রোনালদোরা হারিয়ে যাবেন না

‘এযাবৎকালে অনেককেই নতুন জর্জ বেস্ট বলে ডাকা হয়েছে। তবে, প্রথমবারের মত ডাকটাকে নিজের জন্যই একটা সম্মান বলে মনে হচ্ছে।’ – জর্জ বেস্ট

১৯৮৫ সালের পাঁচ ফেব্রুয়ারি!

পর্তুগালের মাদেইরা শহরে দুঃখিনী এক মায়ের গর্ভে ছেলেটির জন্ম, অভাবের সংসারে বোঝা বাড়াতে চাইলেন না মা, তাই গর্ভেই ছেলেটিকে পৃথিবীর আলো থেকে দূরে সরিয়ে দিতে চাইলেন। কিন্তু শেষপর্যন্ত ডাক্তারের হস্তক্ষেপে এ যাত্রায় ছেলেটি বেচে যায়, সুন্দর এই পৃথিবীতে আলোর মুখ দেখতে পায়। ছেলেটার বাবা জোসে ডিনিস অ্যাভেইরো একজন সামান্য মালি আর মা মারিয়া দোলারেস দস সান্তোস আভেইরা ছিলেন কুক।

পরিবারের অভাবটা এই ছেলেটা সেই বয়সেই বুঝতেন, ভাই-বোনের সাথে বেড শেয়ার করতেন, পরিবারের কাজে হাত লাগাতেন। সেই ছেলেটার দুচোখ ভরা স্বপ্ন ছিলো, একদিন তারা অনেক বড় বাড়িতে থাকবে, বাবা কে একদিন মনের কথা বলে ফেললো, মাইকেল জ্যাকসনের মতো একদিন তাদেরও বড় একটা বাড়ি থাকবে। কিন্তু তার বাবা হেসে তার কথা উড়িয়ে দিলো, তাই কি হয়!

পিচ্চি এই ছেলেটার সবচেয়ে বড় স্বপ্ন ছিলো ফুটবলার হওয়া, মাঠ দাপিয়ে বেড়ানো। ছোটবেলায় যখন তার পাসে কেউ গোল না করতে পারতো তখন কেঁদে দিতেন, এই কাঁদা টা ছিলো নিত্যনৈমিত্তিক ঘটনা, একটা ছেলে পুরো মাঠ বল দখল করে শেষবেলায় যখন বন্ধুদের বারবার পাস দিতো তখন তার টিমমেটরা গোল করতে পারতো না। আর সেটা সহ্য না করতে পেরে ছেলেটা কেঁদে দিতো, যার ফলে তার নাম হয়ে গেলো ‘ক্রাই বেবি’ আর সেই বয়সেই ছেলেটার দুর্দান্ত স্পিডের জন্য তাকে ডাকা হতো ‘লিটল বি’।

ফুটবলের প্রতি ছেলেটার ভালোবাসা টা ছিলো প্রিয়তমার চুম্বনের চেয়েও বেলি। কিন্তু বিধি বাম! ‘রেসিং হার্ট’ নামক ভয়ানক হার্টের সমস্যার কারণে তার ক্যারিয়ারই ধ্বংস হয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছিলো, যদিও পরে অপারেশন করে এ যাত্রায় বেচে যায় ফুটবলে বিভোর সেই ছেলেটা।

মাত্র বারো বছর বয়সেই স্পোর্টিং লিসবনের হয়ে ক্যারিয়ার শুরু করা ছেলেটা সে বয়সেই লোকজনের নজর কাড়েন। অবশ্য এই ক্লাবে জয়েন করার পিছনে তার চেয়ে তার বন্ধুর অবদানই হয়তো বেশি! স্পোর্টিং লিসবন যখন তরুন ফুটবলারদের ট্রায়াল নিতে আসলো তখন তারা বলেছিলো নির্ধারিত সময়ের মধ্যে যে সবচেয়ে বেশি গোল করবে তাকেই সিলেক্ট করা হবে। সেই ম্যাচে প্রথম গোল করেছিলো অভাবি সেই ছেলেটা, কিন্তু পরের গোলটা করেন অ্যালবার্ট নামে তার এক বন্ধু ।

ম্যাচের শেষ গোলটাও সেই অ্যালবার্ট করে ফেলতেন কিন্তু শেষ মুহুর্তে সে পাস দেয় তার প্রিয় বন্ধু রোনালদো নামের সেই ছেলেটাকে। যার ফলে রোনালদো সর্বোচ্চ গোল করে চলে যান স্পোর্টিং সিপির অ্যাকাডেমিতে। পরবর্তীতে সাংবাদিক রা যখন অ্যালবার্টকে জিজ্ঞেস করে ছিলো, তিনি কেন এ কাজ টি করলেন? তখন শুধু তিনি বলেছিলেন, ‘হি’জ বেটার দ্যান মি!’

২০০২ সালের ৭ অক্টোবর অভিষেক ম্যাচেই করেছিলেন জোড়া গোল। ঐ সময় তাকে আর্সেনাল, বার্সেলোনাসহ বড় বড় ক্লাবগুলোই তাদের দলে ভেড়াতে চেয়েছিলো। প্রথম মৌসুমে করেছিলেন ৩২ ম্যাচে ৫ গোল। তবে ক্রিষ্টিয়ানোর জীবনে সবচেয়ে বড় মোড় আসে ২০০৩ সালে, এক প্রীতি ম্যাচে মুখোমুখি হয়েছিলো তৎকালীন ইউরোপিয়ান জায়ান্ট ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড আর রোনালদোর স্পোর্টিং সিপি।

তারকায় ঠাসা রেড ডেভিলরা ম্যাচের আগে শিরোনামে এগিয়ে ছিলো, কিন্তু মাঠের লড়াইয়ে হেরে যায় তরুন রোনালদোর কাছে। ম্যাচ শেষে গ্যারি নেভিল, রয় কিন, গিগস রা তাই ডেসিংরুমেই স্যার ফার্গিকে বলেছিলো, ইংল্যান্ডের লাল দূর্গে কোকরানো চুলের এই সুদর্শন তরুন কে তাদের চাই! স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনও তার বয়সী ফুটবলারদের মধ্যে সবচেয়ে বেশী ১২ মিলিয়ন দিয়ে তাকে ইংল্যান্ডে উড়িয়ে নিয়ে আসলেন। অথচ সেই ম্যাচে রোনালদো মাঠেই থাকতেন না! স্পোর্টিং সিপির কারেজমাকে বার্সেলোনা সাইন করানোতেই তার জায়গাতেই মাঠে নামে তরুন এই উইংগার। আর তাতেই কপাল খুলে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো ডস সান্তোস আভেইরার, আর কপাল পুড়ে স্পোর্টিং সিপির ম্যানেজমেন্টের।

ইংল্যান্ডে এসে রোনালদোর চাওয়া ছিলো ২৮ নম্বর জার্সি, কিন্ত ফার্গুসন হিরা চিনতে ভুল করেন নি, তার গায়ে চড়িয়ে দেন জর্জ বেস্ট, রবসন, বেকহ্যামদের লিজেন্ডারি ৭ নং জার্সি। রেড ডেভিল দের হয়ে রোনালদো প্রথম মাঠে নামেন বদলী হিসেবে বোল্টনের বিপক্ষে।

২০০৩ মৌসুমে সর্বপ্রথম রেড ডেভিলদের হয়ে প্রথম গোল করেন দৃষ্টিনন্দন এক ফ্রি-কিকে, ঐ মৌসুমেই এফএ কাপ ফাইনালেও মিলওয়ালের বিপক্ষে গোল করেছিলেন। ৩-০ গোলের জয় নিয়ে এফএ কাপের শিরোপাও জিতে নেয় রোনালদোর ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড, তুলে ধরেন ক্যারিয়ারের প্রথম শিরোপা। ২০০৭-০৮ সিজন ছিলো রোনালদোর ইউনাইটেডের হয়ে সেরা বছর, প্রতিপক্ষের গোলকিপারকে ৪২ বার পরাস্ত করে বল জালে ঢুকান, দলকে উপহার দেন আরাধ্যের ইংলিশ লিগ, আর চ্যাম্পিয়নস লিগ। ঐ বছরই ক্যারিয়ারে সর্বপ্রথম ব্যালন ডি অর জিতেন।

২০০৯ সালে পেরেজের চোখে পড়ে রেকর্ড ৯৪ মিলিয়নে পাড়ি জমান স্পেনের রিয়াল মাদ্রিদে, গায়ে চড়ান ঐতিহ্যবাহী শুভ্র সাদা জার্সি। আর ইংল্যান্ডের ৬ বছরের ক্যারিয়ারে রেড ডেভিলদের হয়ে ২৯২ ম্যাচে ১১৮ গোল করার পাশাপাশি দলের হয়ে উঁচিয়ে ধরেন এফ এ কাপ, চ্যাম্পিয়নস লিগ, ক্লাব ওয়ার্ল্ড কাপসহ তিন তিনটা প্রিমিয়ার লিগ ট্রফি, জায়গা করে নেন ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের সর্বকালের সেরা দের কাতারে, ব্যাক্তিগত অর্জনে ত তাকে পিছনে ফেলা অসাধ্য বৈকি!

রিয়াল মাদ্রিদে এসে রীতিমতো গোলমেশিনে পরিনত হয়ে উঠেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো, টানা সাত মৌসুমে করেন ফেলেন ৫০-এর বেশি গোল। ইউরোপের এক ক্লাবের হয়ে দ্রুততম সাড়ে তিনশো গোল কিংবা লা লিগায় দ্রুততম আড়াইশো গোলের কোটা স্পর্শ করা, দ্রুততমের রেসে বরাবরই এগিয়ে গোলমেশিন রোনালদো। আরাধ্যের ডেসিমা জয় টা মাদ্রিদের জন্যে বরাবরই স্বপ্ন ছিলো, ২০১৩-১৪ সিজনে গ্যালাক্টিকোদের সেই আশা টাও পূর্ণ করেন, এক মৌসুমে চ্যাম্পিয়ন্স লিগে রেকর্ড ১৭ গোল করে আরো একবার নিজেকে নিয়ে যান উচ্চ থেকে উচ্চতর স্থানে।

দেশের হয়ে ছেলেটার প্রথম কোন মেজর টুর্নামেন্ট ছিলো ০৪ সালের ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ, ৪১৮ মিনিট খেলে দলের হয়ে দুই গোলের পাশাপাশি করেছিলো দুই অ্যাসিস্ট, ভাগ্যটা নেহায়েৎ মন্দ বলেই হয়তো ফাইনালে গ্রীসের কাছে হেরে ট্রফি টা ছোঁয়া হয়নি ক্রিশ্চিয়ানোর। তবে হয়েছিলেন টুর্নামেন্টের সেরা তরুণ, ০৪/০৫ এর ফিফার সেরা উদিয়মান তারকা। ফাইনালে হেরে সে কি কান্না!

এরপরের বছর বিশ্বকাপে আবারো পর্তুগাল এর হয়ে সেমিফাইনাল খেলেছিলেন, অভিজ্ঞ ফিগোদের সাথে তরুন রনের মিশেলে সেবার ভালো কিছুর প্রত্যাশায় ছিলো পর্তুগিজ রা, টুর্নামেন্টে গোলও পেয়েছিলো রোনালদো। এরপরে ফিগোর বিদায়ের পরে একা হাতে পর্তুগাল কে নিয়ে কিছু করে দেখানোর স্বপ্ন দেখায় ছেলেটা, যদিও কখনো ইঞ্জুরি কখনো দলীয় ব্যার্থতায় সেভাবে কিছুই করতে পারেনি।

তবে ১২ সালের ইউরোতে ঠিকই দলকে একক নৈপূন্যে নিয়ে গেছিলেন সেমিফাইনালে, ১৪ র বিশ্বকাপের মূল পর্বে পর্তুগালের অংশগ্রহণ করতে পারার পেছনের কারিগর ছিলো একজন রোনালদো। ক্লাবের হয়ে ভুরি ভুরি ট্রফি জেতা ক্রিষ্টিয়ানো জিতেছেন ৪ টি ব্যালন ডি অরও, টানা ৭ মেজর টুর্নামেন্টে গোল, চার টা ইউরোতে গোল কিংবা ৩ ইউরোর সেমিফাইনাল খেলা একমাত্র ফুটবলারও এই ক্রিষ্টিয়ানো রোনালদো।

বয়স নাকি মানুষ কে কাবু করে দেয়? অথচ এই রোনালদো যেন দিনকে দিন যুবক হচ্ছেন, ২০১৬ টা ত তাই তার ক্যারিয়ারেরই সেরা বছর। জাতীয় দলকে প্রথম কোন আন্তর্জাতিক ট্রফির ছোঁয়া পাইয়ে দেন, গোটা টুর্নামেন্টে পর্তুগালের ৯ গোলে তার অবদান ৫ গোলে, গুরুত্বপূর্ণ ৩ খানা গোলই এই জাদুকরের পা থেকে আসে। ফাইনালে অপ্রত্যাশিত ভাবে ইঞ্জুরিতে পড়ে লাখো ভক্ত কে কাঁদিয়ে মাঠ ছাড়লেও ঠিকই ডাগ-আউট থেকেই সত্যিকারের দলনেতার মতো দলকে জেতার ইন্ধন জুগিয়েছেন। গ্রহের একমাত্র ফুটবলার হিসেবে একই বছরে ব্যালন ডি অর, ইউরো পটি, সাথে দলগত ভাবে ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ, চ্যাম্পিয়ন্স লিগ আর সুপার কাপ, আর ক্লাব বিশ্বকাপ জিতেছেন। নতুন বছরে জিতেছেন ‘ফিফা দ্য বেস্ট’ অথচ সব কিনা অই একত্রিশের কোঠাতেই করেছিলেন!

আর ২০১৭? টানা দু’বার ‘ফিফা দ্য বেস্ট’ জয়ের পাশাপাশি পঞ্চমবারের মতো ব্যালন ডি জয় করে নাম লেখান তার সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসির পাশে। টানা চারবার লিও’র ব্যালন ডি অর জয় দেখেও দমে না গিয়ে এই লোকটা কঠোর পরিশ্রম করেছেন, অদম্য ইচ্ছাশক্তির কাছে হার না মেনে এই বুড়ো বয়সেও তাক লাগিয়ে এই গৌরব অর্জন করেছেন। রিয়াল মাদ্রিদ কে জিতিয়েছেন টানা তিনবার চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা, আরাধ্যের লা লিগার ট্রফি!

খেলোয়াড় রোনালদো কে ত খুব ভালো করেই চিনেন, ব্যাক্তি রোনালদো কে কতটুকু চিনেন?

নুহাজাত নামের ছোট্ট এক বাচ্চা রোনালদোর খুব বড় ফ্যান, কিন্ত পোড়া কপাল ছিলো বাচ্চাটার, ওইটুকু বছর বয়সেই যে তাকে আচ্ছন্ন করে রেখেছিলো ভয়ানক ক্যান্সারের মায়াজাল। একদিন বাবা-মার সাথে প্রিয় রোনালদোর খেলা দেখতে গিয়েছিলেন, সেদিনই সব জেনে ছোট্ট নুহার সব দায়িত্ব নিজ কাধে নেন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। কিন্তু ভাগ্যের পরিহাসে কয়েক মাসে পরেই মারা যায় নুহাজাত। খবর টা কানে যায় রনের, সেদিনই গোল করে প্রয়াত নুহাজ কে উৎসর্গ করেন, প্রতীজ্ঞা করেছিলেন যে!

ডেভিড নামের আরেকটা ছেলের কাহিনি জানেন কি? অই যে পোলিশ এক তরুন সাইক্লিংয়ের সময় ট্রাকের ধাক্কায় পাহাড়ের খাদে। টানা ৩ মাস কোমায় ছিলেন, একদিনের জন্যেও জ্ঞান ফিরে পান নি। ডাক্তাররাও তখন হাল ছেড়ে দিয়েছে, আর কত? তবে উপরওয়ালা জানতেন তার বান্দা এত তাড়াতাড়ি তার কাছে ফিরে আসবে না, হঠাত করেই ডেভিডের মা র মনে পড়লো তার ছেলেটা ক্রিশ্চিয়ানোর কট্টর ফ্যান, আরেকটা চেষ্টা করেই না হয় দেখা যাক!

সেদিনই তাঁর প্রিয় ফুটবলার রোনালদোর পর্তুগাল প্লে অফে লড়ছিলো সুইডেনের সাথে। এক রেডিও স্টেশন ম্যাচের ধারাভাষ্য শোনাচ্ছিলো, ডেভিডের মা রেডিও টা তার কানের পাশে রেখে দিলেন। ম্যাচের তখন টানটান উত্তেজনা, ২-২ এ সমতা। ঠিক তখনই রোনালদো হ্যাট্ট্রিক করে দলকে জয়ের বন্দরে নিয়ে গেলেন, ধারাভাষ্যকার চিৎকার দিয়ে বলে উঠলেন ‘ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোওওও…’

সাথে সাথেই চোখ মেলে তাকালো মৃত্যুর সাথে পাঞ্জা লড়তে থাকা ডেভিড! এটাকে যদি আপনি পাওয়ার অফ ফুটবল বলেন, স্রষ্টার দয়া বলেন, একজনের প্রতি নিখাদ ভালোবাসাও বলবেন! ক্রিশ্চিয়ানো তার মনের কতটুকু জুড়েই না ছিল!

আমি শুনেছি এক ইন্দোনেশিয়ান শিশুর কথা, যার পরিবার ভয়াবহ বন্যায় ভেসে গিয়েছিলো, উদ্ধার হয়েছিলো ঐ শিশুটি, যার গায়ে ছিলো ক্রিশ্চিয়ানোর জার্সি। পরবর্তী তে যার সকল দায়িত্ব নিয়েছিলো একজন ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো।

আপনি ক্রিশ্চিয়ানোর সমালোচনা করার আগে তাকে নিয়ে গভীর ভাবে পর্যালোচনা করুন, দেখবেন তার নিকট থেকে আপনার অনেক কিছুই শেখার আছে। প্রিয় বাবা অধিক মদ্যপানে মারা গিয়েছিলো বলে জীবনেও তা ছুঁয়ে দেখেন নি, শুধুমাত্র রক্ত দান করার জন্যেই ইউরোপের ফ্যাশন ট্যাটু শরীরে আর্ট করেন নি।

 

স্যার অ্যালেক্স ফার্গুসনকে তিনি বাবার মতই ভালবাসতেন। তিনি একদিন বলেছিলেন, ‘গেল ২০ বছরে  আমি ক্লাবে অনেক গ্রেট খেলোয়াড় পেয়েছে। আর এর সবার মধ্যেই ও (রোনালদো) সেরা।’

নেদারল্যান্ডস ও বার্সেলোনার কিংবদন্তি ইয়োহান ক্রুইফ বলেছেন, ‘ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো জর্জ বেস্ট ও ডেনিস ল, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের প্রতিভাবান ও গ্রেট ফুটবলারের চেয়ে অনেক এগিয়ে।’

কি হবে এই রোনালদো অবসর নিলে? রাত জাগা ছেলেটা হয়তো আর কখনোই মাঝ রাতে টিভির সামনে বসবে না, অনলাইনে ঢুকেই স্ট্রিমিং খুঁজবে না। পকেট খরচ বাঁচিয়ে প্রিয় রনের জার্সি কিনবে না। বন্ধুদের সাথে ঝগড়া করবে না, খেলা নিয়ে পাগলামো করা ছেলেটা আর কখনোই খেলার নেশায় বুদ হবে না।

এই যে এত অর্জন, এত শিরোপা এগুলো দিয়ে কখনো এই ছেলেটাকে মাপবেন না, শুধু ভাববেন ক্যারিয়ারের পুরোটা জুড়েই তাকে লড়তে হয়েছে মেসি নামের এক জাদুকরের সাথে, টানা চার বার নিজের সেরা টা দিয়েও অই মেসির জন্যেই সেরা হতে পারেন নি, এরপরেও হাল না ছেড়ে লড়ে গেছেন, নিজেকে সর্বোস্তরে নিয়ে গেছেন। মাঠের লড়াইয়ে রোনালদো সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী লিওনেল মেসি বলেছিলেন, ‘আমি মনে করি ও ভাল মানুষ, ভাল খেলোয়াড়। ও মাদ্রিদের জন্য অনেক কিছু করেছে। যেকোনো সময় ও ম্যাচের মোড় ঘুরিয়ে দিতে পারে।’

রোনালদো নিজে বলেন, ‘আপনাদের ভালবাসা আমাকে শক্তি দেয়, ঘৃণা করে তোলে অপ্রতিরোধ্য। রোনালদোর সমালোচনা যারা করেন, তারা বরং কোনো না কোনোভাবে তাঁর উপকারই করছেন।

ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো রূপকথার এক রাজপুত্র। এমন আরেকজন রোনালদোর জন্ম কবে হবে কে জানে। আজ থেকে অনেক বছর পর কোন এক রাতে নাতি-নাতনিদের কাছে গল্পের আসরে তিনি আবারো ফিরে আসবেন, চশমা চোখে কোন এক রাতে নতুন কোন ফুটবল জাদুকরের মাঝে তাকে খুঁজে ফেরাতে, তিনি ফিরে আসবেন স্পেনের বিপক্ষে সেই অতিমানবীয় হ্যাটট্রিক হয়ে, রোনালদোরা হারিয়ে যাবেন না, তারা এভাবেই থেকে যাবেন মনের কুঠুরিতে, স্মৃতির পাতায় অমলিন হয়ে!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।