রিকিশি ফাটু: রেসলিং রিংয়ের ভুতুড়ে এন্টারটেইনার

হঠাৎ করে দেখলে তাঁকে শুধু রেসলার নয়, একজন সুমো রেসলার বলে মনে হওয়াটাই স্বাভাবিক। বিশাল তাঁর শরীর। ডব্লিউডব্লিউএফের জমানায় রিংয়ে ভুতুড়ে সব কাণ্ড ঘটানোর জন্য বিখ্যাত ছিলেন। ২০১৫ সালে ডব্লিউডব্লিউইয়ের হল অব ফেমে জায়গা পাওয়া এই বিশালাকার ভদ্রলোকটি হচ্ছেন সোলোফা ফাটু জুনিয়র। তার চেয়ে বরং ‘রিকিশি’ বললেই আপনারা যাকে ভালোভাবে চিনতে পারতেন। চলুন, দেখে আসা যাক, সর্বশেষ হল অব ফেমে জায়গা পাওয়া এই রেসলারের জীবনের নানা বাঁকের গল্প।

  • রক্তেই যার রেসলিং

রিকিশির পরিবারকে চাইলে ‘রেসলিং পরিবার’ বলেই আখ্যা দেয়া যায়। সুপরিচিত অনেক রেসলারই সামোয়ায় তাঁদের ‘অ্যানোয়া ফ্যামিলি’ থেকে উঠে এসেছেন। বর্তমান ডব্লিউডব্লিউই-য়ের ট্যাগ টিম চ্যাম্পিয়ন যারা, সেই জিমি আর জে উশো তো তাঁরই সন্তান।

শুধু তারা দুজনই নন, রক, ইয়োকাজুনা, রোমান রেইন, দ্যা ওয়াইল্ড সামোয়ান্স, উমাগাদের শরীরেও বইছে রিকিশির অ্যানোয়া পরিবারের রক্ত। তাই, রিকিশিও যে রেসলিং-য়ে নাম কামাবেন, সেটা তেমন আশ্চর্য কিছুই ছিলো না।

  • ফাটু

নব্বইয়ের দশকে যখন ডব্লিউডব্লিউই-তে তার অভিষেক হলো, তখন ‘ফাটু’ নামেই তিনি রিং-য়ে নামতেন। তার কাজিন সামুর সঙ্গে মিলে তিনি একটি ট্যাগ টিম-ও বানিয়েছিলেন, যার নাম ছিলো ‘হেডশ্রিংকারস’। অবশ্য যারা ‘দ্যা ওয়াইল্ড সামোয়ান্স’কে দেখেছেন, তারা দুটি টিমের মাঝে বিশেষ পার্থক্য খুঁজে পাবেন না।

এই ‘হেডশ্রিংকারস’, ১৯৯৪ সালের ২৬ এপ্রিল কিউবেকারসকে হারিয়ে জয় করে নেয় ট্যাগ টিম চ্যাম্পিয়নশিপ, যা ছিলো রিকিশির প্রথম কোনো শিরোপা জয়। অবশ্য, যতটা হাঁকডাক নিয়ে ফাটু-সামু জুটি হাজির হয়েছিলো, ততটা সাফল্য এ দুজনে মিলে অর্জন করতে পারেননি।

  • সুলতান

১৯৯৬ সালেই, রিকিশি আবির্ভূত হন ‘সুলতান’ হিসেবে। এসময় তার চরিত্রে মাস্ক যুক্ত হয়, তবে তিনি বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেন। এর কারণ হিসেবে তাঁর জিহ্বা হারানোকে দাঁড় করানো যায়।

 

তবে এই চরিত্রটি তেমন দর্শকপ্রিয়তা পায়নি। তবে, এই চরিত্রের সবচেয়ে উল্লেখ করার মতো ঘটনা ছিলো রেসলম্যানিয়া-১৩ তে দ্যা রককে চ্যালেঞ্জ করে বসা। (তখন যিনি রকি মালভিয়া নামে পরিচিত ছিলেন।) অবশ্য ম্যাচটি বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতাতেই রক জিতে নিয়েছিলেন।

কিন্তু, পরে রিকিশিও ফিরে এসেছিলেন।

  • রিকিশির জন্ম

আবার তিনি ফিরলেন, ১৯৯৯-য়ের শেষাশেষি। এবারে নাম হলো, ‘রিকিশি’। তার ক্যারিয়ারের স্বর্ণযুগ শুরু হয়েছিলো, এরপরেই।

ক্যারিয়ারের এ পর্যায়ে, স্কটি আর গ্র্যান্ডমাস্টারের ‘টু কুল’ টিমের সাথে রিকিশির যোগ দেয়াটাকে তাঁর ক্যারিয়ারের ‘টার্নিং পয়েন্ট’ বলা যেতে পারে। এই টিম, একইসাথে কিছু অদ্ভুতুড়ে নৃত্যমুদ্রা, তাকে অল্প সময়েই দর্শকদের মাঝে বেশ জনপ্রিয় করে তোলে। এ সময়েই তিনি প্রতিপক্ষকে ‘পশ্চাৎদেশের দুর্গন্ধ শোঁকানো শুরু করেন।

 

২০০০ সালের গ্রীষ্মে তিনি ব্যক্তিগত ইভেন্টে স্বর্ণপদকও জয়লাভ করেন। ‘টু কুল’ জুটির সঙ্গে তার নাচ আর পারফরমেন্স তাকে খ্যাতির চূড়ায় পৌঁছে দেয়, তাঁকে কিংবদন্তি বানানো নিশ্চিত করে।

  • রেসলিং পরবর্তী জীবন

ডব্লিউডব্লিউই কর্তৃপক্ষ তাঁকে বারেবারে ওজন কমাতে বললেও তিনি সে কথায় কানই দেননি। তাই, ২০০৪ সালের ১৬ জুলাই, তার সঙ্গে ডব্লিউডব্লিউই চুক্তি বাতিল করে।

ডব্লিউডব্লিউই ছাড়লেও তিনি রেসলিং ছাড়েননি। বিশ্বের নানা প্রান্তেই তিনি রিং-য়ে নেমেছিলেন, সেখানে নানা শিরোপাও জিতেছিলেন, তবে ততদিনে তার নাম হয়েছিলো, ‘কিশি’। আইনগত বাধার কারণেই ‘রি’ বাদ দিতে হয়েছিলো তাকে।

২০০৭ সালে একবার টিএনএ-তেও হাজির হয়েছিলেন তিনি, ‘জুনিয়র ফাটু’ নামে। তিনি আবারও ডব্লিউডব্লিউই-তে ফেরেন, ২০১২ সালে, তার মৃত ভাই উমাগার স্মৃতির প্রতি সম্মান জানাতে। এ ঘটনা ডব্লিউডব্লিউই কর্তৃপক্ষের সঙ্গে তার বিরোধ ঘোচায়, তিনি তাই এরপর থেকে মাঝেমাঝেই ডব্লিউডব্লিউইতে এসে হাজির হওয়া শুরু করেন।

– স্পোর্টসকিডা অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।