আমি বাকি খানদের মত নই

আমি কখনোই বিরাট কোনো ফিটনেস ফ্রিক নই। তবে, আমারও ফিটনেস ঠিক রাখার নিজস্ব রুটিন আছে। আমি মনে করি, ফিটনেসের জন্য হাঁটার চেয়ে ভাল কিছু আর নেই। সময় পেলেই আমি পায়ে জুতো লাগিয়ে হাঁটতে বের হয়ে যাই। আর বাড়িতে তৈমুরের পেছনে দৌঁড়ানোও তো এক্সারসাইজের চেয়ে কম কিছু নয়।

নেপোটিজমের একদম বিশুদ্ধ সংস্করণ হল সেটা, যার শিকার আমিও হয়েছিল। তবে, সেটা জানতে কেউ আগ্রহী নয়। আমি কারো নাম বলবো না, এটুকু বলবো যে আমার বাবা ফোন করেছিল কাউকে কাউকে। কখনো ফোন দিয়ে ছবিতে আমাকে নিতে বলতো, কখনো বা বাদ দিতে বলতো। এমনই হয়, এটা আমার সাথেও হয়েছে। ভারতের এই বৈষম্যটা একটু ভেঙে দেখার সময় চলে এসেছে। নেপোটিজম, ফ্যাভারিজম কিংবা ক্যাম্প – প্রতিটি শব্দ আলাদা আলাদা অর্থবহন করে।

আমি যেমন মানুষ, কিংবা আমি যেসব ছবি করেছি, তাতে এটা স্পষ্ট যে আমি কিছু বাড়তি সুবিধা যেমন পেয়েছি, তেমনি অনেক সুযোগ সুবিধার অভাবও বোধ করেছি। যারা সহজ উপায়ে আসে আর যারা কঠিন ‍উপায়ে আসে – তাদের মধ্যেও ভিন্ন একটা স্রোত আছে। এই যেমন যারা ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা (এনএসডি) কিংবা অন্যান্য ফিল্ম ইন্সটিটিউট থেকে আসে, তারা আলাদা।

ওরা আসে সত্যিকারের প্রতিভা নিয়ে, কিংবা অনেক ক্ষেত্রেই তাদের প্রতিভাকে বিকাশের ফলে সিনেমায় আসার আগেই পরিপক্ক হয়ে যায়। আর আমাদের মত যাদের জন্য দরজাটা খুলেছে স্রেফ আমাদের জন্ম ও বাবা মায়েদের জন্য তারা ওদের মত পরিপক্ক হয়ে আসি না।

ফলে, ওরা যেভাবে একটা সংলাপ বলে, তার সাথে আমাদের সংলাপ বলার ধরণে বিশাল পার্থক্য। ওরা এক্ষেত্রে বাকি সবার চেয়ে ভাল। ইন্ডাস্ট্রিতে ওরা এখন একটা সম্মানের জায়গায় চলে এসেছে। এই মানুষগুলোর টিকে থাকা, সম্মান পাওয়া খুব জরুরী।

বাড়িতে প্রকাশ্য দিবালোকে আমরা সব কিছু নিয়েই কথা বলি – ধর্ম, রাজনীতি, শিল্প, সিনেমা কোনো কিছুই বাদ থাকে না। আমি ছোটদের কাছে মজার সব অভিজ্ঞতার কথা শেয়ার করি। সারা মূলত তাঁর সিনেমার ক্যারিয়ার নিয়ে এখন খুবই মনোযোগী। সবার আলাদা আলাদ ব্যক্তিসত্ত্বা আছে। সবাই নিজেদেরে ধারণা নিয়ে কথা বলে। তৈমুরও নিজের মত করে নিজের ধারণা নিয়ে কথা বলে, সারা ও ইব্রাহিমও বলে।

আমাদের মধ্যে কোনো কমিউনিকেশন গ্যাপ নেই। ওদেরকে আনন্দ দেওয়ার জন্য আলাদা কোনো কোনো এক্সপ্রেশন ব্যবহার করতে হয় না।

মানুষ আমাকে প্রায়ই ‘খান সাহেব’ বলে ডাকে। আমি এটাকে প্রশংসা হিসেবেই নেই। কারণ, আমি বাকি খানদের মত নই। আমার বছরে অনেকগুলো মাস কোনো কাজ ছাড়াই বসে থাকতে হয়। আসলে আমার জন্য না, এটা ভারতের অনেক অভিনেতার ক্ষেত্রেই বাস্তব। তাঁরা সুযোগের খোঁজ করে, আর কেউ করে সুবিধার খোঁজ।

আমি যখন যেটাই করি, মনে করি নিজের সেরাটাই দিচ্ছি। তবে, যখন নিজেকে বুড়ো দেখায় তখন ঘাবড়ে যাই। মৃত্যু নিয়ে ভাবতে শুরু করি। বয়স বাড়ার সাথে সাথে এই ভাবনাটা তো আসবেই। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি যে, এটা জীবনেরই অংশ। এর জন্যই তো জীবনটা অর্থবহ।

_______________

কথাগুলো বলেছেন ‘পদ্মশ্রী’ খেতাব পাওয়া বলিউড অভিনেতা সাইফ আলী খান। পুরোদস্তর তারকা পরিবারের সন্তান তিনি। মা শর্মিলা ঠাকুর খ্যাতনামা অভিনেত্রী। বাবা প্রয়াত মনসুর আলী খান পতৌদি ছিলেন ভারতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক ও বোর্ড অব কনট্রোল ফর ক্রিকেট ইন ইন্ডিয়ার (বিসিসিআই) সাবেক প্রধান নির্বাচক। সাইফের প্রথম স্ত্রী অমৃতা সিং বলিউড অভিনেত্রী। দ্বিতীয় স্ত্রী কারিনা কাপুরও শীর্ষস্থানীয় নায়িকা। বড় মেয়ে সারা আলী খান অভিষেক ছবি দিয়ে জিতে গেছেন ফিল্ম ফেয়ার পুরস্কার।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।