শচিনের ১০ কীর্তি: আদৌ কি কখনো ভাঙবে?

লিটল মাস্টার, ব্যাটিং জিনিয়াস, ব্যাটিং মায়েস্ত্রো – তাঁকে একেকজন একই নামে ডাকে। তবে, তাঁর পরিচয়টা সবার কাছে একই। ২২ গজে যখন ব্যাটিং করতে নামতেন তখন গোটা বিশ্বের শতকোটি ক্রিকেট প্রেমী চোখ মুগ্ধ নয়নে তাকিয়ে থাকতো। তিনি হলেন শচিন টেন্ডুলকার

বছর চারেক হল তিনি ক্রিকেট মাঠ ছেড়েছেন, অথচ আজো তাঁর মোহ তার মুগ্ধতা ও রহস্য কাটিয়ে উঠতে পারেনি ক্রিকেট বিশ্ব। ব্যাট হাতে তিনি এমন দারুণ সব রেকর্ড করে গেছেন যে, সেসব আদৌ কখনো ভাঙবে কি না সেসব নিয়ে সন্দেহ আছে।

১.

মোট ছয়টি বিশ্বকাপ (১৯৯২, ১৯৯৬, ১৯৯৯, ২০০৩, ২০০৭, ২০১১) খেলেছেন শচিন টেন্ডুলকার। সব মিলিয়ে শচিন সর্বোচ্চ ২,৫৬০ রান করেছেন ৫৬.৯৫ গড়ে। যে কোনো ক্রিকেটার হিসেবে বিশ্বকাপে এটাই ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ সংগ্রহ। আর এর চেয়েও বড় ব্যাপার হল এই সবগুলো বিশ্বকাপেই তাঁর সেঞ্চুরি আছে। বিশ্বকাপে শচিনের আছে রেকর্ডসংখ্যক (নয়টি) ম্যান অব দ্য ম্যাচের পুরস্কার। আর মাত্র একজন ক্রিকেটারই খেলতে পেরেছেন ছয়টি বিশ্বকাপ। তিনি হলেন পাকিস্তানের জাভেদ মিয়াঁদাদ।

২.

২৪ বছরের লম্বা ক্যারিয়ারে শচিন টেন্ডুলকার বিশ্বব্যাপী ৯০টি ভিন্ন ভিন্ন ভেন্যুতে খেলেছেন, যা একজন ক্রিকেটার হিসেবে সবচেয়ে বেশি ভেন্যুতে খেলার রেকর্ড। এখনকার যুগে এই কীর্তিটা অন্য কারো পক্ষে ভেঙে ফেলা রীতিমত অসম্ভব।

৩.

শচিন টেন্ডুলকার ২৪ বছরের ক্যারিয়ারে পক্ষে-বিপক্ষে মোট ৯৮৯ জন ক্রিকেটারের সঙ্গে খেলেছেন। এর মধ্যে স্বদেশি (ভারতীয়) ক্রিকেটার ছিলেন ১৪১ এবং প্রতিপক্ষের ছিলেন ৮৪৮ জন। এটা খুবই ভুতুড়ে আর অবিশ্বাস্য একটা রেকর্ড।

৪.

ক্রিকেটের অভিজাত ফরম্যাট টেস্ট ২০০ টেস্ট খেলা একমাত্র ক্রিকেটার হচ্ছেন শচিন টেন্ডুলকার। ১৬৮টি করে টেস্ট খেলে দ্বিতীয় স্থানে রয়েছেন অস্ট্রেলিয়ার সাবেক দুই অধিনায়ক – রিকি পন্টিং ও স্টিভ ওয়াহ।

৫.

২২ বছরে মোট ১০০ টি আন্তর্জাতিক সেঞ্চুরি করেছেন শচিন টেন্ডুলকার। শততম সেঞ্চুরিটা করেছেন বাংলাদেশের বিপক্ষে, এশিয়া কাপে মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে।

৬.

২৩ বছরের ওয়ানডে ক্যারিয়ারে শচিনের সংগ্রহ ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৮,৪২৬ রান। এই রানটা দ্বিতীয় স্থানে থাকা কিংবদন্তিতুল্য অস্ট্রেলিয়ান ক্রিকেটার রিকি পন্টিংয়ের চেয়ে ৪,৭২২ বেশি।

৭.

ওয়ানডে ক্রিকেটে এক পঞ্জিকাবর্ষে (১৯৯৮ সাল) সর্বাধিক ১,৮৯৪ রান করেছেন শচিন রমেশ টেন্ডুলকার। এটা ওয়ানডে ক্রিকেটের বিশ্ব রেকর্ড। এর মধ্যে নয়টি সেঞ্চুরিও ছিল তাঁর। ওয়ানডের একমাত্র ব্যাটসম্যান হিসেবে সাতটি ভিন্ন ক্রিকেট মৌসুমে ১০০০ এর ওপর রান করতে পেরেছিলেন। ১৯৯৪, ১৯৯৫, ১৯৯৬, ১৯৯৭, ১৯৯৮, ২০০০ এবং ২০০৩ ক্রিকেট মৌসুমে এই কীর্তি গড়েছেন।

৮.

ক্রিকেট ইতিহাসের একমাত্র ক্রিকেটার হিসেবে সবগুলো টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষে কমপক্ষে দুটি করে সেঞ্চুরি করেছেন টেন্ডুলকার। ২০ বছর হওয়ার আগেই তিনি পেয়ে যান পাঁচটি টেস্ট সেঞ্চুরি। ৩৫ বছর বয়স পার করার পর টেন্ডুলকারের ব্যাট থেকে এসেছে ১২টি টেস্ট সেঞ্চুরি। টেন্ডুলকারের পাশে আছেন কেবল ইংলিশ কিংবদন্তি গ্রাহাম গুচ।

৯.

সাতটি ভিন্ন টেস্ট খেলুড়ে দেশের বিপক্ষে কমপক্ষে এক হাজার করে রান করেছেন টেন্ডুলকার। এই কীর্তি আর কারো নেই। এক হাজারেরও কম রান করেছেন কেবল জিম্বাবুয়ে (৯১৮ রান) ও বাংলাদেশের বিপক্ষে (৮২০ রান)।

১০.

টেন্ডুলকার টেস্ট ক্রিকেটে ছয় মেরে সেঞ্চুরির মাইলফলক ছুঁয়েছেন ছয়বার। আর কেউই এতবার এভাবে সেঞ্চুরি করতে পারেননি।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।