সিনেমা নয়, সত্যি: ১৫ মাসে ১৬ এনকাউন্টার

রানী মুখার্জীর ‘মারদানি’ সিনেমার কথা মনে আছে? শিভানি রায় চরিত্রটা সাহসিকতার জন্য প্রশংসিত হয়েছিল। অভিনয় করা রানীও প্রশংসিত হয়েছিলেন। বাস্তবেও আছেন এমন অনেক ‘মারদানি’।

পুরো দেশ যেখানে দুর্নীতি আর সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে পাঞ্জা লড়ছে সেখানে ভারতের কিছু নিবেদিত নারী পুলিশ পাদপ্রদীপের আলোয় চলে আসছেন নিজেদের প্রজ্ঞা আর সাহসিকতা দিয়ে। এঁদের মধ্যে অন্যতম সংযুক্তা পরাশর। তবে, ভারতে ‘আসামের লৌহমানবী’ নামেই বেশি পরিচিত তিনি।

ছোট বেলা থেকেই আর দশটা মেয়ের মত লাইফস্টাইলে অনীহা ছিল সংযুক্তার। স্কুল জীবন থেকে সাঁতার, স্প্রিন্টসহ নানারকম অ্যাথলেটিক্সে নিজেকে মানিয়ে নিয়েছিলেন। ছোটবেলায়ই তার ট্রফির শো-কেস ভরে উঠেছিলো কাঁড়িকাঁড়ি  বোঝা যাচ্ছিল, জীবনে বড় কিছুই করতে চান সংযুক্তা।

আসাম রাজ্যে প্রথম নারী পুলিশ অফিসার হিসেবে যোগ দেন তিনি। এরপর থেকেই সে রাজ্যের আইন শৃঙ্খলায় আসে যুগান্তকারী পরিবর্তন। গত পনেরো মাসে ৬৪ জন বিচ্ছিন্নতাবাদীকে গ্রেফতার করার পরিসংখ্যান তারই প্রমাণ দেয়।

আসামে প্রাথমিক শিক্ষা গ্রহণের পরে সংযুক্তা রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিষয়ে তার গ্র্যাজুয়েশন সম্পন্ন করেন দিল্লী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। এরপরে মাস্টার্স করেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিষয়ে, জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় থেকে। একই জায়গা থেকে যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ে এমফিল ও পিএইচডি করেন। তাকে আপনি ড.সংযুক্তা নামেও ডাকতে পারেন।

স্কুলজীবন থেকেই আসামের ক্রমবর্ধমান দুর্নীতি, সন্ত্রাসবাদ নিয়ে চিন্তিত ছিলেন সংযুক্তা। ভালো গ্রেড নিয়ে গ্র্যাজুয়েশন-পোস্ট গ্র্যাজুয়েশন শেষ করার পরেও এসব কারণেই তিনি তার রাজ্য ছেড়ে যাননি। তার ব্যাচ ২০০৬। ২০০৮ সালে তাকে আসামের মাকুম অঞ্চলে অ্যাসিস্টেন্ট কমান্ড্যান্ট হিসেবে যোগদান করেন।

শীঘ্রই তাকে বোদো আর অবৈধ বাংলাদেশি সন্ত্রাসীদের মধ্যকার সাম্প্রদায়িক সহিংসতা রুখতে উদালগুরিতে স্থানান্তরিত করা হয়। ১৫ মাসের অপারেশনে তিনি ১৫ জন সন্ত্রাসীকে এনকাউন্টারে মেরে ফেলেন, ৬৪ জনকে গ্রেফতার করেন।

চার বছরের এক বাচ্চার মা সংযুক্তা সম্প্রতি এক অপারেশনে তার একে ৪৭ রাইফেল নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়েন। গত কয়েক বছরে তিনি নিজেকে বোদোবিরোধী অপারেশনে পুরোপুরি উৎসর্গ করেন।

এর বাইরেও, সংযুক্তাকে রিলিফ ক্যাম্পে সন্ত্রাসী হামলায় স্বজন হারানো দীনমানুষের সাথে সময় কাটাতে দেখা যায়। তিনি পরিবারের সাথে দুইমাসে কেবল একবারের মতো সময় কাটাতে পারেন। তার কাজের প্রতি এবং সন্ত্রাসদমনে তার এ নিবেদন অন্যদের জন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করছে প্রতিনিয়ত।

নিয়মিত ন্যাশনাল ডেমোক্রেটিক ফ্রন্ট অব বোদো (এনডিএফবি) তাকে প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছে। তবে, কোনো কিছুই তাকে নিজের কর্তব্য পালন থেকে দূরে সরিয়ে রাখতে পারেননি!

– ইওরস্টোরি.কম, ইন্ডিয়া.কম ও বেটারইন্ডিয়া.কম অবলম্বনে

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।