মাঝে মাঝে তব দেখা পাই, চিরদিন কেন পাই না

বয়সের বার্ধক্যে স্মৃতি লোপ পেয়েছে বাবার, খুঁজে বেড়াচ্ছেন নিজ গন্তব্য। এদিকে বাবাকে খুঁজতে পথে বেরিয়েছেন তাঁর বড় মেয়ে। বাবা- মেয়ের এই মধুর সম্পর্ক নিয়ে ২০১৮ সালে রেদোয়ান রনির নাটক ‘পাতা ঝরার দিন’ দর্শক মহলে ব্যাপক প্রশংসা থেকে পুরস্কারের জয়জয়কার ছিল।

বাবার চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন শ্রদ্ধেয় সৈয়দ হাসান ইমাম। আর মেয়ের চরিত্রে অভিনয়ের মাধ্যমে অনেকদিন বাদে অভিনয় করেছিলেন এক সময়ের জনপ্রিয় অভিনেত্রী। প্রত্যাবর্তনেই তিনি পেয়েছিলেন সফলতার ছোঁয়া থেকে সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার। এমন প্রত্যাবর্তন বাংলা নাটক বা সিনেমার ইতিহাসে বিরল।

অবশ্য পুরস্কার তাঁর কাছে নতুন কিছু নয়, সেই শিশু শিল্পীর জীবন থেকেই পুরস্কারের সাথে সখ্যতা তাঁর। নতুন কুঁড়ি থেকে প্রস্ফুটিত ফুল হয়ে সুবাস ছড়ানো সেই জনপ্রিয়তম অভিনেত্রী হলেন ঈশিতা। পুরস্কার ব্যাপারটা রীতিমত তাঁর নামের সাথেই জড়িয়ে আছে।

পুরো নাম রুমানা রশীদ ঈশিতা। জন্ম ১৯৭৭ সালের ২২ আগস্ট। ঈশিতা ঢাকার হলিক্রস স্কুল থেকে এসএসসি পাস করেন। উচ্চমাধ্যমিকে ভর্তি হন ভিকারুননিসা নূন কলেজে। এরপর নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ব্যবসায় প্রশাসন বিভাগে স্নাতক করেন। একই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে এমবিএ করেছেন ঈশিতা।

আশির দশকে নতুন কুঁড়ির মাধ্যমে প্রতিভার বিকাশ। গানে,অভিনয়ে পেয়েছিলেন পুরস্কার। বোঝাই যাচ্ছি, অমিত প্রতিভা নিয়ে বাংলাদেশের বিনোদন জগৎ কাঁপাবেন তিনি।

ঠিক সেই সময়েই বিটিভিতে আব্দুল্লাহ আল মামুনের প্রযোজনায় ‘দুজনে’ নাটকে প্রথম অভিনয়ের সুযোগ পান। নাটকে তিনি আফজাল হোসেন ও শান্তা ইসলামের মেয়ের চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন। সেই সময়েই শিশুশিল্পী হিসেবে অভিনয় করে বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন, যেমন দুখু সহ বেশ কিছু নাটক।

শিশু বয়সের পর নব্বইয়ের মাঝামাঝি সময়ে নায়িকা চরিত্রে অভিনয় করা শুরু করেন। প্রথম নাটক ‘তিথি’। এর কিছুদিন পরেই লাক্সের বিজ্ঞাপন করে দারুণ আলোচিত হয়েছিলেন। ঈশিতার ক্যারিয়ারে উল্লেখযোগ্য কাজের মধ্যে টেলিফিল্ম ‘বিহঙ্গ’ সর্বাগ্রে থাকবে।

পক্ষাঘাতগ্রস্ত মেয়ের চরিত্রে দারুন অভিনয় করেছিলেন। এছাড়া জনক, অপরুপা ও লাল বেনারসী এই তিনটি ধারাবাহিক নাটক বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ হয়ে আছে। এছাড়া রোমান্টিক নায়িকা হয়েও ‘ভালোবাসার বৃষ্টি’ নাটকে খল চরিত্রে অভিনয় করে আলোচিত হন। দূরত্ব, হোম ভিডিও, অন্যরকম ভালোবাসা, বৃষ্টি বদল, বিপাশার জন্য ভালোবাসা তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম সেরা নাটক।

ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে বিয়ে করে সংসারে থিতু হন। এরপরই অভিনয়ে অনিয়মিত হয়ে যান। মাঝে মাঝে ঈদ উৎসবে নাটক করতেন। তখনই বেসরকারী টেলিভিশন চ্যানেল আইয়ের বিপণন বিভাগে তিনি যোগদান করেন।

কর্মক্ষেত্রে ব্যস্ত জীবনের পাশাপাশি বেশকিছু নাটক ও নির্মান করেন। তার পরিচালিত নাটকগুলোর মধ্যে নির্জন আড়ালে, স্বপ্ন স্বপ্নীল ও গোধূলি বেলায় অন্যতম।

‘আমাদের গল্প’-এর পর বিরতি দিয়ে ‘পাতা ঝরার দিন’ নাটকে অভিনয় করেন। বলা যায়, এটাই তাঁর ক্যারিয়ারের সেরা নাটক। হইচই অ্যাপে ‘ভালো থেকো ফুল’ শর্টফিল্মে অভিনয় করেছেন।

অভিনয়ের পাশাপাশি গান, নাচেও তিনি প্রতিভাময়ী। তাঁর কণ্ঠে ‘ইশটিশনের রেল গাড়িটা’ গানটা দর্শকরা এখনো মনে রেখেছে৷ অ্যালব্যাম ও বেরিয়েছিল। ম্যাগাজিন অনুষ্ঠান ‘ইত্যাদি’তেও গান গেয়েছেন।

আর নাচে পারদর্শী তো আছেনই। লেখালিখিও করেন। ক’দিন হল সাউথইস্ট ইউনিভার্সিটির স্কুল অব বিজনেসের আওতাধীন মার্কেটিং বিভাগের শিক্ষক হিসেবে যোগদান করেছেন তিনি। সাম্প্রতিক সময়ে কোনো নাটকে অভিনয় না করলেও অতি দ্রুত অভিনয়ে মুগ্ধ হতে পারবো এই আশা রাখি।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।