রাকেশ ‘দ্য সাকসেস মেশিন’ রোশন

যশ চোপড়া, মনমোহন দেসাই, ঋষিকেশ মুখার্জি, ডেভিড ধাওয়ান, সুভাষ ঘাই কিংবা একালের রোহিত শেঠি – বানিজ্যিক ছবির সফল নির্মাতাদের তালিকায় এই নামগুলো উচ্চারিত হয়। তবে, আদৌ কি সেখানে রাকেশ রোশনের নাম নেওয়া হয়?

প্রশ্নের উত্তরটা যদি ‘না’ও হয় তারপরও বলে রাখা উচিৎ যে এই পরিচালকের ট্র্যাক রেকর্ড বলে তিনি খুব সফল একজন নির্মানা। ক্যারিয়ারে যে ১৩ টি সিনেমা নির্মান করেছেন তার মধ্যে আটটিই ব্যবসাসফল, একটি অ্যাভারেজ।

তখন অভিনেতা ছিলেন

অভিনেতা হিসেবে রাকেশ রোশনের ক্যারিয়ারকে সাদামাটাই বলা যায়। সেই আক্ষেপ সেকেন্ড ইনিংসে আর রাখেননি তিনি। প্রথম উদ্যোগ ‘খুদগার্জ’। শত্রুঘ্ন সিনহা ও জিতেন্দ্র অভিনিত সিনেমাটি বক্স অফসে বিপুল সাফল্য পায়। রাকেশ রোশন বুঝিয়ে দেন, তাঁর জন্মই হয়েছে পরিচালক হওয়ার জন্য।

এরপর ‘খুন ভারি মাঙ’-এ প্রধান চরিত্রে নেন চিরসবুজ অভিনেত্রী রেখাকে। অস্ট্রেলিয়ান একটা মিনি সিরিজ অবলম্বনে নির্মিত এই সিনেমা দিয়েই প্রত্যাবর্তন হয় রেখার। যদিও, সিনেমাটি ব্যবসার দিক থেকে যতটা সম্ভব ততটা এগোতে না পারলেও হিট হয়। যদিও, সমালোচকদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেছিল। নারী কেন্দ্রিক এই সিনেমার জন্য ফিল্ম ফেয়ারের বিবেচনায় সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার পান রেখা।

রেখার সাথে স্ক্রিন শেয়ার করেন ‘খুবসুরাত’ সিনেমায়

এই দু’টো ছবিই ইন্ডাস্ট্রিতে রাকেশ রোশনের পায়ের নিচের মাটি শক্ত করে। বড় তারকাদের ছবির জন্য প্রস্তাব করা সহজ হয়। তাই তো এর পরের ছবি ‘কালা বাজার’-এ তিনি কাস্ট করেন সেই সময়ের অন্যতম বড় দুই তারকা অনিল কাপুর ও জ্যাকি শ্রফকে।

সুভাষ ঘাইয়ের ‘রাম লাখান’ সুপার হিট হওয়ার পর অনিল-জ্যাকির জুটি নিয়ে দর্শকদের বেশ আগ্রহও ছিল। তবে, সিনেমাটিকে ঘিরে যতটা হাইপ হয়, তার তুলনায় বক্স অফিস থেকে আসে সামান্যই। আশাহত না হলে পরিচালক বিপুল বিক্রমে ফিরে আসেন ‘কিষান কানহাইয়া’ দিয়ে, যেটা ছিল  ‘রাম ওউর শ্যাম’-এর অফিসিয়াল রিমেক।

এই সিনেমার সাফল্যের পর রোশন ‘খেল’ ও ‘কিং আঙ্কেল’ নামের দু’টি ফ্লপ সিনেমা উপহার দেন। ভেঙে পড়েননি, অভিনেতা হিসেবে এরচেয়েও বড় বড় ব্যর্থতা আগের জীবনে দেখে এসেছেন তিনি।

এরপর নব্বই দশকের সবচেয়ে বড় দুই সুপারস্টারকে তিনি এক সিনেমায় নিয়ে আসেন। শাহরুখ খান ও সালমান খানকে প্রথমবারের মত এক সিনেমায় দেখা যায়।  সাথে ছিলেন কাজল ও মমতা কুলকার্নিা। ফলাফল, জন্ম হয় একটি ব্লকবাস্টার সিনেমা ‘করণ অর্জুন’।

`করণ অর্জুন’-এর সেটে

না, এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি রাকেশ রোশনকে। ১৯৯৭ সালের ‘কয়লা’য় তিনি অবশ্যই সামান্য ব্যর্থতার ঝটকা সামলেছেন। তারপরও সিনেমাটা ফ্লপ ছিল না। লভ্যাংশ তুলে নিয়ে বক্স অফিসের বিবেচনায় ‘অ্যাভারেজ’-এর মর্যাদা পায়া।

১৯৯২ সালে ‘কারোবার’ নামের আরেকটি সিনেমা পরিচালনা করেন রাকেশ। যদিও, অনিল কাপুর, ঋষি কাপুর ও জুহি চাওলা অভিনিত এই সিনেমাটি পোস্ট প্রোডাকশন জনিত জটিলতায় অনেকদিন আটকে থাকার পর মুক্তি পায় ২০০০ সালে।

এরপর রাকেশের সুপুত্র হৃতিক রোশনের ক্যারিয়ার শুরুর পর থেকে পথটা একদমই মসৃন ছিল।

খুব কম পরিচালকই হৃতিকের সামর্থ্যের সদ্ব্যবহার করতে পেরেছেন, যতটা পেরেছেন রাকেশ। এই বাপ-বেটার জুটি আজ অবধি ব্যর্থ হয়নি। তাঁদের চারটি সিনেমা ‘কাহো না প্যায়ার হ্যায়’, ‘কোয়ি মিল গ্যায়া’, ‘কৃষ, ও ‘কৃষ থ্রি’ – সবগুলোই ছিল ব্যবসাসফল। হৃতিকের যোগ্যতা আর স্টারডম – সব কিছুরই ব্যবহার ছিল এই সিনেমাগুলোতে।

‘কাহো না প্যায়ার হ্যায়’ সিনেমাটি হৃতিককে একজন সম্ভাবনাময় প্রতিভা হিসেবে স্বীকৃতি দেয়। ‘কোয়ি মিল গ্যায়া’-তে তিনি নিজের অভিনয় দক্ষতা ও অ্যাকশন ঘরানার চূড়ান্ত প্রমাণ দেন। আর ‘কৃষ’ ও ‘কৃষ থ্রি’-তে বুঝিয়ে দেন তিনিই বলিউডের সুপার হিরো। হ্যা, এই জুটি শিঘ্রই ‘কৃষ ফোর’-এর শ্যুটিং শুরু করতে যাচ্ছেন।

রাকেশের যত সাফল্য

কৃষ থ্যি: ব্লকবাস্টার

কৃষ: ব্লকবাস্টার

কোয়ি মিল গ্যায়া: সুপার হিট

কাহো না প্যায়ার হ্যায়: ব্লকবাস্টার

কয়লা: অ্যাভারেজ

করণ অর্জুন: ব্লকবাস্টার

কিষান কানহাইয়া: সুপারহিট

খুন ভারি মাঙ: সুপারহিট

খুদগার্জ : হিট

এর অর্থ হল পরিচালক যে ১৩ টা ছবি করেছেন, তাতে ফ্লপ মোটে চারটি। এর এর মধ্যে পোস্ট প্রোডাকশনের জটিলতার কথা বিবেচনা করে আপনি চাইলে ‘কারোবার’ বাইরে সরিয়ে রাখতে পারেন। সেখানে ফ্লপের সংখ্যা মাত্র তিনটি। এই পরিসংখ্যানটা কিন্তু গর্ব করার মতই।

– কইমই অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।