সালমানের সাথে কাজ করার প্রস্তাব ফিরিয়েছেন যারা

বরাবরই তিনি বক্স অফিস জয় করা নায়ক। তার ফ্লপ সিনেমাগুলোও যা আয় করে,  সেসব অনেক হিট সিনেমার চেয়েও বেশ হয়। যেকোনো নায়িকাই নিজের বিপরীতে তাঁকে পেতে চান। তিনি হলেন বলিউডের ‘ভাই’ – সালমান খান।

সালমান খানের বিপরীতে কাজ করার অর্থই হল সাফল্যের নিশ্চয়তা। সালমানের কাজের ধরণ ও জনপ্রিয়তা বিবেচনা করে কোনো নায়িকাই তাঁর বিপরীতে কাজ করতে দু’বার ভাবেন না। তবে, এর ব্যতিক্রমও আছেন। বেশ কয়েকজন শীর্ষ নায়িকা সালমানের বিপরীতে একটির বেশি সিনেমাতে অভিনয় করেননি।

  • টুইঙ্কল খান্না

টুইঙ্কল যখন নিয়মিত অভিনয় করতেন তখন সালমানে বিপরীতে তিনি ১৯৯৮ সালে‘জাব প্যায়ার কিসি সে হোতা হ্যায়’ সিনেমাটি করেন। ভাল ব্যবসা করার পর এই জুটিকে নিয়ে আরো সিনেমা বানানোর পরিকল্পনাও করেন প্রযোজক-পরিচালকরা। কিন্তু, সব প্রস্তাবেই টুইঙ্কল না বলে দেন। যদিও ‘চাল মেরে ভাই’ সিনেমায় একটা ক্যামিও রোল করেন তিনি।

  • ঐশ্বরিয়া রায়

সালমান আর ঐশ্বরিয়ার সম্পর্কে ভাঙনকে বলা হয় বলিউডের ইতিহাসে সবচেয়ে আলোচিত ব্রেকাপ। কেন্দ্রীয় চরিত্রে এই জুটির একমাত্র সিনেমা সঞ্জয় লীলা বনসালীর ‘হাম দিল দে চুকে সানাম’। মুক্তি পায় ১৯৯৯ সালে। দর্শকরা খুবই উচ্ছ্বাসের সাথে এই নতুন জুটিকে গ্রহণ করেছিল। তবে, নিজেদের সম্পর্কে ভাঙনের জের ধরে এক সাথে সিনেমা করা তো দূরের কথা, পরস্পরের মুখ দেখাদেখিই বন্ধ করে দেন অ্যাশ-সালমান। যদিও ২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া অভিষেক-অ্যাশের সিনেমা ‘ধাই আকশার প্রেম কি’ সিনেমায় ছোট্ট একটা অতিথি চরিত্রে ছিলেন সালমান।

  • সোনালী বেন্দ্রে

১৯৯৯ সালে মুক্তি পাওয়া পারিবারিক গল্পের সিনেমা ‘হাম সাথ সাথ হ্যায়’-তে এই জুটির রসায়ন দর্শকদের প্রশংসা কুড়ায়। কিন্তু, এই সিনেমার শ্যুটিং চলাকালেই কালো হরিণ শিকার করে বিতর্কে জড়ান সালমান। তাঁর জের ধরে সালমানের বিপরীতে কাজ করার প্রস্তাব ফিরিয়ে দেন সোনালী।

  • উর্মিলা মাতন্ডকর

উর্মিলা ও সালমান জুটিবদ্ধ হয়ে ‘জানাম সামঝা কারো’ সিনেমাটি করেন। যদিও, বক্স অফিস ১৯৯৯ সালের দুই এপ্রিল মুক্তি পাওয়া সিনেমাটিকে খালি হাতে ফিরিয়ে দেয়। এর জন্যই আর কখনো সালমানের বিপরীতে কাজ করেননি ‘রঙ্গিলা’ খ্যাত উর্মিলা।

  • আমিশা প্যাটেল

হৃত্বিক রোশনের সাথে তখন আমিশা প্যাটেলের জুটি জমে গেছে। এর মধ্যেই সালমান খানের সাথে ২০০২ সালে ‘ইয়েহ হ্যায় জালওয়া’ সিনেমাটি করেন আমিশা। তখন দু’জনের মধ্যে হৃদয়ের আদানপ্রদানও হয়ে গেছে। সালমানের বক্স অফিস ফর্ম তখন খারাপ। সিনেমাটি ফ্লপ হয়। এরপর আমিশা-সালমানের ছাড়াছাড়ি তো হয়ই, দু’জনই আর কখনো একে ওপরের সাথে সিনেমা করেননি। এখন নিজেকে একেবারেই হারিয়ে ফেলা আমিশা নিশ্চয়ই এই সিদ্ধান্তটির জন্য এখন আক্ষেপ করেন!

  • জুহি চাওলা

এই জুটি কখনোই ঠিক নিজেদের বিপরীতে কেন্দ্রীয় চরিত্রে কাজ করেননি। ১৯৯৭ সালের সিনেমা   ‘দিওয়ানা মাস্তানা’ সিনেমায় জুহির সাথে সালমান ছিলেন অতিথি চরিত্রে। সেবারই প্রথম ও শেষবারের মত পর্দায় সালমান-জুহিকে এক সাথে দেখা যায়। কেন এক সাথে এই জুটি কাজ করেননি? এই কারণটা অজানা। যদিও, ১৯৯২ সালে এক এক সাক্ষাৎকারে সালমান বলেছিলেন যে, একবার তিনি ‍জুহি চাওলাকে রীতিমত বিয়ের প্রস্তাব দিয়েছিলেন। কে জানে, এটাই হয়তো সালমান ও জুহির মধ্যে দূরত্বের কারণ!

– দেশিমার্টিনি, বলিউড লাইফ ও টাইমস নাও অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।