যে তিন কারণে ট্রলের শিকার হন আবুল হায়াত

সোস্যাল মিডিয়ায় এমন মানুষের অভাব নেই যারা অভিনেতা আবুল হায়াতকে নিয়ে ট্রলে মেতে ওঠেন উঠতে বসতে। একটা সময় ছিল যখন তাদের প্রত্যেককে জিজ্ঞেস করতাম, এর কারণ কি? মানুষ আলাদা হলেও সবার উত্তর ছিল একই – জানি না!

সবাই করে তাই তারাও করে, তাদের ভালোই লাগে। তো সেই থেকে এ ব্যাপারে একটু তথ্য ঘাটাঘাটি শুরু করলাম এবং এর কিছু কারণ বের করতে সক্ষম হলাম। তবে সেগুলো শতভাগ সঠিক কিনা সে ব্যাপারে গ্যারান্টি পাইনি, তবে প্রায় সঠিক ধরেই নিজের জ্ঞানপিপাসা মিটিয়ে ছিলাম।

ইদানিংকালে অনেককে দেখি এই প্রশ্নটি তুলেন, এরকম একজন অভিনেতাকে নিয়ে কেন ট্রল করা হয়? মূলত লেখাটি তাদের জন্যেই, না জেনে মূর্খের মতো রঙ্গতামাশা না করে তারা অন্তত জেনেবুঝে ট্রল করুক। বলে রাখা ভালো, এই বিষয় নিয়ে অনেক বছর আগে তথ্য খুজেছিলাম, সময়ের হিসাবে প্রায় ৫-৬ বছর আগে। এখন পুরোপুরি মনেও নেই, তবে যেটুকু মনে আছে তাই লিখলাম।

  •  পয়েন্ট ১: একগুচ্ছ নীপবনের গল্প

আবুল হায়াত অভিনয়ের পাশাপাশি খুব ভালোমানের একজন লেখক। ১৯৯১ সাল থেকে অমর একুশে বইমেলায় তিনি তার প্রথম বই প্রকাশ করেন। এ পর্যন্ত তিনি প্রায় ২৬-২৮ টির মতো বই রচনা করেছেন। তবে তিনি সর্বপ্রথম বিতর্কের মুখে পড়েন ২০০১-০২ এর দিকে। সেবার একুশে বইমেলায় তিনি একটি এডাল্ট জোকসের বই প্রকাশিত করেন! তখন তার বয়স ৬০ এর কাছাকাছি, এই বুড়ো বয়সে এসে যখন সবাই তাকে অ্যাডাল্ট কনটেন্ট নিয়ে নাড়াচাড়া করতে দেখলো, তখন তরুণসমাজ তাকে নিয়ে হাস্যরসে মেতে উঠলো। আবুল হায়াতের ছদ্মনাম ‘বাবুল বক্সী’র সূত্রপাত মূলত ওখান থেকেই।

  • পয়েন্ট ২: হুমায়ূন আহমেদ

জি হ্যাঁ, এদেশের সবথেকে জনপ্রিয় কথা সাহিত্যিক কয়েক বছর আগে হওয়া সেই বইমেলা কাণ্ডের আগুনে ঘিঁ ঢেলে দিয়েছিলেন! হুমায়ূন আহমেদের একটি বিখ্যাত বই আছে, নাম সম্ভবত ‘হিমু রিমান্ডে’। ওখানে এরকম একটা ঘটনার উল্লেখ ছিল।

কেউ একজন টিভিতে একটি রহস্যধর্মী অনুষ্ঠান দেখছে। অনুষ্ঠানে যখন টানটান উত্তেজনা, তখন দিলো বিরতি। এরপর চ্যানেলে শুরু হলো একের পর এক আবুল হায়াতের বিজ্ঞাপন। আবুল হায়াত একবার বলছে, সিংহ মার্কা ছাড়া শরীফ মেলামাইন কিনবেন না; এর পরের বিজ্ঞাপনে বলছেন আসল টিন দেখে কিনুন, অমুক টিন টিকে বেশিদিন; এরপরের বিজ্ঞাপনে তিনি আবার প্লাস্টিক পাইপের গুনগান গাইছেন.. ইত্যাদি ইত্যাদি। চ্যানেল জুড়ে তখন শুধুই আবুল হায়াতের বিজ্ঞাপন!

হুমায়ুন আহমেদকে আরো এক জায়গায় এরকম একটা বক্তব্য দিতে শুনেছি, ঠিক কোথায় শুনেছি তা খেয়াল নেই। সেখানে বলা হয়েছিল, বছরের অন্তত একটা দিন আবুল হায়াতের জন্য রাখা দরকার। ওই দিন দেশের সব টিভি চ্যানেলে আবুল হায়াতের বিজ্ঞাপন দেখাবে, আবুল হায়াতের নাটক দেখাবে, আবুল হায়াত ও আরো কিছু টাকওয়ালা প্রতিযোগিদের নিয়ে রিয়েলিটি শো প্রচার করবে। হুমায়ূন আহমেদ প্রশংসা আর আর খানিকটা মজা করেই লেখাগুলো লিখেছিলেন। কিন্তু, পাঠকরা কথাগুলোকে নিয়েছেন নেতিবাচক ভাবে।

  • পয়েন্ট নং ৩: থার্ড পারসন সিঙ্গুলার নাম্বার

মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর এই ছবিটা মূলত তাকে নিয়ে তৈরী হাস্যরসের পরিপূর্ণ ভিত্তিটা গড়ে দেয়। কারণ আগেরগুলোর জন্য তিনি সমালোচিত হলেও সেগুলোর রেশ বেশিদিন টিকেনি। কিন্তু জনপ্রিয় এই ছবির রেশ আবুল হায়াত যেনো এখনো বয়ে বেড়াচ্ছেন! এ ছবিতে আবুল হায়াতকে এক চরিত্রহীন বুড়ো হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে। আর বলাই বাহুল্য সেই চরিত্রায়নে তিনি শতভাগ পাশ মার্ক পেয়েছেন। কিন্তু, উপস্থাপনা এতটাই ভাল হয়েছে যে, বাস্তব জীবনেও হাজারো মানুষের ট্রলের শিকার হচ্ছেন তিনি।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।