সিনেমায় বৃষ্টির দৃশ্য চিত্রায়নের অতিমানবীয় গল্প

ওপরে যে ছবিটা দেখতে পাচ্ছেন, সেটা ১৯৮০ সালের একটি দুর্লভ ছবি। এফডিসিতে একটি শুটিংয়ের দৃশ্য। নায়ক-নায়িকা সত্যিকারের বৃষ্টি কিংবা কৃত্রিমভাবে বানানোও জলধারায় ভিজছে। ব্যাকগ্রাউন্ডে স্পিকারে রোমান্টিক গান চলছে।

চিত্র পরিচালক কিংবা দায়িত্ব পাওয়া নৃত্য পরিচালকরা তাদের নির্দেশনা দিচ্ছে। আর ক্যামেরাম্যান মুভি ক্যামেরা নিয়ে তা শুট করছে। বৃষ্টির পানিতে যাতে ক্যামেরার ক্ষতি না হয় ক্যামেরাম্যান আগাগোঁড়া নিজেকে পলিথিন কিংবা প্লাস্টিকে নিজেকে মুড়ে রেখেছে। দুর্লভ ছবি তো বটেই, বিশেষ করে আমরা যারা মুভির শুটিং দেখে অভ্যস্থ নই তাদের জন্য এটা বিরল এক দৃশ্য।

নায়ক-নায়িকার বৃষ্টিতে ভেজা রোমান্টিক গানের দৃশ্যায়ন। এই উপমহাদেশ বিশেষ করে বাংলাদেশ এবং ভারতের কমার্শিয়াল মুভির একটি চিরচেনা, নিজস্ব বা স্বকীয় রুপ। আমার মনে হয় না এই উপমহাদেশের বাইরে আর কোন দেশের চলচ্চিত্রে বৃষ্টিতে ভেজা রোমান্টিক গানের দৃশ্যায়ন হয় কি না।

ভাল নির্মাতারা তা যতটা সম্ভব শোভনীয় ভাবে উপস্থাপন করার চেষ্টা করে। অশ্লীল নির্মাতারা তা নোংরা ভাবে উপস্থাপন করে কোন একটি নির্দিষ্ট দর্শক শ্রেণীর কথা মাথায় রেখে। এভাবে বিভিন্ন দর্শক শ্রেণীর নিকট সেটা আলোচিত সমালোচিত হয়।

বাংলাদেশে এখন কমার্শিয়াল ছবি হয় কম। ভারতের চলচিচত্রের গল্প, কাঠামোতে আমূল পরিবর্তন এসেছে। মুভিতে এমনিতেও বাণিজ্যিক গানের পরিমান কমে আসছে, আর বৃষ্টি ভেজা গান তো আরও দুর্লভ হয়ে গেছে। বিশেষ করে অশ্লীল যুগের পর থেকেই এমন গান নির্মান বেশ কমে এসেছে ঢাকাই সিনেমায়।

সময়ের কালক্রমে সব কিছুতেই কম বেশি পরিবর্তন আসে। মুভিতেও এসেছে। অনেক কিছুই মুভি থেকে হারিয়ে গেছে, যাবে আবার নতুন কিছু যুক্ত হবে।

টিভি চ্যানেলে পুরনো ছবি চললে, কিংবা পুরনো ফটোগ্রাফ দেখলে মনে পড়ে যায় সেই সময়ের দৃশ্যপট যা একটা সময় আমরা দেখেছি। আর নবীন প্রজন্মদের জন্য যা একটি ইতিহাসের অংশ।

বলিউড বৃষ্টির গানের চিত্রায়নকে দারুণ এক শৈল্পিক রূপ দিয়েছে। মিস্টার ইন্ডিয়ার ‘কাটে নেহি কাটতে’, ‘মোহরা’র ‘টিপ টিপ বারসা পানি’ কিংবা একালের ‘গুরু’ সিনেমার ‘নান্নারে’ বা ‘থ্রি ইডিয়টস’-এর ‘জুবি ডুবি’ – সবই ক্লাসিক গান হিসেবে টিকে গেছে দর্শক-শ্রোতাদের মনে।

বৃষ্টির গান নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ দৃষ্টান্তমূলক এক কাজ করেছে তামিল ইন্ডাস্ট্রির নির্মাতারা। ভারতের তামিলনাড়ুতে তীব্র পানি সংকটের কারণে সিনেমায় বৃষ্টির দৃশ্য না রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন সেখানকার চলচ্চিত্র নির্মাতারা। নি:সন্দেহে তাদের এই উদ্যোগ প্রশংসার দাবী রাখে।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।