সঞ্জয়কে গ্লোরিফাই করতে ছবি বানাইনি: রাজকুমার হিরানি

বাবা চেয়েছিলেন ছেলে পুনের খ্যাতনামা ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইন্সটিটিউট অব ইন্ডিয়ার অভিনয় বিভাগে ভর্তি হোক। দেরী করে ফেলায় সেই সুযোগ হাতছাড়া হয় তাঁর। রাজকুমার হিরানি তাই বাধ্য হয়ে ভর্তি হন চলচ্চিত্র নির্মান বিভাগে। এখন তিনি সময়ের সেরা নির্মাতাদের একজন, ছড়ি ঘোড়ান অভিনেতাদের ওপর। সাম্প্রতিক সময়ে বন্ধু সঞ্জয় দত্তর জীবন অবলম্বনে নির্মিত ‘সাঞ্জু’ সিনেমাটি ব্যবসা সাফল্যের সাথে সাথে আলোচনার ঝড় তুলেছে। এমন সময়েই কলকাতার দৈনিক আনন্দবাজার-এ এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে মুখোমুখি হলেন গুণী পরিচালক রাজকুমার হিরানি।

আপনার ফিল্মি ক্যারিয়ারের প্রথম বায়োপিক ‘সাঞ্জু’। ছবিটা বানানোর বিশেষ কোনো কারণ আছে কি?

– সাঞ্জু (সঞ্জয় দত্ত) যখন প্যারোলে ছাড়া পেয়েছিল জেল থেকে, আমি ওর সঙ্গে দেখা করতে গিয়েছিলাম। সে দিন ও অনেক কিছু শেয়ার করেছিল। আট ঘণ্টা কাটিয়েছিলাম ওর বাড়িতে। পর দিন আবার ফোন করে ডেকেছিল আমাকে, সে দিনও অনেকক্ষণ ছিলাম। ফিরে এসে মাথায় শুধু একটাই চিন্তা! সাঞ্জুর সম্পর্কে আমরা যা জানি, তার সব মিডিয়াই আমাদের জানিয়েছে। কিন্তু গত দু’দিনে আমি যা জানলাম, সেগুলো তো কেউ জানে না! সাঞ্জু মনপ্রাণ খুলে সব স্বীকার করেছিল আমার কাছে। এক জন পরিচালক হিসেবে যা আমার মনকে সবচেয়ে বেশি নাড়া দিয়েছিল, সেটা হল বাবা-ছেলের সম্পর্ক। বাড়িতে কী রকম পরিবেশ ছিল, বাবা এবং ওর দু’বোনের সঙ্গে কী কথাবার্তা হতো— সব কিছু সাঞ্জু আমাকে বলেছিল। সেই সময়ে আমি আর চিত্রনাট্যকার অভিজাত জোশি ‘মুন্নাভাই’ লিখছিলাম। কিন্তু তখন ‘সাঞ্জু’র গল্পটা বলার লোভ জেগেছিল আমার মনে। অভিজাতকে ডেকে তাই এই ছবিটার কাজ শুরু করলাম।

– সঞ্জয়কে রাজি করানো কতটা কঠিন ছিল?

না, খুব কঠিন হয়নি। আমি প্রথম দিনই সাঞ্জুকে বলে দিয়েছিলাম, তোমার গল্পকে গ্লোরিফাই করার জন্য আমি এই ছবি বানাবো না। যে সততার সঙ্গে তুমি আমাকে তোমার গল্প শুনিয়েছ, আমি ঠিক সে ভাবেই ছবিটা বানাবো। ৩০৮ জন গার্লফ্রেন্ড বা নিজের কাছে বন্দুক রাখা বা মাদকাসক্তি নিয়ে ক’জন কথা বলতে পারে?

– আপনি সুনিল দত্তের সঙ্গেও কাজ করেছেন ‘মুন্নাভাই’তে। সেই অভিজ্ঞতার কথা বলবেন?

পুরোদস্তুর ভদ্রলোক ছিলেন। সেটে আসার আগে পুরো স্ক্রিপ্টটা উর্দুতে চেয়েছিলেন। কারণ তাঁর সময়ে উর্দুতে স্ক্রিপ্ট পড়া হতো। সময়ের আগেই সেটে চলে আসতেন। এসে আমাকে জিজ্ঞাসা করতেন, ‘তোমার হিরো (সঞ্জয় দত্ত) কখন আসবে’? সাঞ্জু সব সময় লেট করতো। কিন্তু দত্ত সাহেব সব সময় উদগ্রীব হয়ে থাকতেন, কখন সাঞ্জুর সঙ্গে সিন হবে। সাঞ্জু আবার খুব ভয় পেত বাবাকে। কিন্তু দু’জনের মধ্যে সীমাহীন ভালবাসা ছিল।

– রণবীর কাপুরকে সঞ্জয় দত্ত হিসেবে ভাবলেন কেন?

প্রথম থেকে রণবীরকেই চরিত্রটির জন্য ভাবছিলাম। ২১ বছরের সাঞ্জু ‘রকি’তে অভিষেক করেছিল। সেই চেহারা আর ‘সাওয়ারিয়া’র রণবীর কপূরের চেহারার অনেক মিল। আমরা রণবীরকে ৩-৪ মাস সময় দিয়েছিলাম। ও প্রচণ্ড পরিশ্রম করেছিল। অনেক লুক পরীক্ষা করা হয়েছিল। কখনও পাশ, কখনও ফেল করেছে— কিন্তু হাল ছাড়েনি। সঞ্জয় দত্ত যেহেতু এক জন বিখ্যাত অভিনেতা, তাই চেহারায় একটু হলেও মিল থাকা জরুরি ছিল। ভেবে রেখেছিলাম, চেহারা না মিললে ছবিটা করব না।

‘সাঞ্জু’র পর অভিনেতা হিসেবে রণবীর সম্পর্কে আপনার ধারণা?

– রণবীর সত্যিই অসাধারণ! পরিচালকদের কাছে ওর মতো অভিনেতা থাকা মানে রক সলিড সাপোর্ট। আমরা সকলেই এই ছবিটার পিছনে তিন বছর দিয়েছি। এক বারের জন্যও রণবীর অভিযোগ করেনি। সকাল সাতটায় কল টাইম থাকলে ভোর তিনটায় এসে যেত। প্রস্থেটিক মেকআপ করতে ৩-৪ ঘণ্টা সময় লাগত বলে।

আপনার সঙ্গে গোটা ইন্ডাস্ট্রি কাজ করতে চায়। আপনি কার সঙ্গে কাজ করতে চান?

– শাহরুখ খান, সালমান খান, বরুন ধাওয়ান সবার সঙ্গেই কাজ করতে চাই। তবে আমার ছবি বানানোর পিছনে সবচেয়ে বড় কারণ চিত্রনাট্য। আমার স্ক্রিপ্ট নির্ণয় করে কাস্টিং, উল্টোটা নয়। কম ছবি বানাই কিন্তু বানালে ভাল বানাই।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।