ভারত: ভাইজান ইজ ব্যাক!

৪২.৩০ কোটি রুপির জমকালো সূচনা দিয়ে যাত্রা হয়েছিল ‘ভারত’-এর। সালমান খানের জন্য এটা অবশ্য নতুন কিছু নয়। এর আগেও প্রথম দিনেই ৪০ কোটির ওপর কামানোর নজীর আছে ভাইজানের। ২০১৫ সালের ‘প্রেম রাতান ধান পায়ো’ প্রথম দিনে আয় করেছিল ৪০.৩৫ কোটি রুপি। যদিও, প্রথম দিনের আয় বিবেচনা করলে সবার ওপরে এখন ‘ভারত’ই আছে।

ছবি মুক্তির দিনই গতিবিধি নির্ধারণ করে ফেলেছিল ‘ভারত’। আর প্রথম দিনের পূর্বাভাসই শেষ অবধি সত্যি হয়েছে। কেবল শত কোটির ক্লাবে প্রবেশই নয়, এরই মধ্যে ১৫০ কোটি রুপির বেশি আয় করে ফেলেছে ভারত। আর বক্স অফিস ভারডিক্ট বলছে, বছরের অন্যতম ব্যবসাসফল ছবিই হতে যাচ্ছে আলী আব্বাস জাফরের ‘ভারত’।

যদিও, বক্স অফিস বিশেষজ্ঞদের দাবী ক্রিকেট বিশ্বকাপের মৌসুম না হলে হয়তো ছবিটির ব্যবসায়িক সাফল্য আরো বাড়তো। হয়তো, ষষ্ঠ দিনে গিয়েই ২০০ কোটির ক্লাবে প্রবেশ করে ফেলতো ‘ভারত’। তবে, পঞ্চম ও ষষ্ঠ দিনে বেশ বাজে ভাবে ধস নামে এর ব্যবসায়। ওই সময়ে বিশ্বকাপে ভারতের ম্যাচ ছিল। ফলে, ক্রিকেটের প্রভাবে নেতিয়ে পড়েছে ‘ভারত’।

তবে, ব্যবসাটা এখানেই থামবে নয়। অন্তত আরো সপ্তাহখানেকের জন্য সিনেমা থিয়েটারে টিকে যাচ্ছে ‘ভারত’। শুধু তাই নয়, সালমান খানের প্রথম ছবি হিসেবে এটা মুক্তি পাবে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও গালফ অঞ্চলে।

তবে, একটা ব্যাপার কোনো সন্দেহ ছাড়াই বলা যায় ‘ভারত’ দিয়ে আবারো নিজের হারানো চূড়া ফিরে পেলেন সালমান খান। সর্বশেষ গেল বছর ‘রেস ৩’ করে তিনি যে সুনাম বিসর্জন দিয়েছিলেন, এবার সেটা আবার ফিরে এসেছে। ভক্তরা তাই এক যোগে এবার বলতেই পারেন – ভাইজান ইজ ব্যাক!

অনুমিত ভাবেই ‘ভারত’ ছবির প্রাণ হলেন সালমান খান। এখানে বক্স অফিসের কিংকে ছয়টি ভিন্ন ভিন্ন রূপে দেখা গেছে। কখনো তিনি সার্কাসের চ্যাম্পিয়ন বনেছেন, কিংবা বনেছেন নিজের জীবনের গল্প বলা ৬০ বছর বয়সী বুড়ো।

ছবিটি খ্যাতনামা কোরিয়ান ছবি ‘ওডে টু মাই ফাদার’-এর অফিশিয়াল রিমেক। ছবিটি কোরিয়ান চলচ্চিত্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি আয় করার দিক থেকে তৃতীয় স্থানে আছে। কোরিয়ান সিনেমাটির গল্প আবর্তিত হয়েছে ভিয়েতনাম যুদ্ধের সময় কোরিয়ান পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে।

আর রিমেক ‘ভারত’-এ দেখানো হয়েছে ১৯৪৭-এর দেশ বিভাগ ও তার পরবর্তী সময়ের ভারতকে। এখানে কেন্দ্রীয় চরিত্র মানে সালমান খানের নামই হল ‘ভারত’। ১৯৪৭ থেকে ২০০০ সাল অবধি তাঁর জীবনের নানা উত্থান-পতন, প্রাপ্তি-অপ্রাপ্তির গল্প বলেছে এই ছবিটি।

জুটি হিসেবে অনবদ্য ছিলেন সালমান-ক্যাটরিনা। পার্শ্বচরিত্র করা সুনিল গ্রোভার ছবির অন্যতম আকর্ষণ। কখনো কখনো তিনি ছাড়িয়ে গেছেন স্বয়ং ভাইজানকেও। এটা পুরোদস্তর বলিউডি মসলাদার ছবি। নাচ-গান, হাসি-কান্না, সুখ-দুঃখ, আনন্দ-বেদনা, রোম্যান্স, অ্যাকশন – সবই আছে। ভারতীয় আবেগ ব্যবহার করার কারণে পরিচালকের অনেক আজগুবি গল্পও এখানে দর্শকের চোখে লাগেনি। এটাকে চাইলে নির্মানের স্বার্থকতাও বলা যায়। শেষের দিকে ছবিটা অহেতুক দীর্ঘায়িত করা হলেও দর্শকদের বিনোদন দেওয়ার যে প্রয়াস – তাতে কোনো আপোষ করা হয়নি।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।