দাম্পত্য জীবন মানেই মোটা হওয়ার জীবন!

সুন্দর একটা সম্পর্কে থাকা সবসময়ই ইতিবাচক। সম্পর্ক মানেই দিন শেষে একজনকে পাওয়া, যিনি শুধই আপনার। দাম্পত্য জীবন মানেই আর্থিক, মানসিক, ও দৈনন্দিন কাজগুলো ভাগাভাগি করে নেওয়ার জন্য একজনকে পাওয়া। অন্তত, ভালবাসার জন্য একজনকে পাওয়াটাও তো বড় ব্যাপারই বটে।

তবে, নতুন এক গবেষণার খবর শুনলে একটু হলেও মন খারাপ করতে পারেন দম্পতিরা। কারণ অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ড বিশ্ববিদ্যালয় এক গবেষণায় জানিয়েছে, সুন্দর একটা সম্পর্ক একজন মানুষের শারীরিক ওজন বাড়ায়।

গবেষকরা এখানে এক যুগ ধরে ১৫ হাজার দম্পতির ডাটা সংগ্রহ করেছেন। এখান থেকে তারা সিদ্ধান্তে এসেছেন যে, সিঙ্গেল একজন মানুষের চেয়ে দাম্পত্য জীবনে থাকা একজন মানুষের ওজন কমপক্ষে ৫.৮ কেজি বেশি। আর তাদের ওজন প্রতিবছরে গড়ে ১.৮ কেজি  করে বাড়ে।

গবেষকরা মনে করেন, দাম্পত্য জীবন মানেই পুরোদম পারিবারিক খাওয়া দাওয়া, মানে তিন বেলা ভরপেট খাওয়া দাওয়ার জীবনে প্রবেশ করা। যদিও, সেই খাবারে ফলমূল, সবজির পরিমান অনেক বেশি, ফাস্ট ফুডের পরিমান অনেক কম। তারপরও দম্পতিরা অনেক সময়ই পরিমানের চেয়ে বেশি পরিমান আমিষ ও ক্যালোরি গ্রহণ করে ফেলেন, যেটা তাঁরা অফিসে বা একা থাকলে করতেন না।

এই গবেষণা দেখিয়েছে, বিয়ের মধ্য দিয়ে এক সাথে দম্পতিরা নানা রকম অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস আত্মস্থ করেন। যেমন – অতিমাত্রায় খাওয়া দাওয়া, অনেক বেশি টেলিভিশন দেখা ইত্যাদি। এটা তাঁদের শরীরের ওপর প্রভাব ফেলে। গবেষণা অংশগ্রহণকারীদের খাদ্যভাস, ফাস্ট ফুড গ্রহনের মাত্রা, দৈনন্দিন কাজ ও টেলিভিশন দেখার সময়ের ওপর ভিত্তি করেই গবেষকরা  নিজেদের সিদ্ধান্ত জানিয়েছেন।

গবেষকরা মনে করেন, অধিকাংশ দম্পতিই ধূমপানে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। আবার একই সাথে তাঁরা এটাও মানেন যে, জীবন সাথী তো পেয়েই গেছেন, এখন আর ওজন কমিয়ে লাভই বা কি!

শীর্ষ গবেষক ড. স্টেফাইন স্কোপে নিউ সাইন্টিস্ট ম্যাগাজিনকে বলেন, ‘যখন কোনো যুগলের একে ওপরকে কাছে আনার জন্য আকর্ষণীয় হওয়ার প্রয়োজন পড়ে না, তখন তারা অনেক স্বস্তি বোধ করেন, আর খাওয়া-দাওয়ার মাত্রা বাড়িয়ে দেন। এমন খাবার খান যাতে অনেক বেশি ফ্যাট ও সুগার থাকে।’

সন্তান হয়ে গেলেও কি তাঁরা নিজেদের এই অভ্যাস পরিবর্তন করে না? স্টেফাইনের জবাব, ‘হ্যা চেষ্টা তারা করে। কিন্তু, বাচ্চারা তো অনেক খাবার নষ্ট করে। সেটা বাড়তি খাবার হিসেবে খেলে ফেলেন বাবা-মারা।’

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।