এই ভিক্ষুকদের ব্যাংক ব্যালান্স শুনলে পিলে চমকে উঠবেন!

জীবিকার তাগিদে মানুষ কত কীই না করে। পৃথিবীতে যত যুদ্ধ, যত কাড়াকাড়ি, যত বিত্ত বৈভব সবকিছুর মূলে একটু ভাল থাকা, ভালোভাবে বেঁচে থাকা। তাই মানুষ বেছে নেয় নানান পথ। ভিক্ষাবৃত্তিতে আশ্রয় খোঁজে বহুজন। কিন্তু একেই যদি নেয় পেশা হিসেবে? ভিক্ষাবৃত্তি আবার পেশা হয় নাকি! হয় হয়! জীবনভর ভিক্ষা করা এমন কিছু মানুষ আছে যাদের সঞ্চয় আমার আপনার চেয়েও বেশি!

  • সাইমন রাইট

মাঝবয়সী এক মানুষ, পরনে জীর্ণশীর্ণ কাপড়, সাথে একটি কুকুর। লন্ডনের পথচারীদের কাছে দৃশ্যটি স্বাভাবিক, দৈনন্দিন। লোকটির নাম সাইমন রাইট। প্রতিদিন আট ঘন্টা ঘরে ভিক্ষা করেন, ছুটির দিনে করেন ওভারটাইম। বলা ভাল- ডিউটি করেন! তিনি যে পোশাদার ভিক্ষুক।

৩৮ বছর বয়সী সাইমনের বাৎসরিক আয় প্রায় ৫০,০০০ পাউন্ড! সারাদিনের কর্মব্যস্ততা শেষে শরীরের প্রয়োজন বিশ্রাম। গাছের ছায়া বা পার্কের বেঞ্চিতে নয়, লন্ডনে কেনা নিজ ফ্ল্যাটেই দিনযাপন করেন সাইমন। ফ্ল্যাটের দাম মাত্র ৩,০০,০০০ পাউন্ড!

  • ইশা

জীবনের ক্যালেন্ডারে ঠিক সেঞ্চুরি হাঁকিয়ে পরপারে পাড়ি জমানো সৌদি এই নারী ছিলেন অন্ধ। ছিন্নভিন্ন পোশাক, একলা বৃদ্ধা আর অন্ধত্বের জেরে সৌদি আরবের জেদ্দার রাস্তায় ভিক্ষে ভালোই মিলত। পথে পরিচয় তার মতোন বহু মানুষের সাথে যার সুখ দুঃখে সঙ্গী ছিল শেষ অবধি। ইশা মৃত্যুর পর তার সম্পদনামা দেখে চোখ কপালে উঠতে বাধ্য।

প্রায় ৮,০০,০০০ মার্কিন ডলার সমমূল্যের ক্যাশ, ২,৬০,০০০ মার্কিন ডলার সমমূল্যের অলংকার আর জেদ্দায় চারটে বাড়ি রেখে যান তিনি। আমৃত্যু অন্যের কাছে হাত পাতলেও জেদ্দার রাস্তার ওইসব গৃহহীন, অসহায়দের যাতে হাত পাতা না লাগে তাই সম্পত্তির সবটুকুন তাদের নামে দিয়ে গেছেন ইশা। ভিক্ষাবৃত্তি মোটেও ইতিবাচক কিছু নয়, তবে এমন দৃষ্টান্ত চোখে আঙুল দিয়ে সমাজকে অনেক কিছুই শিখিয়ে দেয়।

  • শাম্বাজি কালে

মুম্বাই – ভারতের সবচেয়ে কর্মচঞ্চল শহর। এখানে সব করা যায়, সব পাওয়া যায়। এমনকি ভিক্ষাবৃত্তিও এখানে লাভজনক! সেটিকেই পুঁজি করে স্ত্রী সন্তানসমেত রাস্তায় নেমে পড়েন শাম্বাজি কালে! পরিবারের চার সদস্যের দৈনিক মাথাপিছু উপার্জন এক হাজার রুপি!

শাম্বাজি সঞ্চয়ে বেশ নজর দেন, প্রতি মাসে প্রায় ৪০,০০০ রুপি ব্যাংকে জমা রাখা এক ভিক্ষুকের জন্য চাট্টিখানি কথা নয়। তাতেই শেষ হলেও হতো। একটা ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানিতে ছোটখাটো বিনিয়োগও করে রেখেছে শাম্বাজি বাবাজি!

  • কৃষ্ণকুমার গাইতে

মুম্বাইয়ের বাসিন্দা কৃষ্ণকুমার গাইতে প্রতিদিন সকালে সিপি ট্যাংক রোডে বসে যায় সরঞ্জাম নিয়ে। জরাজীর্ণ বেশভূষায় তাকে দেখতে খুব দরিদ্র লাগে। কৃষ্ণের প্রতিদিনের গড় উপার্জন প্রায় দেড়হাজার রুপি, যা এমনকি তাকে সাহায্য করাদের অনেকের দৈনিক আয়ের চেয়েও বেশি! সঞ্চয়ী কৃষ্ণকুমার দিনশেষে নিজের ফ্ল্যাটে শুয়েবসে বোধহয় কিভাবে উপার্জন বাড়ানো যায় সেই চিন্তাতেই মত্ত থাকে!

  • আরউইন কোরে

গত বছর ১৭ ধরে যুক্তরাষ্ট্রের ম্যানহাটানের ৩৫ টি স্ট্রিটের কমন দৃশ্য হচ্ছে, রাস্তাগুলিতে একজন মানুষ হাঁটছে আর ভিক্ষে করছে। নাম তার আরউইন কোলে। তিনি কিন্তু বাকিদের মতোন খানদানি ভিক্ষক নন, বরং একটা সময় কাজ করেছেন হলিউডে! পারফর্ম করেছে জ্যাকি গ্লিয়েসন, উডি অ্যালেন পর্যায়ের তারকাদের সঙ্গে। তার ফ্ল্যাটের মূল্য ৩.৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলারের চেয়ে বেশি। মনের মধ্যে একজন শিল্পীকে বয়ে বেড়ানো কোরে’র ভিক্ষা থেকে রোজ উপার্জন প্রায় ২৫০ ডলার পর্যন্ত।

ভিক্ষাবৃত্তি কাম্য নয়। তবুও কেউ কেউ অভাবে, কারো বা স্বভাবে আজ তারা ভিক্ষুক! কিন্তু, এটিকেই ধ্যানজ্ঞান মেনে চূড়ান্তরকম স্বচ্ছলতা পাওয়া মানুষগুলি যেন ভিন্ন আর ব্যতিক্রমী এক বার্তা দেয়- ‘ভিক্ষুক মানেই ফকির নয়!’

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।