স্যাকরেড গেমস: সাইফের ক্যারিয়ারের শেষ লাইফ লাইন?

সাইফ আলী খানের প্রতিভা নিয়ে কোনো কালেই সন্দেহ ছিল না। ওমকারা, বিয়িং সাইরাস কিংবা দিল চাহতা হ্যায়’র সিনেমায় তার অভিনয় দক্ষতার প্রমাণ মিলেছে। কাল হো না হো, রেস, রেস ২, হাম তুম, লাভ আজকাল, ককটেইলের মত হিট সিনেমাও তিনি উপহার দিয়েছেন।

কিন্তু, এই মুহূর্তে ছোটে নবাবের পায়ের নিচের মাটি শক্ত নয়। সর্বশেষ আটটা সিনেমার সবগুলোই ফ্লপ। সাইফ অভিনিত সর্বশেষ হিট সিনেমার নজীর খুঁজতে ফিরে যেতে হবে সেই ২০১৩ সালের সিনেমা রেস ২-তে।

এমন না যে সাইফ এই সিনেমাগুলোতে খুব বাজে অভিনয় করেছেন (হামশাকালস বাদে), তবুও প্রতিটা সিনেমায় মার খেয়ে গেছে বক্স অফিসে। তবে, স্রেফ অভিনয়গুনে তো টিকে থাকা মুশকিল। আজকের যুগে সাফল্যই তো গ্রেটনেস বা নিদেনপক্ষে টিকে থাকার মূল শর্ত।

বড় পর্দায় না হলেও নেট ফ্লিক্সের ওয়েব সিরিজ ‘স্যাকরেড গেমস’ সেদিক থেকে বিবেচিত হচ্ছে সাইফ আলী খানের ক্যারিয়ারে সর্বশেষ ‘লাইফ লাইন’ হিসেবে। এর আটটি এপিসোডে নওয়াজুদ্দীন সিদ্দিকীর সাথে তাল মিলিয়ে অভিনয় করেছেন সাইফ। আর বিক্রম চন্দ্র’র পুরস্কার জয়ী উপন্যাসের এই পর্দায় রূপায়ন দর্শকদের কাছে বেশ গ্রহণযোগ্যতা পাচ্ছে। ক্রাইম থ্রিলার ভিত্তিক নির্মানে অনুরাগ কাশ্যপ আবারো নিজের জাত চিনিয়েছেন।

সিনেমা ও ট্র্যাডিশনাল টেলিভিশন অনুষ্ঠানের জায়গাগুলো আস্তে আস্তে ওয়েব নির্ভর সিরিজি ও ইউটিউবের দখলে চলে আসছে। এমন সময় স্যাকরেড গেমস সম্ভবত হতে যাচ্ছে সাইফের ক্যারিয়ারের শেষ আশার আলো।

এই ওয়েব সিরিজটি মুক্তির আগে সাইফের ক্যারিয়ারে কেমন দুর্দিন যাচ্ছিল সেসবের কিছু উদাহরণ দিলে বিষয়টা পরিস্কার হবে। এর সাথে কিভাবে ‘স্যাকরেড গেমস’ তার ক্যারিয়ারকে পতনের হাত থেকে বাঁচাতে পারে, সেটাও জেনে নেই চলুন।

  • টানা ব্যর্থতা

২০১৩-এর রেস ২-এর পর থেকে কোনো হিট সিনেমা নেই সাইফের দখলে। কালাকান্দি, শেফ, হ্যাপি এন্ডিং, রেঙ্গুন – সবই বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়েছে। যতগুলো ধারায় কাজ করতে চেয়েছেন সাইফ, কোনোটাই দর্শক গ্রহণ করেনি।

  • নতুন ধারা

হলিউডে অভিনয় শিল্পীরা সিনেমা, টেলিভিশন ও ওয়েব সিরিজে ঘুরেফিরে কাজ করেন। বলিউডেও এই ধারা আসতে শুরু করেছে। বড় পর্দার আকাশসমান চাপটা অনেক ক্ষেত্রেই ওয়েব সিরিজগুলোতে থাকে না। ফলে, অভিনেতারা ভাল কাজের জন্য বাড়তি স্পেস পান, যা পরবর্তীতে বড় পর্দায় কাজে সাহায্য করে। ফলে, স্যাকরেড গেমসের সাফল্য আগামি সিনেমাগুলোর জন্য সাইফের সৌভাগ্য হয়ে কাজ করতে পারে।

  • হাতে নেই নতুন ছবি

দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্যি যে, সাইফ আলি খানের হাতে নতুন কোনো ছবি এই মুহূর্তে নেই। তবে, স্যাকরেড গেমসের সাফল্য পাশার দানটা বদলে ফেলতে পারে। নির্মাতা, প্রযোজক কিং দর্শক – সবারই হয়তো সাইফের ব্যাপারে পূর্ব নির্ধারিত মাইন্ডসেটটা এখন পাল্টাবে।

মুক্তির অপেক্ষায় থাকা সিনেমা

মুক্তির অপেক্ষায় আছে সাইফের সিনেমা ‘বাজার’। গেল বছরের ডিসেম্বরে এই সিনেমা মুক্তির কথা থাকলে সেন্সর বোর্ডের জটিলতায় ছবি মুক্তি ঝুলে আছে। অনেকবার মুক্তির তারিখ পাল্টানো হয়েছে। এটা সাইফের জন্য ভাল সংবাদ নয়। এখন স্যাকরেড গেমসের জনপ্রিয়তা কাজে লাগাতে হয়তো শিগগিরই এই সিনেমা হলে চলে আসবে।

সবচেয়ে বড় ব্যাপার হল ইন্টারনেট ভিত্তিক ডিজিটাল বিনোদনের দুনিয়াটা এখন স্যাকরেড গেমস দখল করে ফেলেছে। ভারতীয় বাজার তো বটেই, বাংলাদেশেও মানুষ গোগ্রাসে গিলছে এই ওয়েব সিরিজ। সাফল্যের জন্য অপেক্ষার অবসান হয়েছে সাইফ ‘দ্য আদার’ খান-এর। চোখ বন্ধ করে বলা যায়,  অবশ্যই এই ধরণের কাজে সামনে আবারো দেখা যাবে তাঁকে। একই সাথে বলিউডের নির্মাতারাও আবারো তাঁর ব্যাপারে উৎসাহিত হবেন। ক্যারিয়ারে সাইফ কম উত্থান-পতন দেখেননি। দেওয়ালে পিঠ ঠেঁকে যাওয়ার পর এবার না হয় আবারো ঘুরে দাঁড়ানো যাক!

– দেশিমার্টিনি অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।