বিশ্বকাপটাও তো রিয়াল মাদ্রিদেরই দখলে!

রিয়াল মাদ্রিদের ফ্লোরেন্তিনা পেরেজকে বলা হয় দল বদলের মাস্টারমাইন্ড। তিনি বেছে বেছে এমন সব খেলোয়াড়কেই ক্লাবে আনেন যারা কালক্রমে হয় গ্রেট নন, না হয় কার্যকর ফুটবলার হিসেবে সুনাম কুড়ান। পেরেজ যে পাকা জহুরী সেটা বোঝা যাচ্ছে বিশ্বকাপেও। কম বেশি সব রিয়াল তারকাই রাশিয়াতে ঝড় তুলছেন।

টানা তিনটি উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগের শিরোপা জিতে আসা রিয়াল তারকাদের জয়ের ক্ষুধা যেন মিটছেই না। লস ব্ল্যাঙ্কোসরা দ্য গ্রেটেস্ট শো অব আর্থেও নিজেদের পারফরম্যান্সের ধারাবাহীকতা ধরে রেখেছেন।

এই তালিকায় সবার ওপরে নি:সন্দেহে আসরে ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদোর নাম। যদিও, হ্যারি কেইন পানামার বিপক্ষে হ্যাটট্রিক করে সি আর সেভেনের চেয়ে এক গোলে এগিয়ে আছেন তবুও, বিশ্বকাপে এখন অবধি সবচেয়ে আলোচিত তারকা হলেন রোনালদোই।

রোনালদো যেমন গোল পেয়েছেন, তেমনি ভাবে প্রশংসিত হয়েছে তাঁর নেতৃত্ব দেয়ার যোগ্যতাও। তিনি গোল ও নেতৃত্ব – দু’দিক থেকেই ছাড়িয়ে গেছেন লিওনেল মেসিকে। তাই তো বেশ কয়েকজন তারকার দল আর্জেন্টিনার চেয়ে পারফরম্যান্সে এগিয়ে পর্তুগাল।

রোনালদোর পরেই লস ব্ল্যাঙ্কোসদের মধ্যে আসবে লুকা মড্রিচের নাম। স্বয়ং ডিয়েগো ম্যারাডোনা তাঁর খেলা দেখে বলেছেন, ‘ও দারুণ। নেতৃত্ব ব্যাপারটাও ভাল বোঝে। ওর মত একজন খেলোয়াড় থাকলে আর্জেন্টিনা উৎরে যায়। মেসির ওর কাছ থেকে কিছু শেখা উচিৎ।’

দু’টো ম্যাচেই মড্রিচ ছিলেন অসাধারণ। বিশেষ করে আর্জেন্টিনার বিপক্ষে দুরপাল্লার শট থেকে আসা ক্রোয়াট অধিনায়কের গোলটা তো রীতিমত বাঁধিয়ে রাখার মত একটা দৃশ্যের জন্ম দেয়।

মড্রিচ ভেলায় ভাসছে ক্রোয়েশিয়া

দৃষ্টি নান্দনিকতার দিক থেকে অবশ্য টনি ক্রুসও থাকবেন এই তালিকায়। সুইডেনের বিপক্ষে একদম অন্তীম মুহূর্তে যে একটা মাপা সেট পিস থেকে গোল করলেন, তাতে এই বিশ্বকাপের অন্যতম সেরা গোলটা লেখা হয়ে গেল এই জার্মান ফুটবলারের নামের পাশে।

এবার আসা যাক স্পেনের প্রসঙ্গে। বিশ্বকাপ শুরুর আগেই রিয়াল মাদ্রিদ নতুন কোচ হিসেবে জুলেন লোপেতেগুইয়ের নাম ঘোষণা করায় স্পেন তাঁকে বরখাস্ত করে বসে। দায়িত্ব পান টেকনিক্যাল ডিরেক্টর ফার্নান্দো হিয়েরো। সে বিবেচনায় মোটেই ছন্নছাড়া ফুটবল খেলছে না স্প্যানিশরা।

গেল দুই ম্যাচে ইসকো কিংবা রামোসরা তাঁদের স্বভাবসুলভ ভাল ফুটবলের ধারা অব্যাহত রেখেছেন। ইসকো ২৬১ টি পাস সঠিক ভাবে শেষ করতে পেরেছেন, অন্যদিকে টনি ক্রুস, ব্রাজিলের মার্সেলো ও সার্জিও রামোস যথাক্রমে ২৪২, ২৪০ ও ২৩১ টি পাস সঠিক ভাবে দিতে পেরেছেন। এই পরিসংখ্যানগুলো সত্যিই ঈর্ষণীয়।

টনি ক্রুস

স্পেনের খেলায় দেখা যাচ্ছে যে, ২০১০ সালের চ্যাম্পিয়নরা ডেভিড সিলভার ওপর ধারাবাহীকতার কারণেই সম্পূর্ণ নির্ভর করতে পারছেন না। সেদিক থেকে বরং খেলাকে গতিশীল রাখছেন ইসকো।

২৬ রিকভারিং পজেশন দিয়ে চলতি টুর্নামেন্টে বাকি সবাইকে ছাপিয়ে গেছেন ব্রাজিলের মার্সেলো। এখান তাঁর পরেই আছেন চেলসসির এন’গোলো কান্তে। শোনা যাচ্ছে, তাঁরও গন্তব্য নাকি মাদ্রিদ। অন্যদিকে শুরুতে এলোমেলো হলেও একটু একটু করে ছন্দে ফিরছেন ক্যাসেমিরো।

এমনকি টানা দুই পরাজয়ের পরও মুগ্ধ করছেন কেইলর নাভাস। রিয়াল মাদ্রিদের এই গোলরক্ষক জাতীয় দল কোস্টারিকার হয়ে চলতি টুর্নামেন্টের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সংখ্যক গোলের সুযোগ নষ্ট করেছেন। এখানে তাঁর সাথেই আছেন ডেনমার্কের ক্যাসপার শেমেইচেল। সবার ওপরে আছেন মেক্সিকোরে গুইলেরমো ওচোয়া।

নাভাস বনাম ক্যাসেমিরো

– মার্কা অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।