বাংলাদেশের ব্রুস লি রুবেল

বলছি ১৯৮৬ সালের কথা। ভিসিআর এবং এক টিকেটে দুই ছবির মাধ্যমে ব্রুস লি আমাদের হৃদয় দখল করে আছে। কারাটে মানে ব্রুস লি, কুংফু মানে ব্রুস লি।

ঘরে ঘরে (যাঁরা মার্শাল আর্ট পছন্দ করে তাঁদের ঘরে) ব্রুস লি’র ছবি। মার্শাল আর্ট ভিত্তিক ক্লাবগুলোয় ব্রুস লি’র ছবি শোভা পেতো।

তখনো কি কেউ ভেবেছে! ব্রুস লি’র ছবির পাশাপাশি একজন বাংলাদেশি নায়কের ছবিও শোভা পাবে। কোনো কোনো ক্লাবে ব্রুস লি’র চেয়ে একজন বাংলাদেশী নায়ক গুরুত্ব পাবে। আর সেই নায়কের নাম রুবেল।

১৯৮৬ সালে যখন লড়াকু মুক্তি পায়, তখন সাথে সাথে আমি ছবিটি দেখতে পারি নি। কয়েক সাপ্তাহ পরে দেখতে যাই। কিন্তু টিকেট পাচ্ছিলাম না। বেশি দাম দিয়ে ব্ল্যাকার থেকে নিয়েছি। আমার এখনো মনে আছে ৬ টাকার টিকেট ৯ টাকায় কিনেছিলাম বাধ্য হয়ে।

হলের ভিতর তিনশ্রেণির দর্শক বেশি দেখলাম। ছাত্র, তরুণ এবং যুবক। ছবি দেখার পর বের হয়ে এলাম। সিনেমার কডিডোরে দুই বন্ধুকে দেখলাম রুবেলের অনুকরণ করতে। তাঁরা ডুয়েল লড়ছে। মানে দু’জনই রুবেলকে অনুকরণ করছে।

রুবেল মার্শাল আর্ট দিয়ে সিনেমা হলের নতুন ইতিহাস তৈরী করলো। রুবেলের নামের উপর ছবি চলতো। কাহিনী যেমনই হোক রুবেলের ছবি মানে কাউন্টারে ছাত্র, তরুণ, যুবকের ঠেলাঠেলি কাউন্টারে। সত্যি বলতে কি, আমি ছাড়া আমার অনেক বন্ধুরা শুধু রুবেলের মার্শাল আর্ট দেখতে যেত।

আমি একটু কাহিনী পাগল। আমি কাহিনীও উপভোগ করতাম।

রুবেল অভিনীত ছবিতে তিনটি আকর্ষণীয় থাকতো। এক. টানটান উত্তেজনাকর কাহিনী। দুই. মার্শাল আর্ট এর নতুন নতুন কৌশল। তিন. শ্রুতিমধুর গান।

রুবেল নায়িকা নির্ভর নায়ক নয়, তবে কবিতার সাথে ভালো লাগতো। রুবেল অভিনীত গানগুলো শ্রুতিমধুর। এখনো অনেক গানের জনপ্রিয়তা আছে।

বিপ্লব ছবিটি চট্টগ্রামে পাঁচটি হলে চলছিলো। আমি প্রথম সাপ্তাহে এক এক করে প্রতিটি হলে যাই।কিন্তু টিকেট পাই নি। তৃতীয় সাপ্তাহে অনেক কষ্ট করে দেখি।

রুবেল যেন মাদক ছিলো। রুবেলের ছবি মানে ছাত্র, তরুণ, যুবক পিঁপড়া আর যে হলে রুবেলের ছবি চলতো। সে হলো গুড়ের চাক।

অনেকে রুবেলের নামে সন্তানের নাম রাখা শুরু করলো। অনেকে নিজের নামের ব্র্যাকেটে রুবেল নাম রাখা শুরু করলো। রুবেল ১৯৮৬ থেকে ১৯৯৮-৯৯ পর্যন্ত মাদক ছিলো। রুবেলের ছবি মানে সিনেমা হল মালিকদের পোয়াবারো।

রুবেল ছিলো তখন তারুণ্যের প্রতীক, রুবেল ছিলো প্রতিবাদের প্রতীক। রুবেল ছিলো বাংলাদেশের ব্রুস লি। সেই রুবেলকে আজ আর পাওয়া যায় না। সব ভাল কিছুর মত রুবেলের সেই গ্ল্যামারও আজ আর নেই।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।