ক্রিকেট জোয়ারে গা ভাসানো ও ‘আসল’ পদকশূণ্য ভাড়ার

নৃতাত্ত্বিক কারণেই সাতার, দৌড়, কুস্তি, ভারোত্তলন – এমনকি ফুটবলের মতো খেলাতেও আমাদের বিশ্বমানে যাওয়া সম্ভব না। আমাদের শারীরিক গঠন ওরকম দৃঢ় না। এটা শুধু যত্ন নিয়ে সর্বোচ্চ স্তরে নেওয়া সম্ভব না।

ক্রিকেট যেহেতু বৈশ্বিক খেলা নয়; তাই এতে বিশ্বমানে যাওয়া বা না যাওয়া কোনো ব্যাপার নয়।

তাহলে আমরা কী করবো?

অলিম্পিক ইভেন্ট হিসেবে আমাদের সবচেয়ে বেশি নজর দেওয়া উচিত শুটিং, আরচারি ও গলফে। এই খেলাগুলোতে ব্যক্তিগতভাবে ভালো করার মতো কিছু বিষয় আমাদের দেশের অনেক তরুণের মধ্যে ছিলো এবং আছে।

শুটিং খেলাটিতে আমরা কখনোই সম্ভাবনার ব্যবহার করতে পারলাম না। সেই যুগে আতিক-নিনি, সাবরিনা-রিংকি খুব ভালো করেছিলেন। পরে আসিফ তো ইতিহাস করেছিলেন। এরপর আব্দুল্লাহ হেল বাকিও ঝলক দেখিয়েছেন বিভিন্ন সময়।

আজ অবধি অবশ্যই দেশের পক্ষে খেলাধুলায় সেরা সাফল্য আসিফের হাত ধরে এসেছে শুটিংয়ে। কিন্তু আফসোস, আমরা আতিক থেকে আসিফ; কাউকে নিয়ে পরে আর সাফল্যটা পাওয়ার জন্য যা করনীয় করতে পারিনি।

গলফে সিদ্দিকুর তাঁর সেরা সময়ে বেশ কিছু সাফল্য এনে দিয়েছেন; যা খেলাধুলার বিচারে অনেক বড় ছিলো। তিনি সেরা সময়টা পার করে এলেও এখনও বেশ কয়েক জন গলফার আছেন, যাদের যত্ন নেওয়া যেতে পারে।

আরচারির শুরুটা আমাদের এখানে বেশি দিনের নয়। এই ফেডারেশনে অত্যন্ত নিবেদিতপ্রাণ একজন সংগঠক, চপল ভাই আছেন; ফলে এখানে তারা সামর্থের শেষটা দিয়ে চেষ্টা করে চলেছেন। যার ফল আজকের রুমান (রোমান) সানা।

এখন আমাদের একটু অন্যভাবে ভাবতে হবে।

আমাদের পদক লক্ষ্য করে বাজেট করে এই ছেলেগুলোকে নিয়ে কাজ করতে হবে। আমাদের ক্রীড়ামন্ত্রী তরুণ ও ক্রীড়াবান্ধব মানুষ। সরকারে বেশ কয়েক জন ক্রীড়ানুরাগী ও ক্রীড়াবিদ আছেন। তারা মিলে একটা পরিকল্পনা করুন। আরচারি, শুটিং ও গলফে টার্গেট করে খেলোয়াড় নির্বাচন করুন। এদের কাছ থেকে এশিয়ান গেমসে, অলিম্পিকে কী আশা করেন, সেটা ঠিক করুন। এরপর প্রয়োজনীয় বাজেট দিয়ে লম্বা সময়ের জন্য দেশের বাইরে পাঠিয়ে দিন।দশ বছর পর দেখবেন, ফল এসেছে।

ক্রিকেটের জোয়ারে ভেসে গেলে আসল পদকের ভাড়ারটা শূণ্যই থেকে যাবে।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।