জাফর ইকবাল: রোম্যান্টিকতার অপর নাম

তাঁকে নায়ক হিসেবেই বাংলাদেশের মানুষ বেশি চেনে। অথচ, তাঁর যাত্রাটা হয়েছিল গায়ক হিসেবে।

কোনো এক অনুষ্ঠানে জাফর ইকবালকে মঞ্চে গান করতে দেখেছিরেন পরিচালক খান আতাউর রহমান। জাফরের চেহারাটা তাঁর চোখে ভালো লেগে যায়। অনুরোধ করে বললেন, ‘তুমি ছবিতে অভিনয় করবে কী?’

ব্যাস, জাফর রাজি হয়ে গেলেন। ১৯৬৯ সালে ‘আপন পর’ ছবিতে তাঁর প্রথম অভিনয় জীবন শুরু। পরবর্তীতে বেশ কয়েকটি ছবিতে অভিনয়  করার পরে ঢাকার চলচ্চিত্রের রোম্যান্টিক নায়ক হয়ে উঠেছিলেন জাফর ইকবাল।

জাফর ইকবালের জন্ম ১৯৫০ সালের ১৯ এপ্রিল, ঢাকাতে। অভিনয়ের চেয়ে তিনি প্রেমিক-পুরুষ হিসেবে নামধাম করেছিলেন। ১৯৭২ সাল থেকে ১৯৮৮ সালের মধ্যে রোম্যান্টিক ছবিতে তিনি ছিলেন অবধারিত একটি নাম।

জাফর ইকবালের সাথে লেখক

জাফর ইকবাল-ববিতা জুটি হিসেবে ঝড় তুলতে না তুলতেই এদের মধ্যে ঘনিষ্ঠতা গড়ে ওঠে বলে গুঞ্জন ছিল। ‘এক মুঠো ভাত’ এই জুটির উল্লেখযোগ্য ছবি।

এক মুঠো ভাত ছবিতে ‘অতো রূপের গরব করিস না, রূপ চিরদিন থাকবে না’ গানটি জাফর ইকবাল ও ববিতার ঠোটে বেশ মানিয়েছিল। ছবিটি পরিচালনা করে চিত্র পরিচালক ইবনে মিজান বেশ সমালোচিত হয়েছিলেন।

ববিতা ও জাফর ইকবাল

কেননা, এই ছবিটি ছিল ভারতীয় হিন্দি ছবি ‘রোটি’র হুবহু নকল। গানগুলোও ছিল হুবহু নকল। বলিউডে ‘রোটি’ ছবিটি পরিচালনা করেছিলেন খ্যাতনামা নির্মাতা মনমোহন দেসাই। ভারতীয় হিন্দি ছবি ‘রোটি’ মুক্তি পেয়েছিল ১৯৭৪ সালে।

ছবিতে জাফর ইকবাল ঠিক রাজেশ খান্নার মত এবং ববিতা সেই অবিকল মমতাজের মত চরিত্রে উপস্থিত হয়েছিলেন। নকল হলেও ছবিটি ব্যবসা সফল হয়েছিল। মুক্তি পেয়েছিল ১৯৭৬ সালে।

জাফর ইকবাল অভিনীত উল্লেখযোগ্য ছবিগুলো হলো – ফকির মজনু শাহ, দিনের পর দিন, সূর্য সংগ্রাম, বেদ্বীন, অংশীদার, মেঘ বিজলী বাদল, সাত রাজার ধন, আশীর্বাদ, অপমান, পরিবর্তন, সি আই ডি, নয়নের আলো, ওগো বিদেশিনী, ভাই বন্ধু, প্রেমিক, নবাব, মর্যাদা, ফুলের মালা, সন্ধি, ছোবল, প্রেম বিরহ, যোগাযোগ, চোরের বউ, বন্ধু আমার ইত্যাদি।

তিনি কবরী, শাবানা ও ববিতার বিপরীতেই বেশি অভিনয় করেছিলেন। ‘ফকির মজনু শাহ’ ছবিতে অভিনয়ের পাশাপাশি তিনি গানও গেয়েছিলেন।  তাঁর গাওয়া গানগুলো সে সময় বেশ  জনপ্রিয় হয়। গানগুলো ঘুরতো তরুণ-তরুণীর মুখে মুখে।

জাফর ইকবালের মৃত্যু ১৯৯২ সালের ৮ জানুয়ারি। অকালে মারা গেলেও তিনি ঢাকার ফিল্মে রোমান্টিক নায়ক হিসেবে অমর হয়ে রইলেন। তিনি সমাহিত হয়েছেন ঢাকার আজিমপুর কবরস্থানে।

কাকতালীয় ব্যাপার হল, মৃত্যুর আগে তাঁর শেষ ছবি ‘লক্ষ্মীর সংসার’-এ গ্রাম থেকে ঢাকায় এসে এই আজিমপুরের রাস্তা খুঁজে বেড়াতে দেখা গিয়েছিল তাঁকে। সবাইকে জিজ্ঞেস করতেন, ‘ভাই, আজিমপুর যাবো কিভাবে?’ সেই ছবি মুক্তি পাওয়ার ঠিক এক মাসের মাথায় সবাই মিলে তাকে সেই আজিমপুরেই রেখে আসেন!

জাফর ইকবাল (ডানে) ও বোন শাহনাজ রহমতুল্লাহ

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।