একজন শিক্ষক, আমাদের ফাহিম স্যার!

২০০১ সাল। নাইম ইসলাম , নাদিফ চৌধুরী – এদের ব্যাচের কোচিং করানোর দায়িত্ব আমার কাছে ছিল। একদিন ওরা একটা ম্যাচ খারাপ খেলার পর আমি বকা দিচ্ছিলাম। সেটা স্যার দেখে ফেলে, সবাই চলে যাবার পর স্যার আমাকে কাছে ডেকে আনে।

আর বললেন, ‘সালাহউদ্দিন ছেলেরা ম্যাচ খারাপ খেললে এমনেই ওদের মন খারাপ থাকে, যখন বড় হবে তখন তো মিডিয়া খারাপ কথা লিখবে, পাবলিক পিছনে লাগবে, অফিশিয়াল বকা দিবে, ওদের পাশে তখন কে থাকবে, তুমি ছাড়া আর কেউ থাকবে না। তুমি কোচ। তুমি এদের আগলে রাখবে। যখন জিতে যাও, তখন তো ক্রেডিট নিতে ভুল না, তাইলে হারার সময়ও দায়িত্বটা নিও।’

কথাটা কখনো ভুলি নাই।

২০০৫ সাল। বিকেএসপি’র চাকরি ছাড়বো কি ছাড়বো না চিন্তাই ছিলাম। স্যার জিজ্ঞেস করলেন, ‘কি নিয়ে চিন্তা করছো?’

আমি বললাম, ‘সরকারি চাকরি ছেড়ে বোর্ডে দুই বছরের চুক্তি তে যাবো। ভয় লাগছে!’

স্যার আমাকে শুধু বললেন, ‘ধর তোমার দুই বছর পর চুক্তি বাড়ালো না। তুমি কি মনে কর, তুমি না খেয়ে মারা যাবা!’ আমি আমার উত্তর পেয়ে গিয়েছিলাম। বিকেএসপি’র চাকরি সে দিন ই ছেড়ে দিয়েছিলাম ।

সেই যে বিয়ের সময় বলেছিল, ‘তোমার সাহস আছে’ – সে কথাটাই মনে পরে গেল। সাহসী হলাম, চাকরি ছেড়ে দিলাম।

২০১১ সাল। ক্রিকেট বোর্ডের চাকরি ছেড়ে মালয়েশিয়া যাব। স্যারের সাথে দেখা করতে আসছি। আমার মন ভাল নেই – এটা উনি ভাল করেই বুঝলেন। উনি আমাকে শধু একটা কথা বললেন, ‘দেখ তুমি এই বয়সে যতটুকু নাম, রেসপেক্ট মানুষের কাছে পেয়েছো, আমরা এতো বছর কোচিং করিয়েও পাইনি।’

উনি জানেন কিভাবে কাকে কখন কী বলতে হবে। মন আমার সাথে সাথে ভাল হয়ে গেল।

এই হলেন আমাদের স্যার, যিনি সারা জীবন তার ছাত্রদের ভাল চিন্তা করেছেন, নিজে সব সময়ই আড়ালে থেকে গেছেন। আমার মনে হয়, বাকি জীবনটাও হয়তো আড়ালেই থাকবেন।

__________

নিজের ফেসবুক ওয়ালে ক্রিকেট মাঠে হাজারো স্বপ্নের নীরব কারিগর নাজমুল আবেদীন ফাহিমকে নিয়ে স্মৃতিচারণটামূলক লেখাটা লিখেছেন তারই সাবেক শীষ্য ও বর্তমানে ক্রিকেট কোচিংয়ে  মোহাম্মদ সালাহউদ্দিন। সম্প্রতি বাংলাদেশ ক্রিকেট বোর্ডের (বিসিবি) চাকরি ছেড়ে দিয়েছেন নাজমুল আবেদীন ফাহিম।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।