তাঁর অপরাধ – তিনি সত্য বলেন!

রুশাদ ফরিদী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের শিক্ষক, তাঁর অপরাধ তিনি সত্য বলেন, তার আরও বড় অপরাধ তার শিরদাঁড়াটা সোজা।

বিশ্ববিদ্যালয়ে দলীয় শিক্ষক রাজনীতি, অপশিক্ষার বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে তাঁরই বিভাগের অন্যান্য শিক্ষকরা মিলে পেঁয়াজের আড়ৎদারদের মতো সিন্ডিকেট বানিয়ে রুশাদ ফরিদী স্যারকে জোরপুর্বক অনির্দিষ্টকালের জন্য বাধ্যতামূলক ছুটিতে পাঠায়।

রুশাদ ফরিদী তবুও মাথা নত করেননি, কারো কাছে করুনা ভিক্ষা করে চাকরি ফেরত চাননি, তিনি উচ্চ আদালতে যান, উচ্চ আদালত সমস্ত বিচার বিশ্লেষণ করে রুশাদ ফরিদী স্যারের পক্ষে রায়ে বলেন, শিক্ষক সিন্ডিকেটের দেয়া জবরদস্তি মূলক ছুটি অবৈধ, রুশাদ ফরিদী আবার সসম্মানে ক্লাসে ফিরে যেতে পারেন।

ন্যায় বিচার পেলেও সেই শিক্ষক সিন্ডিকেট আজও স্যারকে তার শ্রেনিকক্ষে যেতে দিচ্ছেন না। তাকে ক্লাসে যেতে বাঁধা দেয়া হচ্ছে। অথচ এই শিক্ষক মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের নামকরা বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষকতার পেশা অবলীলায় ছেড়ে দিয়ে বাংলাদেশে চলে এসেছিলেন নিজের দেশের ছেলে মেয়েদের পড়াতে।

এই তার প্রতিদান!

ছাত্র ছাত্রীরা ভয়ে স্যারের যেতে পারছে না, রুশাদ স্যারের পক্ষ নিলে তাঁরা অন্য শিক্ষকদের কুনজরে পড়ে যাবে, পরীক্ষায় মার্কস কম দিবে। ওদের তো যে কোন মূল্যে পাশ করতে হবে, পাশ করে বিসিএস এ সরকারী আমলা হতে হবে!

কিন্তু আগেই তো বলেছি, রুশাদ ফরিদীর শিরদাঁড়াটা বাঁকা নয়, তিনি একাই লড়ে যাচ্ছেন অন্যায়ের বিরুদ্ধে। আজ স্কুলের শিক্ষকরা বাচ্চাদের কেন্দ্রে নকল সাপ্লাই দেয়, শিক্ষক জড়িয়ে পড়ছে চাঁদাবাজির ভাগবাটোয়ারায়, লাল দল নীল দল, সিন্ডিকেট, অর্থাৎ শিক্ষাদান বাদে আর সব কিছুতেই শিক্ষকদের আগ্রহ।

এই কারণেই বিশ্ব র‌্যাংকিংয়ে বাংলাদেশের কোন বিশ্ববিদ্যালয় ধারে কাছেও নেই। আগে জাতীয় দুর্যোগে শিক্ষকদের পরামর্শ নেয়া হতো আর এখন শিক্ষকদের হাতে দেখা মেলে তেলের বোতল। কিন্তু, এদের মাঝেই মাঝে মধ্যে দেখা মিলে রুশাদ ফরিদীদের মতো মানুষদের।

স্যারকে প্রশ্ন করা হয়েছিল, বিদেশের চাকরি ছেড়ে আপনি এখনও কেন এখানে পড়ে আছেন? কেন এভাবে সাফার করছেন? উত্তরে স্যার বলেছিলেন, ‘আমি এইখানে আছি, সাফার করছি, যুদ্ধ করছি, সংগ্রাম করছি, তোমাদের জন্যই। আমি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছি ছাত্র ছাত্রীদের পড়াতে। তাঁদের শেখাতে, তাঁদের জীবনে সামান্য কিছু হলেও জ্ঞান, দক্ষতা এনে দিতে যেটা তাঁদের পরবর্তী জীবনের সহায়তা করতে। আমার কারণে যদি একটিও ছাত্র বা ছাত্রীর জীবনে পজিটিভ কোন পরিবর্তন আসে, এর চেয়ে বড় প্রাপ্তি আর কি হতে পারে। আমার কাছে মনে হয় বাংলাদেশে এইটাই আমার জন্য সবচেয়ে মহত্তম কাজ। এর চেয়ে বেশী সন্তুষ্টির কাজ আমার জন্য এই দেশে আর নেই। তাই আমি এখানে মাটি কামড়ে পড়ে আছি। থাকবো!’

স্যার, আপনি আপনি মাটি কামড়ে পড়ে থাকুন, আপনার মতো শিক্ষক আমাদের এই মুহুর্তে ভীষণ দরকার।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।