‘রোমিও’ দেব: প্রেমিক নয়, সবচেয়ে ক্ষর্বাকৃতির বডিবিল্ডার

তাঁর নাম দেখে ভুল বুঝবেন না। নাম রোমিও হলেও তিনি ঠিক প্রেমিক পুরুষ নন, তিনি হলেন ইতিহাসের সবচেয়ে ক্ষর্বাকৃতির বডিবিল্ডার। পুরো নাম আদিত্য রোমিও দেব।

রোমিরও জন্ম ১৯৮৮ সালের এ নভেম্বর। তিনি ভারতের মানুষ ছিলেন। উচ্চতা ছিল মাত্র দুই ফুট নয় ইঞ্চি। সর্বপ্রথম ২০০৮ সালে ব্রিটিশ গণমাধ্যম দ্য টেলিগ্রাফে তাঁকে নিয়ে লেখা হয়। শুরু হয় আলোচনার ঝড়।

যদিও, এর আগেই তিনি বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষর্বাকৃতির বডিবিল্ডারের খেতাব পেয়ে গিয়েছিলেন। ২০০৬ সালে তাঁকে এই স্বীকৃতি দেয় গিনেস বুক অব ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস। তিনি যখন এই স্বীকৃতি পেয়েছিলেন, তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ১৯।

রোমিও শুরুটা করেছিলেন এক বন্ধুর হাত ধরে। বামুন হয়েও বডিবিল্ডিং করতে তিনি প্রথমে রাজি হননি। কারণ, বামুন হয়ে চাঁদ ছোঁয়া যতটা কঠিন, শরীরকে পেশীবহুল করে তোলাও ততটা কঠিন। তবুও শুরু করেছিলেন।

পরিবারের সাথে রোমিও

কালক্রমে তিনি ট্রেইনার রঞ্জিত পালের অধীনে কাজ করা শুরু করেন। আর মাত্র তিন মাসের মাথায় বনে যান মাসলম্যান। যদিও, পুরো শরীর গড়তে সময় লাগে তার দুই বছর।

রোমিও বলেছিলেন, ‘আমি দু’বছর ধরে নিজের শরীর নিয়ে কাজ করছি। এটুকু বলতে পারি যে, এখন আমিই পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী বামুন। আমি সব সময়ই ফিট ছিলাম। চেয়েছিলাম, আমার শারীরিক দক্ষতা দিয়েই যেন মানুষ আমাকে চিনতে পারে। আমার সাইজ কখনোই আমাকে আটকাতে পারেনি। বলা উচিৎ, আমি নিজেও এটাকে খুব বেশি সমস্যা মনে করি না। সবাই আমাকে দেখে আনন্দ পায়। টিভিতে আমাকে ডাকা হয়। আমি ওখানে গিয়ে নেচে-গেয়ে আসি।’

ওই সময় নিজের এলাকায় খুব বিখ্যাত ছিলেন রোমিও। তাঁর বাবা অনিল দেব শর্মা বলেছিলেন, ‘আকার ছোট হওয়ার সমস্যাটা নিয়ে ও কখনোই ভাবতো না। ওর মধ্যে কোনো হীনমন্যতা নেই। ও আমাদের পরিবারের গর্ব।’

রোমিওর স্বপ্ন ছিল লন্ডনে যাওয়ার। কিন্তু সেটা আর হয়নি।

শরীর ছোট হওয়ায় স্বাভাবিক ভাবেই তাঁর রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা ছিল বাকিদের চেয়ে কম। ফলে, নানা রকম সমস্যা হতে শুরু করে। ২০০৮ সালে তার শরীরে ইনট্রাক্রানিয়াল অ্যানোরিয়াসে আক্রান্ত। এর ফলে তখন থেকেই তাঁর প্রাণ হানির ঝুঁকি বাড়তে থাকে।

সেখান থেকে শুরু হয় রোমিও’র জীবন বাচানোর লড়াই। ২০১২ সালের ১৩ সেপ্টেম্বর, ভোরটায় ব্রেইন অ্যানোরিয়াসে আক্রান্ত হয়ে মারা যান। তখন তাঁর বয়স ছিল মাত্র ২৩। তবে, আজো তিনি বামুনদের জন্য অনুপ্রেরণার একটি নাম।

ডেইলি মেইলদ্য টেলিগ্রাফ অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।