রটেন টম্যাটোজ: দ্য আনটোল্ড স্টোরি

নতুন কোন সিনেমা কিংবা ওয়েব সিরিজ মুক্তি পেলে আমরা তার আগাগোড়া জানতে এখানে ওখানে ঢুঁ মারি। কোন কিছু দেখার ক্ষেত্রে আমাদের কাছে রেটিংয়ের একটা অন্যরকম প্রাধান্য আছে। বিভিন্ন ওয়েবসাইট আছে যেখান থেকে আমরা সহজেই রেটিং জেনে নিতে পারি। সেলুলয়েড প্রেমীদের দুইযুগ ধরে সেবা দিয়ে আসা তেমনই একটি বিশ্বস্ত আর জনপ্রিয় সাইট হচ্ছে রটেন টম্যাটোজ।

  • স্বপডালের বিস্তৃতি

মানুষ তাঁর স্বপ্নের সমান বড়। কারো কারো বড়ত্বটা তার পাগলামির সমান। দুনিয়াজোড়া খ্যাতি জ্যাকি চ্যানের। খ্যাতি আছে রটেন টম্যাটোজেরও। নামটা পরিচিত ঠেকছে? সিনেমা কিংবা টিভি, ওয়েব সিরিজপ্রেমী মাত্রই এই নাম সুপরিচিত। ‘রটেন টম্যাটোজ’ একটি রিভিউ সাইট যার প্রতিষ্ঠাতা সেনহ ডুয়্যং। সেনহ জ্যাকি চ্যানের ভক্ত। জ্যাকির মুভি দিয়েই চেয়েছিল নিজের স্বপ্নের যাত্রা শুরু করতে। স্বপ্ন দেখাটাও জ্যাকির জন্যেই।

তার নতুন সিনেমার সম্পর্কে জানতে গিয়ে ড্যুয়ংয়ের মনে হলো, বিভিন্ন জায়গায় না ঘেঁটে যদি এমন কিছু থাকত যেখানে সব সমালোচকদের আলোচনা সমালোচনা একত্রে থাকবে তাহলে কতই না সুবিধে হতো। সেই ভাবনা থেকেই ওয়েবসাইটের চিন্তার আগমন। কুংফু মাস্টারকে ঠিক এই কারণেই শুরুতে টেনে আনা।

  • গল্পের শুরু

রটেন টম্যাটোজ। মানে পঁচা টমেটো। অদ্ভুতুড়ে নাম দেওয়ার পেছনের কারণটাও অন্যরকম। ১৯৯২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ফরাসি ভাষার ফ্যান্টাসি ড্রামা মুভি ‘লিওলো’তে হিরো নিজেকে টমেটো হিসেবে কল্পনায় ভাবে। তাছাড়া পঁচা টমেটোর একটা বিশেষত্বও আছে। কোন বক্তৃতায় ভুলভাল কিছু হলেই বক্তার দিকে পঁচা টমেটো ছুঁড়ে মেরে মানুষ বোঝায়, তুমি অখাদ্য গিলিয়ে যাচ্ছো!

ওয়েবসাইটের নামকরণের পিছনে এটারও প্রভাব আছে। শুরুতে ড্যুয়ং চেয়েছিল অন্য নাম রাখতে। থাম্বস আপ বা থাম্বস ডাউন নাম রাখতে চাইলেও আগেই তা অন্য কেউ নিবন্ধন করে নেওয়ায় তা আর হয়নি। ড্যুয়ং তখন ডিজাইন রিয়্যাক্টর নামের একটা ওয়েব ডিজাউন স্টুডিওতে কাজ করত। প্রায় দুইসপ্তাহের পরিশ্রমে নিজের ওয়েবসাইট দাঁড় করানোর কিছুদিন পর এখানে সময় দিতে চাকরিটা ছেড়ে দেন।

সঙ্গে নিয়ে নেন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে তার সহপাঠী প্যাট্রিক লি এবং অফিসের কলিগ স্টিফেন ওয়াংকে। ১৯৯৮ সালের ১২ই আগস্ট সব ঘোষণা দেন এবং ১৮ই আগস্ট ‘ইওর ফ্রেন্ডস অ্যান্ড নেইবারস’ (Your friends & neighbors) নামক সিনেমার রিভিউ দেওয়ার মাধ্যমে শুরু হয় যাত্রা। যদিও ড্যুয়ং চেয়েছিল প্রিয় তারকা জ্যাকি চানের প্রথম হলিউড প্রজেক্ট ‘রাশ আওয়ার’ (Rush Hour) দিয়ে যাত্রা শুরু করতে। কিন্তু ১৯৯৮ সালের ২০ আগস্ট মুক্তির কথা থাকলেও সেটি পিছিয়ে সেপ্টেম্বরে নেওয়া হয়। এদিকে সাইটের সব সেটআপ সম্পন্ন করে ফেলায় অগত্যা ওই মুভি দিয়েই শুরুটা করতে হয়। অল্পদিনেই চারদিকে সাড়া ফেললে আটঘাট বেঁধেই নামেন মাঠে।

  • যেভাবে মার্কিং করা হয়

রটেন টম্যাটোজে এখন প্রায় তিন হাজারের মতোন ক্রিটিক আছেন। সবাই সব মুভির রিভিউ না দিলেও কয়েকশো জন নিয়মিত রিভিউ দেন। তাদের রিভিউ পর্যালোচনার দায়িত্বে আছেন একদল কিউরেটর। ৬০% এর নিচে যদি সিনেমা মার্ক করা হয় তাহলে সেটি রটেন মুভি। ৭৫% নাম্বার পেলে সেই মুভি পার্মানেন্ট একটা সার্টিফিকেট পায় ফ্রেশ মুভি হিসেবে।

রটেন টম্যাটোজে ঢুকলে দুইধরনের মার্কিং দেখা যায়। টম্যাটো মিটার এবং অডিয়েন্স স্কোর। টমেটো মিটার হলো তাদের নিজস্ব সমালোচকের ভাবনার সম্মিলিত ফল। সেখানে কমপক্ষে পাঁচজন টপক্লাস ক্রিটিকের ফ্রেশ রিভিউ থাকে সেটি ফ্রেশ স্বীকৃতি পায়। এছাড়াও ক্রিটিকরা A, A+, এভাবে সিনেমাকে মার্ক করেন।

আর অডিয়েন্স স্কোর হচ্ছে দর্শকের দেওয়া রেটিং। ওখানে নিবন্ধন করে যে কেউ যে কোন সিনেমাকে ১-৫ এর মধ্যে রেটিং দিতে পারবে। সেখানেও ৩.৫ এর নিচে রেটিং পাওয়া মুভিগুলো রটেন হিসেবে গণ্য হয়।

  • চিহ্ন

মুভিটি রটেন নাকি ফ্রেশ তা বুঝা যায় দুটো সিম্বলের মাধ্যমে। পঁচা হলে পপকর্ণসমেত একটি লালঝুড়িকে নিচে পড়ে থাকা অবস্থায় দেখতে পাওয়া যাবে আর মুভিটি ভালো তা প্রমাণ করবে পাশের পপকর্ণভর্তি সবুজ বাকেট। আর যদি নীল রংয়ের যোগ চিহ্ন দেখায় তাহলে বুঝতে হবে ওই সিনেমা বা সিরিজে এখনো কোন রিভিউর দাগ পড়েনি!

  • মালিকানা

২০১০ সালে রটেন টম্যাটোর পেটেন্ট কিনে নেয় সোশ্যাল নেটওয়ার্কিং মুভি সাইট ফ্লিকস্টার। সেখান থেকে ২০১৬ সালে হাতবদল হয় ফানডাঙ্গোর কাছে। তবে ফানডাঙ্গো একা পুরোটার মালিক নয়, তারসঙ্গে শেয়ার আছে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ওয়ার্নার ব্রো’স এন্টারটেইনমেন্ট এবং মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানি এনবিসি ইউনিভার্সালের। মেজরিটি শেয়ার অবশ্য এনবিসির কাছেই।

  • একনজরে

প্রতিষ্ঠা: ১২ আগস্ট ১৯৯৮

প্রতিষ্ঠাতা: সেনহ ড্যুয়ং

প্রথম রিভিউ: ১৮ আগস্ট ১৯৯৮

প্রথম ছবি রিভিউ: ইওর ফ্রেন্ডস অ্যান্ড নেইবারস

শতভাগ মার্ক পাওয়া কিছু মুভি: সিটিজেন কেন (১৯৪১), ম্যারি পপিন্স (১৯৬৪), দ্য সুইট হেয়ারআফটার (১৯৯৭), ম্যান অন ওয়াইর (২০০৮), ব্যাড জিনিয়াস (২০১৭)।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।