তাঁকে কোথায় কাবু করা যায় বিসিবি সভাপতি তা ভালই জানেন!

আজ যদি কপালগুনে তিনি নামেন কত করবেন?

সমীকরণগুলো বলছে, ০ থেকে ২০০ পর্যন্ত! যে কোন কিছু। লর্ডসে টেস্ট অভিষেকের সময়ও তাঁর পা ভারী হয়ে যায়নি ২২ গজে যাওয়ার আগে। আজ সিলেটের দারুন মাঠে তিনি যখন নামবেন পাগুলো কি ভারী হয়ে উঠবে না? মনে যে জমাট মেঘগুলো দলা পাঁকিয়ে উঠছে সেগুলো কি তাঁর শরীরকে আরো আঁকড়ে ধরার চেষ্টা করবে না?

একটা চলমান ঘটনা প্রবাহে মুশফিকুর রহিম এমন সময় বিসিবি’র চাহিদাপত্রের চোরাবালিতে হাঁটছেন, যেখান থেকে দ্বিতীয় ওয়ানডে খুব কাছে। পুরো দলটা যখন সিরিজ জিততে মরিয়া, তিনি যখন বড় রান করার মানসিক প্রস্তুতি নিয়ে রেখেছন-তখন চাহিদাপত্রের বোঝাটা তাঁর ভার বাড়িয়ে দিলো।

ন্যায্য অন্যায্য এসব যুক্তিতে যাবো না। কিন্তু গণমাধ্যমের বিভিন্ন প্রতিবেদনে যেভাবে বলা হয়েছে, তা সত্যি হলে একজন ক্রিকেটারের জন্য এরচেয়ে অসম্মানজনক আর কিছু হয় না। মুশফিক যদি পাকিস্তানে না যান তবে তাঁকে দ্বিতীয় ওয়ানডেতে একাদশে রাখা হবে না। এ শাস্তি ব্যবস্থায় অতীতে অনেকের ছুটির ঘটনা মনে পড়ে যাচ্ছে। বিসিবি আশা করছে, মুশফিক দিয়ে ভবিষ্যতের এই চেয়ে চিন্তে নেয়া ছুটির রাস্তা, যা তারা নিজেরাই তৈরী করে দিয়েছিল সেটা বন্ধ করে দেবে!

সে হিসেবে দেখা যাচ্ছে, মুশফিক এক সহজ শিকার। ইংলিশে বললে, পেইন্টেড টার্গেট। যাঁকে ইচ্ছে করলে বলে দেয়া যায়, পাকিস্তান না গেলে পরের ম্যাচে তোমাকে রাখা হবে না!

এ সিরিজটা জিম্বাবুয়ে না হয়ে, অস্ট্রেলিয়া বা শ্রীলঙ্কা হলেও কি বোর্ড এপথে হাঁটার সাহস দেখাতো! না কি তারাও নিশ্চিত, তুলনামূলক দুর্বল প্রতিপক্ষের সামনে মুশফিককে না খেলানোর একটা বার্তা দেয়ার ধারনাটা মন্দ নয়।

সবাই দুর্বল দেখলে ঝাঁপ দেয়। মুশফিক চাপের মুখে অনমনীয় হয়ে আর কতক্ষণ পারবেন? তাঁর গায়ে বিছুটির জ্বালা দেয়ার অপমান। তাঁর ১৫ বছরের প্রায় নিখুঁত সাদা ক্যারিয়ারে কালির ছিটে দিয়ে যাওয়া একটা অধ্যায় লেখা হয়ে গেলো সিলেটে।

যাঁরা এই বার্তা প্রচারে ছিলেন, তাঁদের একজন সাবেক অধিনায়ক। এই বিসিবিতে আরো তিন সাবেক অধিনায়ক আছেন যাঁরা বোর্ডের নানা পদে আছেন। বিসিবি নির্বাচনে দেওয়ান শফিউল আরেফীন টুটুলের সাবেক ক্রিকেটার না ঢুকতে দেয়ার পণের মধ্যে, গণমাধ্যমের বিপুল আগ্রহে যাঁদের অবস্থান হয়েছে পরিচালক হিসেবে। আকরাম খান, নাইমুর রহমান দুর্জয় ও খালেদ মাহমুদ সুজন। আরো খুঁজলে চলে আসবে নির্বাচক হাবিবুল বাশার সুমনের নাম।

পাঁচজন সাবেক অধিনায়ক থাকা সত্ত্বেও এমন আচরণ কম বেশি সবার জন্য হয়েছে।

মুশফিক এই চাপের মুখে তাঁর পাকিস্তান যাবো না নীতিতে আপোষ করে বসলে তাঁকে দোষ দেয়া যাবে না!

তাঁর কাঁধে হাত রেখে বোর্ডের কেউ তো বলতে আসছে না, ভেবো না। আমরা আছি!

আর জনসমর্থন? সামাজিক মাধ্যম?

৭২ ঘন্টার তুমুল ঝড় শেষে নতুন ইস্যুতে ব্যস্ত হবে। গোল্ডফিস নাকি অ্যাকুরিয়ামের এক প্রান্ত যেতে যেতে ভুলে যায়, তার কি করার কথা!

যেভাবে সবাই ভুলে যাই নিজের ছেলের জন্মের সময় মুশফিক ছুটি পাননি। শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে ৩৬টা পেইন কিলার খেয়ে ১৪৪ করে দলকে জিতিয়েছিলেন। কাঁধের হাড় কয়েকবার নামার পরও বলেছেন, আমি খেলবো।

তাঁকে কোথায় কাবু করা যায় বিসিবি সভাপতি তা ভালই জানেন!

দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা। আমি জানি শেষ বক্তব্যের ওই অংশটা মুশফিককে গত কয়েক রাত ঘুমাতে দেয়নি।
শেষ করবো একটা কথাতেই।

তোমাকে বধিবে যে গোকূলে বাড়িছে সে।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।