আমরা রোনালদোর সময়ে বেঁচে আছি

এর আগেই ক্যারিয়ারে হ্যাটট্রিকের হাফ সেঞ্চুরিটা করেই ফেলেছিলেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। তবে, নিসন্দেহে ৫১ তম হ্যাটট্রিকটাই  এখন থেকে তাঁর সবচেয়ে প্রিয়। বিশ্বকাপের মঞ্চে এটাই যে প্রথম হ্যাটট্রিক। সেটাও যখন আবার স্পেনের মত পরাক্রমশালী ফেবারিটদের বিরুদ্ধে তখন রোনালদো উদযাপন তো বাড়তি মাত্রা পাবেই।

বিশ্বকাপের আগে থেকে হলেও খুব মৃদু স্বরে ফুটবল পন্ডিতরা বলে আসছিলেন পর্তুগালের বিশ্বকাপ জয়ের সম্ভাবনার কথা। উপমহাদেশীয় আমরা সেসব শুনেও না শোনার ভান করেছি। রোনালদো আর তার উপায় রাখলেন না। সাবেক চ্যাম্পিয়ন স্পেনের বিরুদ্ধে এমন অতিমানবীয় ড্রয়ের পর তাঁদের শিরোপার দৌড়ে না রেখে আর উপায় নেই।

বলা ভাল পর্তুগালকে এই তকমা পাওয়ার কাজটা ৮০ ভাগই করে দিয়েছেন স্বয়ং সি আর সেভেন। ক্লাব ফুটবলে তিনি অতিকায় এক তারকা। লিওনেল মেসি না থাকলে হয়তো বিনা বাক্য ব্যয়ে তাঁকেই সময়ের সেরা বলে দেওয়া যেত। জাতীয় দলে মান সম্পন্ন সতীর্থ নেই বলেই খুন বেশি আলোচনাও হয় না।

তবে সর্বশেষ ইউরো জয় করে রোনালদোই আলোচনার মঞ্চটা প্রস্তুত করে দিয়েছেন। এবার টানা আটটা বৈশ্বিক ফুটবল টুর্নামেন্টে গোল করে জানিয়ে দিলেন বিশ্বকাপে তাঁকে ও পর্তুগালকে নিয়ে আলোচনা চলতেই পারে।

এবারের বিশ্বকাপেও এটা প্রথম হ্যাটট্রিক। তারই সৌজন্যে রাশিয়া বিশ্বকাপে অনবদ্য এক ম্যাচের দেখা মিললো। রোনালদোর সাথে সমান তালে লড়েছেন দিয়েগো কস্তা। কিন্তু, পারেননি।

পুর্তগাল কোচ ৪-৪-২ ফর্মেশনে খেলান দলকে। আর স্পেন ৪-২-৩-১ ফর্মেশনে খেলে। খেলার শুরুর চার মিনিটের মাথায় রোনালদোর আক্রমন রুখতে নাচো পেনাল্টি বক্সে ফাউল করলে। স্পট কিক পাই পুর্তগাল যা কাজে লাগিয়ে দলকে লিড এনে দেন রোনালদো। এরপর বলের পজিশন আনেকটা বেড়ে যায় স্পেনের।

২৪ মিনিটে কাউন্টার অ্যাটাকে চমৎকার গোল করেন অ্যাটলেটিকো মাদ্রিদের কস্তা। এরপর ইস্কো, ইনিয়েস্তারার একের পর এক আক্রমণ চালাতে থাকে। স্পেনের টিটিকাকায় মুগ্ধ হয় রাশিয়ার দর্শকা।

সার্জিও বুসকেটসের অ্যাসিস্টে ৫৫ মিনিটে স্পেনকে সমতায় ফেরান কস্তা। এর তিন মিনিট পরেই চমৎকার এক শটে স্পেনকে লিড এনে দেই নাচো। এরপর আক্রমন পাল্টা আক্রমনে চলতে থাকে খেলা। আর স্পেন সমার্থকরা জয় নিয়ে মাঠ ছাড়বে ভাবছিল, এমন সময় রোনালদোকে ডি-বক্সের কিছুটা বাইরে ট্যাকল করেন পিকে। আর এ ফ্রি-কিক থেকে ৮৮ মিনিটে রোনালদো অবিস্মরণীয় এক গোল করেন। সি আর সেভেনের এই পারফরম্যান্স গোটা টুর্নামেন্ট জুড়ে চললে পর্তুগাল বড় কিছু করেও ফেলতে পারে।

আমরা সৌভাগ্যবান যে, রোনালদোর সময়ে বেঁচে আছি!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।