৯৬: ভালোবাসা কারে কয়! সে কি কেবলই যাতনাময়!

ভালোবাসার প্রগাঢ় রঙ তার পবিত্রতার মায়ায় জড়িয়ে রাখে পোক্তভাবে। যার অপার স্নিগ্ন ভালোবাসার সৌরভে আমরা আজো এই পৃথিবীতে টিকে রয়েছি অপার মহিমায়।

কথাসাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের মতে, ‘ছেলে এবং মেয়ে বন্ধু হতে পারে, কিন্তু তারা অবশ্যই একে অপরের প্রেমে পড়বে। হয়ত খুবই অল্প সময়ের জন্য, অথবা ভুল সময়ে। কিংবা খুবই দেরিতে, আর না হয় সব সময়ের জন্য। তবে প্রেমে তাঁরা পড়বেই।’ আসলেই সত্য, আপনি চুম্বক আর লোহা কে কখনও পাশাপাশি রাখতে পারবেন না, এরা একে অন্যকে আকৃষ্ট করবেই।

কিংবা, পারবেন না একটা মোম কে আগুনের সংস্পর্শে রাখতে। একসময় না একসময় আগুনের তাপে মোম গলবেই। ছেলে ও মেয়েদের ক্ষেত্রেও বিষয়টা এমন। একসাথে চলার পথে একই ক্লাসে পড়ার সময় একে অন্যের প্রেমে পড়বেই। শুরুটা হয়তো বন্ধুত্ব দিয়ে হতে পারে, কিন্তু একসময় তা ভালোবাসায় রূপ নিবেই। আর এটাই স্বাভাবিক বরঞ্চ না হওয়াটাই অস্বাভাবিক।

ভালোবাসা কি? এটা কেমন? ভালবাসার নির্দিষ্ট কোন সংজ্ঞা নেই, নেই কোন প্লাটফর্ম। ভালবাসার সংজ্ঞা একেকজনের কাছে একেকরকম। কারো কাছে অম্ল-মধুর তো আবার কারো কাছে সংজ্ঞাহীন। কিন্তু সবাই ভালোবাসে, ভালোবাসার অপেক্ষা করে। কখনও কখনও কেউ হারিয়ে ফেলা ভালোবাসা কে ফিরে পেতে পুরো জীবনই কাটিয়ে দেয়।

ভালোবাসা কাকে বলে এটির সুস্পষ্ট ব্যাখ্যা যেমন কেউ দিতে পারেন না, তেমন কম দিতেও কেউ ছাড়েন না। ভালোবাসা এমনই একটি স্পর্শকাতর জিনিস যেটি প্রতিটা মানুষকে জীবনে একবার হলেও স্পর্শ করে যায়। দেখিয়ে দিয়ে যায় তার মহিমা। অপর দিকে এই ভালোবাসার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে কেউ লিখে ফেলেন বিশাল বিশাল প্রবন্ধ, কেউ লিখেন গান আবার কেউ এটিকে প্রকাশ করেন কবিতার মাধ্যমে।

কিন্তু বর্তমানে? বর্তমানে ভালবাসারা ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র ভাগে বিভক্ত। এর নির্দিষ্ট কোন সংজ্ঞা না দাঁড় করাতে না পারলেও আমাদের কাছে এখন ভালোবাসা হলো কাছে আসা, দেহের আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে থাকা, ঠোঁটের উষ্ণতায় ভিজতে যাওয়া।

কিন্তু এই আধুনিক যুগেও কিছু কিছু ভালোবাসার গল্প আছে যেগুলো পুরনো কোন স্মৃতি কে আবারও পুনর্জীবিত করে। হোক না সেটা সেলুলয়েডের কোন গল্প অথবা কোন কবির প্রবন্ধ। গল্পটা আপনার হৃদয় ছুঁয়ে যাচ্ছে এটাই বা কম কিসের? ভালোবাসার মানবিক অনুভূতি এবং আবেগকেন্দ্রিক অভিজ্ঞতা আবারও বিশেষ কোন মানুষের জন্য স্নেহের শক্তিশালী বহিঃপ্রকাশ হচ্ছে সেটাই তো বড় পাওয়া।

শত ব্যস্ততার মাঝে প্রিয় মানুষটির কথা স্মরণ করা, তার খোঁজ নেয়ার তীব্র ইচ্ছা জাগা, তাকে আবারও দেখতে চাওয়া, নিরপরাধ চোখে তাকিয়ে একসাথে আর কিছুক্ষণ থাকতে চাওয়ার আকুতিটাই মনে বড় পিড়া দিবে।

আচ্ছা আপনি বয়স ১৬ তে কারো প্রেমে পড়েছিলেন? আমি শিওর যদি পড়ে থাকেন সেটা আপনার ক্লাসেরই কেউ ছিলো। একসাথে আড্ডা দিতে গিয়ে, মজা করতে গিয়ে কখন মনের অজান্তে যে তার প্রেমে পড়ে গেছেন তা নিজেও জানেন না। যত কিছুই হোক বয়স ১৬’র সেই ভালোবাসা আসলেই পবিত্র থাকে।

 

উড়ুউড়ু মনের ভালোবাসায় ছড়িয়ে থাকে রহস্যতা, থাকে আবেগ, তাকে একদিন না দেখতে পাওয়ার যন্ত্রণা। কিন্তু খুব কম সম্ভব লোকই আছে যারা তাদের সেই ভালোবাসা কে আঁকড়ে ধরে সারাজীবন পার করতে পারে।

এই যেমন আমার কথাই ধরেন।

উঠতি বয়সে আমিও কারো প্রেমে পড়েছিলাম। তাঁকে কাছে পেতে চাইতাম, সারাজীবন একসাথে বাঁচতে চাইতাম। কিন্তু বিশ্বাস করেন, অবচেতন ভাবেও বর্তমানে আমার তার কথা মনে পড়ে না; তাকে নিয়ে ভাবতে হয়না। তবে এরপরও তার কথা আবারও মনে পড়েছে, তাকে নিয়ে ভাবতে হচ্ছে, আরেকটি বার তাকে দেখার ব্যাকুলতা জেগে উঠেছে। আর এই সবই হয়েছে তামিল ‘৯৬’ ছবিটি দেখার পর।

মনে হচ্ছে রাম-জানুর গল্পটা আমারই গল্প, তাদের একে অন্যকে হারানোর বেদনাটা আমার নিজেরই বেদনা। সারাজীবন একসাথে থাকতে না পারার সেই আফসোসটা যেন নিজেরই করা। সেলুলয়েডের কিছু গল্প থাকে যেগুলো নিজের জীবনের গল্পের সাথে মিলে যায়। অতীতকে পূনরায় মনে করাতে বাধ্য করে। অজান্তেই চোখ থেকে পানি ঝরতে থাকে, বুকটা হাহাকার করে উঠে।

আমি নিশ্চিত এমনটা শুধু আমার একার না, আপনারও হবে। কেননা যখন মুভিটি আপনি দেখবেন তখন রামের জায়গায় নিজেই নিজের প্রতিচ্ছবি দেখতে পাবেন। দেখবেনই বা কেন? গল্পটা যে আপনার আমার সবার জীবনেরই প্রতিচ্ছবি। কেননা, পৃথিবীতে এমন কোন লোক খুঁজে পাওয়া দুষ্কর যে কিনা স্কুল লাইফে কারো প্রেমে পড়েনি বরং না পড়াটাই সবচেয়ে আজব বিষয়।

বেখেয়ালি মনে এখন তাকে বারবার খুঁজে যাচ্ছে, না পাওয়ার বেদনার হিসেবটা নতুন করে শুরু হয়ে। হয়তোবা গল্পের মতো আবারও কোন একদিন কোন একসময়ে কিছুক্ষণের জন্য আবারও আমাদের দেখা হবে। জানি সেদিনের পর বাকি জীবন একসাথে থাকা যাবেনা কিন্তু অল্পসংখ্যক সময়ের জন্য হলেও একসাথে থাকার ইচ্ছাটা তো কিছুটা লাঘব হবে। রাস্তায় পাশাপাশি হাটার আক্ষেপটা গুছবে। জানি এমনটা হবে না তবুও আশা রাখতে দোষ কোথায়?

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।