সাফটা নাকি যৌথ প্রযোজনা: কোনটা চাই?

বহুল আলোচিত শাকিব খানের পূর্বনির্ধারিত যৌথ প্রযোজনার চালবাজ ছবিটি সাফটা চুক্তির আওতায় মুক্তি পেতে যাচ্ছে। ভক্তদের মতই একজন চলচ্চিত্র প্রেমী হিসেবে আমিও খুশী না হয়ে পারছি না!

দীর্ঘদিন পর বিগ বাজেটের একটি চকচকে ছবি দেখতে যাচ্ছে এদেশের সিনে প্রেমীরা। হতাশ হলেও আমি নেতা হবো নামের একটি সাধারণ হিট ছবির পর ভক্তরা যে আবারো শাকিব কে বড় পর্দায় দেখতে যাচ্ছে, এটা আনন্দেরই বৈকি ।

আমার প্রশ্ন ছিল: সাফটা না যৌথ প্রযোজনা, কোনটা চাই? সাফটার বেলায় আমি বরাবরেই শুরু থেকেই বিরোধী ছিলাম! কারণ এটি পুরোপুরি ভারতীয় ছবি। এতে আমাদের লাভের সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। আর বিনিময়ে ওপারে যেসব ছবি যায়, সেগুলোও মানসম্মত ছবি নয়! এর আগেও কেলোর কীর্তি, বেপরোয়া, জিও পাগলা, হরিপদ ব্যান্ডওয়ালা, ইন্সপেক্টর নটিকে, বলো দুগ্গা মাঈকী, ককপিট ইত্যাদি ছবি এদেশে মুক্তি পেয়েছে। যদিও এর কোনটিই আশানুরুপ ব্যবসা করতে পারেনি, যদি তথ্য আমার সাথে প্রতারণা না করে!

এবারের প্রেক্ষাপট ভিন্ন। কারন, এটা শাকিব খানের ছবি! বেশ চড়ামূল্যেই হল মালিকগণ এর বুকিং দিচ্ছেন বলে জানা গেছে। ঈদের আগে এটিই শেষ সুযোগ বলে, তারাও মুখিয়ে আছে ব্যবসা করার জন্য। যদিও এটা আটকানোর চেষ্টাও কম হয়নি, তবুও শেষ পর্যন্ত ছাড় পাওয়ায় এটি সকলের মুখে হাসি এনে দিবে কিনা, তা সময়ের উপর ছেড়ে দিলাম।

আমার হতাশা অন্যখানে। যদি এটি যৌথ প্রযোজনায় মুক্তি পেত তবে বেশ ভাল হতে পারতো। এইতো বেশ ক’বছর আগেও যৌথ ছবি টানা মুক্তি পাচ্ছিল। হঠাৎ এক দমকা হাওয়ায় এর নিয়ম নিয়ম কানুনে লাগাম টানায়, এ সেক্টরটি এখন হুমকির মুখে। যদিও ছবিটি যৌথ হিসেবেই শুরু হয়েছিল, তবে মৌলিক বা কিছু নিয়মের ফারাকে পরে এটা আর অনুমোদন পায়নি। পরিচালক অনন্য মামুনের উক্তি ফলো করলে বিষয়টা বোঝা যায়!

তবে যৌথ ছবি হলে, তাতে এদেশীয় প্রযোজকটি সবচে বেশি লাভবান হতেন। শাকিবের ছবি, লাভের আশা করতেই পারি। প্রচার প্রচারণার ঘাটতি হতো না। হলও বেশি পাওয়া যেত। শিল্পীও বেশি থাকতো। প্ল্যাটফর্মটাও বড় দেখাত, ব্যবসাও আটকাতো না। প্রযোজকও হাসিমুখে নতুন বিনিয়োগে নেমে পরতেন। পরিচালকও নতুন উদ্যম পেতেন।

যদি এটি পুরোপুরি দেশীয় ছবি হতো, তাহলে তো আরো ভাল হতো। সফলতার সব দায়ভার দেশেই থাকত। সকল প্রশংসা, সমালোচনাও দেশেই থাকত। যদিও আমার এ আলোচনা আপাতত অযৌক্তিক মনে হচ্ছে। কারণ, দেশীয় ভাল ছবি নির্মাণে আমাদের নির্মাতারা অযোগ্যতার পরিচয় দিচ্ছেন বার বার!

আশা করি, আমার আলোচনা ও হতাশার ব্যাপারটা বুঝতে পেরেছেন। হুম, আমি চাই দেশীয় ছবি, মৌলিক ছবি। যদি তা না হয়, অন্তত কিছু যৌথ ছবি। যাতে দেশীয় ফিলিংসটা বজায় থাকে অন্তত। প্রতিবছর নবাব, শিকারীর মত দু চারটি যৌথ সফল ছবি আর দু-চারটি ঢাকা অ্যাটাক, আয়নাবাজির মত সফল ছবি মুক্তি পেলে ইন্ডাস্ট্রির ভিত শক্ত হতে সময় লাগার কথা নয়!

কিন্তু, সাফটার ঝাপটা সইতে মন চাইছে না! যৌথ ছবি আটকানোর জন্য যারা এ নিয়ম করেছেন, আল্টিমেটলি তারা কি সফল হলেন? সাফটায় সব ছবি তো আসবেই। তার চেয়ে কি যৌথ অন্তত মন্দের ভাল নয় ?

তাই, সব হতাশার মাঝেই আপাতত চালবাজ উপভোগ করতে হবে। আশা করি চালবাজ আমার হতাশা দূর করে, আনন্দই দেবে। শুভ কামনা চালবাজ! দিনশেষে শাকিব খানের জয় হয়েছে, হচ্ছে এবং হতে যাচ্ছে আবারো!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।