‘আমার ছবি আমাকেই কেন পাঠাচ্ছ?’

টানা ২৫ দিন সঞ্জয় দত্তের সাথে বসা, ২০০ ঘণ্টার বেশি রেকর্ডিং, সেখান থেকে সাড়ে সাতশ পেজ এর ট্রান্সক্রিপ্ট লেখা- এর ফলাফল হল সাঞ্জু।

সঞ্জয়ের মুখে তার জীবনের গল্প শোনার পর আমার আর আমার টিমের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ছিল সেইসব ঘটনা আসলেই কতটা সত্যি আর কতটা অতিরঞ্জিত- সেটা সম্পর্কে শিউর হওয়া। কিছু ঘটনা শুনে আমার কিছুতেই বিশ্বাস হচ্ছিল না যে এটা সত্যি হতে পারে, আমি ধরেই নিয়েছিলাম এটা সঞ্জয় একটু বাড়াবাড়ি করে বলছে।

যেমন সঞ্জয় আমাকে বলেছিল, একবার নাকি সে আমেরিকাতে ইন্ডিয়ান ডে প্যারেডে বারাক ওবামার সঙ্গে হেঁটেছিল। কয়েকজন ওকে চিনতে পেরে ঘিরে ধরে, অথচ ওবামাকে নাকি তারা চিনতে পারে নাই! কোথাকার কোন ভারতীয় অভিনেতাকে নিয়ে মাতামাতিতে বিরক্ত হয়েছিলেন ওবামা। এই ঘটনা বিশ্বাস করার কোনো কারণ নেই। কিন্তু পরে আমরা খুঁজে পাই ঘটনা সত্যি, শিকাগো ট্রিবিউনে নিউজও ছাপা হয়েছিল এই ব্যাপারে!

তবে যেটা সঞ্জয় আমাদের বলে নাই, সেটা হল, এটা ওবামার প্রেসিডেন্ট হওয়ার আগের ঘটনা, তখন তিনি শুধু একজন সিনেটর ছিলেন। যদিও তখনও মানুষ তাকে চিনত।

টানা তিনমাস রণবীরকে শুধু মেকাপ করাতাম সঞ্জয়ের লুক দেয়ার জন্য, প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা। ছেলেটাকে সবার মত লাগত, কিন্তু শুধু সঞ্জয়ের মতই লাগত না! তিনমাস শেষে একদিন মেকাপের পরে ও যখন আমার রুমে ঢুকল, ওকে দেখে তো আমি থ! জলদি ছবি তুলে সঞ্জয়কে পাঠালাম। সে জবাব দিল, ‘আমার ছবি আমাকেই কেন পাঠাচ্ছ?’ তখনই বুঝে যাই, ঠিক পথেই আছি!

রাত দুইটা বা ভোর ছয়টা হোক – রণবীরকে একবার ফোন দিলেই সে হাজির। এই ছবিতে মেকআপ করতেই পাঁচ-ছয় ঘণ্টা লেগে যেত। সকাল আটটায় শুটিং শুরু হতো। সে আগের রাত তিনটায় এসে মেকআপে বসে যেত। বিরক্তি দেখাত না একদম। নিজের মোবাইলে সে বিভিন্ন ভিডিও সেভ করে রেখেছিল সঞ্জয়ের, নব্বই দশকের ভিডিও, ২০০০ সালের ভিডিও, ২০০০ এর পরের ভিডিও।

এমনও অনেকদিন হয়েছে, ওর কোন শুটিং নাই, এরপরেও আমার অফিসে এসে সে চুপচাপ বসে আছে। এমন ডেডিকেশন একজন পরিচালক একজন অভিনেতার কাছ থেকে পান, আর কিছু লাগে?

ট্রেলারে টয়লেটের ভেতর থেকে নোংরা পানি বের হওয়ার সিন দেখে নিশ্চয় আপনারা সবাই শিউরে উঠেছেন? পুরো জিনিসটা কিন্তু সত্যি না একদম, আমরা হলুদ রঙ করা পানি দিয়ে বানিয়েছি কৃত্রিমভাবে। সিনেমার অনেক সিনেই রণবীরের শট এবারেই ‘ওকে’ হয়েছিল, অথচ এই সিনে দৃশ্যে বেশ কয়েকবার টেক দিতে হয়েছে রণবীরের মত অভিনেতাকেও!

ভয় পেয়ে গিয়েছিল সে হুট করে এত নোংরা পানি দেখে। পরিচালক হিসেবে তখন শুধু চিন্তা করেছি- সঞ্জয়ের সাথে তো এটা সত্যি ঘটেছে, আসলেই তার টয়লেট থেকে পানি উপচে এসেছে! সে কীভাবে সামলেছে এই সময়টা?

সঞ্জয়কে জিজ্ঞাসা করতে বলেছিল- একটা সময় নাকি সে পা শূন্যে খানিকটা উঁচু করে ঘুমানো অভ্যাস করে ফেলেছিল। ইভেন এখনও নাকি সে মাঝে মাঝেই মনের ভুলেই ঘুমানোর সময় অটোমেটিক তার পা দুটোকে উঁচু করে ফেলে। চোখের পানি আটকানো যায়না আসলে এসব ঘটনা শুনলে।

ট্রেলারে রণবীরের অভিনয় কিছুই দেখনো হয়নি। সিনেমাতে রণবীর যা করেছে, সত্যিই অবিশ্বাস্য। বাকিটা না হয় সিনেমা হলেই দেখবেন।

– নিউজ১৮-এ কথাগুলো বলেছেন রাজকুমার হিরানি, সাঞ্জু সিনেমার পরিচালক।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।