এখানে বয়ফ্রেন্ড ভাড়া দেওয়া হয়!

আজগুবি জিনিসে ভরা আমাদের এই পৃথিবী। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে দেখা যায় এসবের নজির। আর সেই দেশটির নাম যদি হয় চীন তাহলে তো আর কথাই নেই। বাংলাদেশ যখন গাড়ি বা মোটরসাইকেল শেয়ারিং অ্যাপ পাঠাও, উবার বা সহজ নিয়ে ব্যস্ত, চীন তখন নিয়ে আসল অভিনব একটি ব্যবস্থা। বিশেষ এক উপায়ে সেখানে ভাড়ায় বয়ফ্রেন্ড পাওয়া যাচ্ছে।

সম্প্রতি চীনের হাইনান ও শানডোঙয়ের কিছু শপিং মল ক্রেতাদের জন্য ‘রেন্ট-এ-বয়ফ্রেন্ড’ অথবা ‘বয়ফ্রেন্ড শেয়ারিং’ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। আশ্চর্যজনক লাগছে, তাই না? আশ্চর্যজনক হলেও বিষয়টা সত্য। এই সুবিধার ভিতরে আছে গল্প করা, শপিং ব্যাগ ধরে রাখা, ছবি তোলা আর হ্যাঁ কোনো রকম বিরক্তি প্রকাশ না করে হাসিমুখে শপিং-এ সাহায্য করা!

চীনা শপিংমলগুলো এই সুবিধা চালুর পর দেখেছে যে, এই সুবিধা বহু তরুণীকে আকৃষ্ট করেছে। এসব তরুণীদের অধিকাংশই এই সুবিধার প্রধান গ্রাহক। তাঁরা নিজেদের ‘বয়ফ্রেন্ড’দের জিজ্ঞেস করে কোন ধরনের পোশাক পুরুষেরা পছন্দ করে। তাঁদের কাছ থেকে ডেটিং লাইফ সম্পর্কে উপদেশও নেয়! এসব ‘বয়ফ্রেন্ড’রা তরুণীদের শপিং করার সময় সঙ্গদান করে। শুধু তাই নয়,তরুণীদের ব্যাগ বহনেও সহায়তা প্রদান করে আর তাদের প্রদান করে অধিকতর নিরাপত্তা।

পাঠকরা হয়ত এসবের পাশাপাশি ‘অন্য কিছু’ ঘটার বিষয়ও কল্পনা করেছেন। কল্পনা করলে কি হবে,এই সার্ভিসের কিছু লিখিত নিয়মকানুন আছে। এই ‘বয়ফ্রেন্ড শেয়ারিং’ সার্ভিসের ‘বয়ফ্রেন্ড’রা গ্রাহকের সাথে কোনোরকম শারীরিক সংস্পর্শে আসতে পারেন না। তারপরও এই সুবিধা আকৃষ্ট করছে অগণিত চীনা তরুণীকে। এই সুবিধায় আপনাকে কিউ আর কোড স্ক্যান করতে হবে যার মাধ্যমে আপনি এই সার্ভিসের জন্য অর্থ পরিশোধ করবেন।

এই নতুন অথচ অদ্ভুত সার্ভিসটি বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশটিতে লাভ করেছে ব্যাপক জনপ্রিয়তা। বহু তরুণী এই সুবিধা নেবার জন্য ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে দীর্ঘ লাইনে। তারপর তারা বেছে নেয় তাদের ‘বয়ফ্রেন্ড’কে।

এমন সার্ভিস শুধু নারীদের জন্য নয়, পুরুষদের জন্যও এমন সার্ভিস দিয়ে থাকে চীনা শপিংমলগুলো যা ‘গার্লফ্রেন্ড শেয়ারিং’ নামে পরিচিত। কিন্তু, ‘গার্লফ্রেন্ড শেয়ারিং’ সার্ভিসটি ‘বয়ফ্রেন্ড শেয়ারিং’ সার্ভিসের মত এত জনপ্রিয় না।

বর্তমানে যখন আমরা প্রতিদিন ঘণ্টার পর ঘণ্টা ব্যয় করছি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পিছনে,সেই সময়েই পূর্ব এশিয়ার দেশটিতে এই চিন্তাধারাটা বৈপ্লবিক না! আমরা যেখানে স্মার্টফোনের পিছনে সময় ব্যয় করছি, সেখানে চীনারা সময় ব্যয় করছে প্রেমিক-প্রেমিকা খুঁজে নেবার লাইনে ঘণ্টার পর ঘণ্টা অপেক্ষা করে!

– বিয়িং ইন্ডিয়ান, ডেইলি মেইল ও দ্য স্টার অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।