সাত সাগর আর তের নদী পার হয়ে

প্রথমেই বলে রাখি আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আজ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষেই মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ ৭০০০ রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন।

দীর্ঘ সাড়ে আট বছর নয় মাস পর পেয়েছেন টেস্ট সেঞ্চুরি! ২০১০ সালে নিউজিল্যান্ড সফরে গিয়ে ৮ নম্বরে নেমে ক্যারিয়ারের প্রথম টেস্ট সেঞ্চুরি (১১৫) করেন। দিনটি ছিল ১৭ ফেব্রুয়ারী। ওই ম্যাচটি ছিল তাঁর ক্যারিয়ারের মাত্র পঞ্চম টেস্ট।

ওই দিন হতে হতে দীর্ঘ ৮ বছর ৮ মাস ২৭ দিন পর দেখা পেলেন ক্যারিয়ারের দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি! যার ভিতরে ছিল ৩৬ টেস্টের ৬৯ টি ইনিংস (সেঞ্চুরি বিহীন)! মানে রিয়াদকে অপেক্ষা করতে হয়েছে ৩৫ টি টেস্ট। দেশের মধ্যে এই ‘ভুলে যেতে চাওয়া’ রেকর্ডটায় সবার ওপরে রিয়াদই আছেন।

আগে এই রেকর্ডটি ছিল মোহাম্মদ আশরাফুলের দখলে। ২০০১ সালে সেপ্টেম্বরে অভিষেক টেস্টে সেঞ্চুরির পর আশরাফুল দ্বিতীয় সেঞ্চুরি করেছিলেন ২০০৪ সালের ডিসেম্বরে। মাঝে খেলেছিলেন ২২ টেস্ট। এখনকার ব্যাটসম্যানদের মধ্যে সর্বশেষ সেঞ্চুরির পর ১৬ টেস্ট খেলে ফেলেছেন ইমরুল কায়েস।

মজার ব্যাপার কি জানেন?

শেষবার সেঞ্চুরি করার পর নিজের ৩৬ তম টেস্টের প্রথম ইনিংসে রিয়াদ আউট হয়েছেন ৩৬ রানে। আর পরের ইনিংসে সেঞ্চুরি (১০১*)।

টেস্ট, ওয়ানযে ও টি-টোয়েন্টি মিলিয়ে বাংলাদেশের ব্যাটসম্যানদের সেঞ্চুরি সংখ্যা কত জানেন?

-১০২ টি! গত রবিবার মমিনুলের সেঞ্চুরিটি ছিল দেশের হয়ে শততম সেঞ্চুরি!

একটা মজার পরিসংখ্যানের কথা শুনবেন?

দেশের হয়ে ৪৯ ও ৫০ তম সেঞ্চুরি দুটির রান ছিল এমন ১৯০,২০০। করেছিলেন মোহাম্মদ আশরাফুল ও মুশফিকুর রহিম। দেশের হয়ে ৭৫ ও ৭৬ তম সেঞ্চুরি দুটির রান ছিল এমন ২০৬, ১৫০। করেছিলেন যথাক্রমে তামিম ইকবাল ও ইমরুল কায়েস। এরপর দেশের হয়ে ১০০ ও ১০১ তম সেঞ্চুরির রানও হল ঠিক এমন ১৬১, ২১৯*। এবার করলেন মুমিনুল মুশফিক।

একটা দুঃখজনক রেকর্ডের কথা শুনাই।

আগেই তো বললাম টেস্ট ক্রিকেটে দীর্ঘ ৩৬ টেস্টের ৬৯ ইনিংস পর সেঞ্চুরি করেছেন রিয়াদ। এটা দেখে আসলে বিচলিত হবার কিছু নেই। নিউজিল্যান্ডের সাবেক এক উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যান অ্যাডাম ক্রেইগ প্যারোরে তার দ্বিতীয় টেস্ট সেঞ্চুরি পেতে সময় নেন ৫৭ টি টেস্ট। দক্ষিণ আফ্রিকার মার্ক বাউচারের লেগেছিল ৫০ টেস্ট।

তাছাড়া মঈন খান, মার্ক বাউচার (২য় বার), রিচার্ড হেডলি, অ্যালান বোর্ডার, মাহেন্দ্র সিং ধোনী, রমিজ রাজাদেরও ৩০+ টেস্ট খেলতে হয়েছে। তবে এটা সত্য যে সময়ের ব্যাধানটা রিয়াদের বেলায় একটু বেশি ছিল; ৮ বছর ৮ মাস ২৭ দিন। এর আগে সর্বোচ্চ ৬ বছর ৯ মাস ২৭ দিন লেগেছিল ওই অ্যাডাম প্যারোরের।

তবে, একটা দুই সেঞ্চুরির মাঝে অপেক্ষার প্রহর সবচেয়ে বেশি লম্বা হয়েছিল অস্ট্রেলিয়ান ওপেনার ওয়ারেন বার্ডসলের। অপেক্ষাটা ছিল ১৩ বছর ৩৪৬ দিনের। এই তুলনায় রিয়াদের অপেক্ষা তো নস্যি!

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।