ভাগ্যবান আমরা তাঁর সময়ে বেঁচেছিলাম!

ক্রিকেটের প্রতিশব্দ তিনি। যার জন্ম হয়েছে শুধু ক্রিকেটকে ভালোবাসার জন্য। যার কাছে ক্রিকেট ছিল প্রার্থনার মতো, মাঠে নামা ছিল উপাসনালয়ে আসার মতো। বাইশ গজে চব্বিশ বছর তিনি উইলো হাতে শাসন করেছেন।

ক্রিকেটে ব্যাটসম্যান অজস্র আসবে যাবে। তবে তাকে এক নাম্বারে রেখে বাকীদের হিসেব হবে দুই থেকে। এক নাম্বার জায়গা তার জন্যই বরাদ্দ। ‘ব্যাটসম্যান’ শব্দটা কেউ উচ্চারণ করা মাত্রই তার কথা চলে আসবে। সে যে অনন্য এক নাম।

শুধু ভারত না, তিনি সবার। যারা যেভাবে জীবনে একবারের জন্য হলেও ক্রিকেটকে ভালোবেসেছে তিনি তাদের সবার। ছোটবেলা থেকে আমরা জেনে এসেছি ক্রিকেট ভদ্রলোকের খেলা। আর ভদ্রলোকের এই খেলার সবচেয়ে বড় বিজ্ঞাপন তো তিনিই। চাঁদেরও কলঙ্ক থাকে, তার চব্বিশ বছরের ক্রিকেটীয় জীবনে নেই কোন দাগ।

পুরো ভারতজুড়ে ধর্ম, বর্ণ, গোত্রের অভাব নেই। অসংখ্য বিভক্তির ভারত তার কাছে এসে মিলে গেছে এক বিন্দুতে। ব্যাট হাতে তিনি যখন নামতেন, পুরো ভারতবাসীর চোখজোড়া থাকত তার উপর। পাঁচ ফিট চার ইঞ্চি উচ্চতার তিনি নিজ কাঁধে বয়ে বেড়িয়েছেন ১৫০ কোটি ভারতীয়র প্রত্যাশার চাপ!

১১ বছর বয়সে শিবাজি পার্কে যে সাধনার স্বপ্নযাত্রা শুরু হয়েছিল তা শেষ হয় ২০১৩ সালের নভেম্বরের ১৬ তারিখ। ঈশ্বর প্রদত্ত প্রতিভার পাশাপাশি পরিশ্রম করে নিজেকে তিনি নিয়ে গেছেন অনন্যা উচ্চতায়। যে উচ্চতায় শুধু তিনি একাই। আশপাশে কেউ নেই; সবাই খানিক নিচে!

ক্রিকেট রানের খেলা। ব্যাটসম্যানরা রান বন্যায় ভাসবে, শতকের পর শতক করবে। কিন্তু তিনি রান, শতক সবকিছু ছাপিয়ে এরচেয়েও বেশি কিছু! তিনি ভালো ব্যাটসম্যান তারচেয়েও বড় তো তিনি ভালো মানুষ।

সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক রান, সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি, সবচেয়ে বেশি আন্তর্জাতিক হাফ সেঞ্চুরি, বিশ্বকাপের মঞ্চে সবচেয়ে বেশে রান, বিশ্বকাপের এক আসরে সর্বোচ্চ রান, বিশ্বকাপের আসরে সবচেয়ে বেশি সেঞ্চুরি, আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক বার ম্যাচ সেরার পুরস্কার, সর্বোচ্চ সংখ্যক সিরিজ সেরার পুরস্কার, ২০১১ সালের বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন – তাঁর অর্জনের মুকুটে এমন আরো কত-শত পালক যে আছে, তা বলে শেষ করা যাবে না।

ভাগ্যবান আমরা তাঁর সময়ে বেঁচেছিলাম!

তাঁর ক্রিকেট দেখে বড় হয়েছি। সেঞ্চুরি করার পর তাঁর আকাশপানে তাকিয়ে থাকায় আনন্দ খুঁজেছি। ধন্যবাদ, শচীন রমেশ টেন্ডুলকার। আমরা ভাগ্যবান যে আপনাকে চোখের সামনে খেলতে দেখেছি।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।