রেকর্ড গড়ে, রেকর্ড ভাঙে

১.

রেকর্ড গড়াই হয় ভাঙার জন্য। মিরপুর শেরে বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে তাই তো ভেঙে গেল দীর্ঘ ১২৮ বছর পুরনো এক রেকর্ড।

১২৮ বছর পর এই প্রথম টেস্টে কোনো ইনিংসের প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানই বোল্ড হলেন। আজ ঢাকা টেস্টের দ্বিতীয় ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের প্রথম ইনিংসে প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানকেই বোল্ড করেন বাংলাদেশের বোলাররা। আরো নির্দিষ্ট করে বললে বোলাররা হলেন সাকিব আল হাসান ও মেহেদী হাসান মিরাজ। এর মাধ্যমে ইতিহাসের পাতায় নিজেদের নাম লেখালো বাংলাদেশ। নাম উঠেছে ওয়েস্ট ইন্ডিজেরও। তবে সেখানে তাদের নাম থাকবে প্রতিপক্ষ হিসেবে।

১২৮ বছরের মধ্যে প্রথম হলেও টেস্ট ক্রিকেটের কোন ম্যাচে এই নিয়ে তৃতীয়বার কোন ইনিংসের প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানই বোল্ড হলেন। এর আগে ১৮৭৯, ১৮৯০ সালে কোন ম্যাচের কোন ইনিংসে প্রথম পাঁচ ব্যাটসম্যানই বোল্ড হয়েছিলো।

এমন ঘটনা প্রথম ঘটে ১৮৭৯ সালে। মেলবোর্নে অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড ম্যাচে। ঐ ম্যাচের প্রথম ইনিংসে ইংল্যান্ডের প্রথম ছয় ব্যাটসম্যানই বোল্ড আউট হয়েছিলেন। এরপরের ঘটনা ১৮৯০ সালে। ওভালে অস্ট্রেলিয়া-ইংল্যান্ড ম্যাচে। ঐ ম্যাচের তৃতীয় ও অস্ট্রেলিয়ার দ্বিতীয় ইনিংসে প্রথম সাত ব্যাটসম্যানই বোল্ড আউট হন।

২.

ঢাকা টেস্টে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ৫০৮ রানে অলআউট হয়েছে স্বাগতিক বাংলাদেশ। একই সঙ্গে নতুন রেকর্ড সৃষ্টি করেছে বাংলাদেশি ব্যাটসম্যানরা।

এই ইনিংসে বাংলাদেশের সকল ব্যাটসম্যান অন্তত দুই অঙ্কের কোটা স্পর্শ করেছেন। যা বাংলাদেশী ব্যাটসম্যানদের নতুন রেকর্ড। এর আগে এমন রেকর্ডের স্বাদ পেয়েছে বিশ্ব ক্রিকেটের পাঁচটি দল। দলগুলো হল – ইংল্যান্ড, দক্ষিণ আফ্রিকা, অস্ট্রেলিয়া, ভারত ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তাই ষষ্ঠ দল হিসেবে এই রেকর্ডে না উঠলো বাংলাদেশের। তবে বিশ্ব ক্রিকেটে এটি ১৪ তম ঘটনা।

 

টেস্টের এক ইনিংসে সব ব্যাটসম্যানের অন্তত ডাবল-ফিগারে পৌঁছানোর স্বাদ সবচেয়ে বেশি পেয়েছে ভারত। চারটি টেস্টে তাদের ব্যাটসম্যানরা এক ইনিংসে অন্তত দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছেছেন। তিনবার করে এমন কীর্তি গড়েছে ইংল্যান্ড-দক্ষিণ আফ্রিকা দল। এছাড়া অস্ট্রেলিয়া দু’বার ও ওয়েস্ট ইন্ডিজ একবার এমন কৃত্বি গড়েছে।

এখানেই শেষ নয়, বাংলাদেশের প্রথম ইনিংসের সবগুলো জুটিই পৌঁছেছে দুই অংকের ঘরে। এই নিয়ে তৃতীয়বারের মত এই কীর্তি গড়লো বাংলাদেশ। আর টেস্ট ক্রিকেটে সব মিলিয়ে এই ঘটনা ঘটেছে ৭৭ টি।

৩.

মুশফিকুর রহিম-নাসির হোসেনের পর বাংলাদেশের পক্ষে সাত নম্বরে ব্যাট হাতে নেমে সেঞ্চুরি করলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদ। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে ঢাকা টেস্টে সাত নম্বরে ব্যাট হাতে নেমে  ১৩৬ রানের নান্দনিক ইনিংস খেলেন রিয়াদ। সর্বশেষ এই সাত নম্বর পজিশনে সেঞ্চুরি করেছিলেন মুশফিক ও নাসির।

২০১০ সালে চট্টগ্রামে ভারতের বিপক্ষে সাত নম্বরে ব্যাট হাতে নেমে ১৭টি চার ও ১টি ছক্কায় ১১৪ বলে ১০১ রান করেন মুশফিক। সেটি ছিলো মুশফিকের ক্যারিয়ারের প্রথম সেঞ্চুরি। এরপর বাংলাদেশের পক্ষে সাত নম্বরে সেঞ্চুরি করেন নাসির। ২০১৩ সালে গল টেস্টে শ্রীলংকার বিপক্ষে সাত নম্বরে ব্যাট করে ৯টি চারে ১৫১ বলে ১০০ রান করেন নাসির।

মিনিটের হিসেবে বাংলাদেশের পক্ষে টেস্টে সবচেয়ে মন্থর সেঞ্চুরিটি আমিনুল ইসলাম বুলবুলের। ২০০০ সালে বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে অভিষেক টেস্টে ভারতের বিরুদ্ধে ৩৮৯ মিনিট খেলে তিন অঙ্কের ঘরে পৌঁছেছিলেন সাবেক এই অধিনায়ক। ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে করা মাহমুদউল্লাহ রিয়াদের সেঞ্চুরিটা এই তালিকার চতুর্থ স্থানে ঠাঁই পেয়েছে।

২০৩ বল খেলে ৩২৭ মিনিট ব্যাটিং করে ক্যারিয়ারের তৃতীয় সেঞ্চুরি পূর্ণ করেছেন তিনি। ২০১৭ সালে হায়দরাবাদে ভারতের বিপক্ষে ৩৪৩ মিনিটে সেঞ্চুরি করে মুশফিক রয়েছেন দ্বিতীয় স্থানে। তৃতীয় স্থানে খালেদ মাসুদ পাইলট। ২০০৪ সালে সেন্ট লুসিয়ায় ক্যারিবিয়ানদের বিরুদ্ধে ৩৩৪ মিনিটে সেঞ্চুরি করেছিলেন তিনি।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।