রিচি সোলায়মান: ফুল হয়ে এসেছিলেন তিনি

২০০২ সাল। মেরিল প্রথম আলো পুরস্কারের সমালোচক বিভাগে সেরা টিভি অভিনেত্রী বিভাগে তারানা হালিম ও আফসানা মিমির মত প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রীর সাথে প্রতিদন্ধিতা করে রবি ঠাকুরের ছোট গল্প অবলম্বনে নির্মিত ফেরদৌস হাসানের ‘ত্যাগ’ নাটকে কুসুম চরিত্রে অসাধারণ অভিনয়ের সুবাদে পুরস্কার জয় করে চমকে দিয়েছিলেন সেই সময়ের এক উঠতি অভিনেত্রী।

পুরস্কৃত হয়েই দাম্ভিকতা না এনে অভিনয় জগতে নিজেকে সঁপে দিলেন। পরবর্তীতে হয়ে উঠেন নাট্যঙ্গনের প্রথম সারির একজন অভিনেত্রী। অভিনয় আর সৌন্দর্য্য থেকে সাবলীল ও নিখুঁত বাচনভঙ্গির কারণে পেয়েছেন দর্শকপ্রিয়তা, তিনি রিচি সোলায়মান।

যদিও তার শুরুটা হয়েছিল অনেক আগে। সেই ১৯৮৯ সালে ‘ইতি আমার বোন’ নাটকে শিশুশিল্পী হিসেবে প্রথম অভিনয় করেন। তবে বড়বেলায় এসে টনি ডায়েসের বিপরীতে ১৯৯৮ সালে ‘বেলা অবেলা’ ধারাবাহিক নাটকে প্রথম অভিনয় করেন।

২০০১ সালে একুশে টিভিতে প্রচারিত আহির আলমের রহস্যধর্মী ধারাবাহিক নাটক ‘প্রেত’-এ অভিনয় করে সবার নজর কাড়েন। সঙ্গে ছিল ফেয়ার অ্যান্ড লাভলির বিজ্ঞাপন। তারপর ‘ত্যাগ’ নাটকে অভিনয় করে নিজের প্রতিভার প্রমাণ দেওয়ার পর মুরাদ পারভেজের থ্রিলার ধারাবাহিক ‘দৌড়’-এ অভিনয়ের সুবাদে আরো আলোচিত হন দর্শকমহলে।

হুমায়ূন আহমেদের নাটকে তখন অন্যান্য অভিনেত্রীরা তেমন সুযোগ পেতেন না। তবে রিচি সোলায়মান সুযোগ পেয়ে সেটার দারুণ সদ্ব্যবহার করেছিলেন। সাইদুল আনাম টুটুলের নির্মানে হলেও পুরা নাটকই ছিল হুমায়ূন আহমেদের নিজস্ব আবহে, টেলিফিল্মটির নাম ‘বাদল দিনের প্রথম কদম ফুল’।

অভিনয় জীবনের ক্যারিয়ারে সম্ভবত সেরা চরিত্র ও অভিনয় করেছিলেন এজাজ মুন্নার ‘নীড়’ ধারাবাহিকে। তারকাবহুল এই নাটকের মূল ভূমিকায় তিনি অভিনয় করেছিলেন। নারী দর্শকদের কাছে এটি বেশ গ্রহনযোগ্যতা পেয়েছিল, যার কারণে পরবর্তীতে পর্ব সংখ্যা বাড়ানো হয়।

আকরাম খানের ‘নাবিলা চরিত’তেও ছিলেন নাম ভূমিকায়। এটিও ক্যারিয়ারের বিশেষ ভাবে উল্লেখযোগ্য। ক্যারিয়ারের মধ্যগগনে মোনালিসার মায়ের চরিত্রে অভিনয় করেছেন ‘শহর ভরা কাঁচের কোকিল’ নাটকে, এছাড়া উল্লেখযোগ্য অর্থহীন মানিপ্ল্যান্ট, কালো বরফ জমাট অন্ধকার, অনলাইন ডট কম, রুদ্র ও রোদেলার কাব্য, প্রত্যাগত, উপহার, শঙখবাস, জোৎস্নাকাল, ফ্লেক্সিলোড সহ বেশ সংখ্যক নাটক।

রিচি সোলায়মানের অন্যতম বিশেষ দিক ছিল বাচনভঙ্গি। তাঁর কথা বলার ধরনেই মুগ্ধতা ছড়ায়। বাস্তবে যারা রিচি সোলায়মানকে দেখেছে তাদের সবাই একবাক্যে বলে দেন টিভির চেয়ে বাস্তবে তিনি আরো বেশি সুন্দরী। ‘ত্যাগ’-এর পর চয়নিকা চৌধুরীর নির্মানে রবি ঠাকুরের ‘নিশীথে’ করেছিলেন, যার জন্য দর্শক জরিপে প্রথমবারের মত মেরিল প্রথম আলো পুরস্কারে মনোনীত হন।

অভিনেতা থেকে নির্মাতা মাহফুজ আহমেদ নিজের নির্মানের নাটকে নির্দ্ধিয়ায় তাকেই বেছে নিয়েছেন বহু নাটকে, যার প্রমাণ মিলে বনলতা সেন, তোমার দোয়ায় ভালো আছি মা,সরিসৃপ থেকে কেবলই রাত হয়ে যায়,হ্যালো বাংলাদেশ, বাপের বেটার মত নাটকে।

অভিনয়ের বাইরে প্রযোজক হিসেবেও রয়েছে খ্যাতি। ‘নীলাঞ্জনা’ প্রযোজনা সংস্থা থেকে নির্মিত হয়েছে শাহনেওয়াজ কাকলীর প্রশংসিত নাটক ‘গোলাপী পাঞ্জাবী’ ও ‘ব্যঙ্গময়ী’র মত নাটক বানিয়েছেন। চিত্রনাট্য লিখেছিলেন ‘আলোয় ভুবন ভরা’ নাটকের জন্য। একক অভিনয় করেছেন ‘সোনার মানুষ’ নাটকে।

রিচি সোলায়মান বিয়ে করেছেন ২০০৮ সালে, তখন তিনি জনপ্রিয় অভিনেত্রীদের একজন। এরপর থেকেই ধীরে ধীরে অনিয়মিত হতে থাকেন, এখন সংসার করছেন প্রবাস জীবনে। নৃত্যজগতেও রয়েছে প্রতিভার ছাপ। শাহনেওয়াজ কাকলীর ‘নীরব প্রেম’ নামের একটি ছবিতে অভিনয়ের কথা উঠলেও সেটি আর হয়নি।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।