ঘটনায় দু’জনই ক্ষেপেছিলেন।

১৯৯৩ সালের মুম্বাই বোম ব্লাস্টে ব্যবহৃত অস্ত্র বেআইনি ভাবে নিজের কাছে রাখায় হাজতবাস বরণ করতে হয় সঞ্জয় দত্তকে। তখন সালমান খান বলেছিলেন, সঞ্জয় ছাড়া পাওয়ার আগ পর্যন্ত তিনি কোনো পার্টি করবেন না।

তখন সালমানের ম্যানেজার ছিলেন রেশমা শেঠি। প্যারোলের ৩০ দিন সঞ্জয়ে জন্য কাজ করা যাতে সহজ হয় তাই, সালমানই সঞ্জয়কে বলেছিলেন তার ম্যানেজারের সাহায্য নিতে। সঞ্জয় প্রস্তাব গ্রহণও করেন। কিন্তু পরিচালক-প্রযোজকদের সাথে আলাপ করতে গিয়ে অদ্ভুত ভাবে সঞ্জয়ের হয়ে বেশি পারিশ্রমিক দাবী করেন রেশমা। সঞ্জয়, জেল থেকে ফিরে তো অবাক! কিন্তু, তখন অনেক দেরী হয়ে গেছে, আকাশচুম্বি পারিশ্রমিকের দাবী শুনে অনেক প্রযোজকই তখন সরে গেছেন। কে জানে, হয়তো সেই সিনেমাগুলো সঞ্জয়ের ক্যারিয়ারের ভোল আরেকটু অন্যরকম করতে পারতো।

জেল থেকে মুক্তির পর বলিউডের অনেক কলাকুশলীই সঞ্জয়ের বাড়িতে গিয়ে তাঁর সাথে দেখা করে আসেন। তবে, সেই তালিকায় কখনোই ছিলেন না সালমান। তবে, এমন না যে কখনোই তাঁদের মধ্যে দেখা হয়নি। কৃষা বাজাজের বিয়েতে দু’জনই উপস্থিত ছিলেন। কিন্তু কেউই কারো দিকে ফিরেও তাকাননি। বন্ধুত্ব যে এখন আর নেই বললেই চলে।

পালি হিলে নিজের বাড়িতে একবার এক সংবাদ সম্মেলনে সঞ্জয় বলেছিলেন, ‘সালমা আমার ছোট ভাই, সব সময় তাই থাকবে। আমি দোয়া করি ও একদিন এর চেয়েও বড় তারকা হবে।’ নিজের ৫৭ তম জন্মদিনে এই কথা আবারো বলেন সঞ্জয়, সাথে এটাও জানান যে ফোন করে সালমান তাঁকে জন্মদিনের শুভেচ্ছা জানিয়েছেন।

গুজব আছে, সালমান খান চাননি যে ‘সাঞ্জু’ সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রটা রণবীর কাপুরকে দিয়ে করানো হোক। কারণ, রণবীরের সাথে সালমানের ‘শত্রুতা’ বেশ পুরনো। রণবীরের কারণেই ক্যাটরিনা কাইফের সাথে সালমানের ব্রেক-আপ হয়েছিল। ২০১৬ সালেই ‘সাঞ্জু’ সিনেমার ঘোষণা আসে। তখন থেকেই সালমান বলে আসছিলেন, আর তাতে কখনোই কর্ণপাত করেননি সঞ্জয় দত্ত। সম্প্রতি সালমান খান বলেছেন, সঞ্জয় নিজে অভিনয় করলেই বরং সাঞ্জু সিনেমাটা আরো ভাল হত।

সম্প্রতি শীর্ষস্থানীয় এক ভারতীয় গণমাধ্যমে নামপ্রকাশে অনিচ্ছুক সঞ্জয়ের এক ঘনিষ্টজন বলেন, ‘সঞ্জয় তিনটি সিনেমার ঘোষণা দিয়েছেন। কোনোটারই এখন অবধি কাজ শুরু হয়নি। যদিও, এখনো শারীরিক ভাবে দারুণ শেপে আছেন সঞ্জয়। নিজের প্রোডাকশন হাউজ থেকে তিনি সালমান খানকে একটা সিনেমার জন্য প্রস্তাব করেছিলেন। ভেবেছিলেন পুরনো বন্ধুর কাছ থেকে ইতিবাচক সারা পানে। তবে, সালমান সিনেমা ও এর বাইরে এত কিছু নিয়ে ব্যস্ত যে তিনি সঞ্জয়কে ফিরিয়ে দিতে বাধ্য হন। তবে, তিনি নিজে থেকে না বলতে না পেরে, সেটা তার টিমকে দিয়ে বলান। স্বাভাবিক ভাবেই, বিষয়টা স্বাভাবিক ভাবে নেননি সাঞ্জু।’

এর সামান্য ক’দিন বাদেই সালমানকে ‘অহংকারী’ বলেন সঞ্জয়। বোঝাই যাচ্ছে কেন তিনি এই কথা বলেছেন! এর পর থেকেই গণমাধ্যমে তাঁদের নিয়ে নানারকম মুখরোচক খবর আসছে।

একবার লন্ডনে আইফা অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানে অংশ নিতে দু’জনই মাদ্রিদ গিয়েছিলেন। সেখানে সঞ্জয়ের হোটেল স্যুটে গিয়ে আড্ডা দিতেন সালমান। তখন সময়টা ভাল যাচ্ছিল না সঞ্জয়ের। সালমান খান ক্যারিয়ার সঠিক পথে ফিরিয়ে আনার পরামর্শ দিতেন। সেটাও পছন্দ হয়নি সঞ্জয়ের। সেবারের পর আর আইফা অ্যাওয়ার্ড অনুষ্ঠানেই অংশ নেননি সঞ্জয়। এমনকি অনুষ্ঠানের সময় হলেই তিনি পরিবার নিয়ে বেড়াতে চলে যান দেশের বাইরে।

লম্বা ২৫ বছরের বন্ধুত্বের সম্পর্কে বরাবরই ছোটা ভাইয়ের মত আবদার করে গেছেন সালমান, সঞ্জূ সেসব সাধ্যমত মেটানোর চেষ্টাও করেছেন। কিন্তু, ব্যাপার হল দু’জনেই সহজে চটে যাওয়ায় ওস্তাদ, তাই তো এখন তাদের বন্ধুত্বের কেবল গল্প শোনা যায়, বাস্তবে দেখা যায় না!

– বলিউড লাইফ, পিংকভিলা ও দেশিমার্টিনি অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।