মডেলিং দুনিয়ার বেতাজ সম্রাজ্ঞী

রুপসীর রেশমী চুলে, দোলে গো কেয়া দোলে

চুলের ঐ মেঘ কাজলে, দোলে গো কেয়া দোলে!

নব্বইয়ের দশকে বিজ্ঞাপনী দুনিয়ায় এমনই ভাবে আবির্ভূত হয়ে, বিমোহিত করতেন দর্শকদের। তরুণদের স্বপ্নের রানী কিংবা তরুনীদের আইডল বললে যে কয়েকজন মিডিয়া তারকার নাম উঠে আসে, তাদের মধ্যে নি:সন্দেহে থাকবেন এই সুপার মডেল। তিনি মডেলিং জগতের অঘোষিত সম্রাজ্ঞী সাদিয়া ইসলাম মৌ।

মৌ-এর জন্ম ১৯৭৬ সালের ২১ জুন। মা রাশা ইসলাম মডেলিং জগতের পথিকৃৎ ছিলেন। সেই সুবাদে মডেলিং জগতের সাথে ছোটবেলা থেকেই পরিচিতি। নব্বইয়ের শুরুতে এসে যুক্ত হন মডেলিং। পুরো নব্বই দশক তিনি বিজ্ঞাপনের দুনিয়ায় রাজত্ব করেছেন। চলচ্চিত্র, নাটকের বাইরেও যে জুটি হতে পারে – সেটা দেখিয়েছিলেম তিনি।

মডেলিং জগতের আরেক আইডল নোবেলের সাথে জুটি বেঁধে কাজ করেছেন অনেক বিজ্ঞাপনে। দুইজনেই কেয়ার বিজ্ঞাপন গুলোকে নিয়ে গিয়েছিলেন অন্য পর্যায়ে, লাক্সের মডেল হয়েছেন। এছাড়া পাকিজা প্রিন্ট শাড়ী, আপন জুয়েলার্স, মৌচাক জুয়েলার্সের সহ আরো অনেক বিজ্ঞাপনে কাজ করেছেন। টিভি পর্দার বাইরে বিশ্বরঙ সহ আরো কিছুর দেশীয় সংস্থার মডেল হয়েছেন। ক্যারিয়ারে সেরা জুটি নোবেলের সাথেই সর্বশেষ রবির বিজ্ঞাপনে হাজির হন তিনি।

মডেলিং জগতের বাইরেই তাঁর যে অন্য পরিচয়ে পরিচিতি তাঁর। সেটা হচ্ছে দেশসেরা নৃত্যশিল্পীদের মধ্যে তিনি একজন। মাত্র তিন বছর বয়সেই পায়ে ঘুঙ্গুর বেঁধে নাচ শিখেছেন।শ্যামা, চিত্রাঙ্গদা-সহ অনেক নৃত্যনাট্যে তিনি সুনাম কুড়িয়েছেন। এখনো টিভি পর্দায় বিশেষ আমন্ত্রনে নৃত্যের ঝলকে মুগ্ধ করেন। তিনি একাধারে বাংলাদেশ একাডেমি অব ফাইন আর্টসের (বাফা) ব্যবস্থাপনা পরিচালকও বটে।

নব্বইয়ের মাঝামাঝি অভিনয়েও যুক্ত হন মৌ। প্রথম নাটক ১৯৯৪ সালের ‘অনুভবে অভিমানে’। এরপর হঠাৎ বৃষ্টি, কুসুম কাঁটা, কে সে হালের ফুলগুলো ভুলগুলো, সবুজ আলপথে একদিন সহ অনেক নাটকেই অভিনয় করেছেন। নব্বইয়ে অভিনয় থেকে কিছুটা দূরে থাকতে চাইলেও বর্তমানে বিশেষ দিনগুলিতে অভিনয়ে বেশ ব্যস্ততা দেখা যায়।

চলচ্চিত্র পরিবারের মেয়ে হয়েও বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রের অফার ফিরিয়ে দিয়েছিলেন। ফিরিয়ে না দিলে হয়তো বাংলা চলচ্চিত্র পেতো এক গ্ল্যামারাস নায়িকা। ইত্যাদির গানে মডেল হতে গিয়ে পরিচয় ঘটে জাহিদ হাসানের সাথে। সেখান থেকে পরিণয়। অত:পর বিবাহ।

এরপর একসাথে সংসার করছেন প্রায় দুই দশক ধরে। দুই সন্তান নিয়ে বেশ সুখের সংসার মৌর। মিডিয়া জগতের মত ব্যক্তি জীবনেও কোন কিছুর আঁচ লাগতে দেননি তাঁরা। এটাও বাংলাদেশের মিডিয়ার জগতে অনন্য এক ঘটনা।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।