সাদামাটা জীবন পেছনে ফেলে সাফল্যের শিখরে

জীবন পুষ্পশয্যা তো নয়ই, কখনো কখনো কন্টকশয্যার চেয়েও বেশি কিছু। এই অভিনেতাদের কথাই ধরা যাক। আজকের দিনে তাঁরা যে অবস্থানে দাঁড়িয়ে আছেন, সে তুলনায় প্রথম জীবনটা কিন্তু তাদের জন্য ছিল দুর্বিষহ। নেহায়েৎ সাদামাটা এক জীবন পেছনে ফেলে তাঁর চলে এসেছেন লাইট ক্যামেরা অ্যাকশনের দুনিয়ায়।

  • অমিতাভ বচ্চন

অভিনেতা হওয়ার জন্য আহমেদাবাদ থেকে মুম্বাই এসেছেন। থাকার জায়গা না থাকায় বাধ্য হয়ে মেরিন ড্রাইবের বেঞ্চে রাত কাটিয়েছেন। মুম্বাই আসার আগে শিপিং কোম্পানিতে চাকরী করতেন। আর অভিনেতা হওয়ার সংগ্রামে যখন আছেন, তখন অল ইন্ডিয়া রেডিও স্টেশনে ঘোষকের চাকরী জুটিয়েছিলেন।

  • রজনীকান্ত

দক্ষিণী ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে বড় তারকা তিনি। অথচ, শৈশবে তিনি কুলির কাজ করতেন। এরপর তরুণ বয়সে ব্যাঙ্গালুরু ট্রান্সপোর্ট সার্ভিসের (বিটিএস) অধীনে করতেন বাস কন্ডাক্টরের কাজ।

  • অক্ষয় কুমার

অক্ষয় কুমার ব্যাংককে একটা হোটেলের শেফ ছিলেন। কাজ করেছেন ঢাকার পূর্বানী হোটেলেও। রাতে রান্নাঘরের মেঝেতেও থাকতে হয়েছে তাঁকে। মাসিক বেতন কখনোই ১৫০০ রুপির ওপর পেতেন না। ব্যাংককে মার্শাল আর্ট শিখেছিলেন। ভারতে এসে মডেলিংয়ের পাশাপাশি মার্শাল আর্ট প্রশিক্ষক ছিলেন তিনি।

  • নওয়াজউদ্দীন সিদ্দিকী

টানা দু’বছর দারোয়ানের চাকরী করেছেন মাসিক ৬০০-৭০০ রুপির বিনিময়ে। চাকরী পাওয়ার জন্য মায়ের গয়নাও বন্ধক রেখেছিলেন। দিল্লীতে এসে দিনে দিনে অনুশীলন, সন্ধ্যায় নাটকের শো আর রাতে দারোয়ানগিরি – এই ছিল নওয়াজের জীবন।

  • দিলীপ কুমার

একজন শুষ্ক ফল সরবরাহকারী হিসেবে তাঁর কর্মজীবন শুরু করেন ১৯৪০ সালে। একটা ক্যান্টিনও দিয়েছিলেন। ১৯৪৩ সালে মুম্বাই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির সেই সময়কার অন্যতম সেরা প্রযোজনা সংস্থা ‘বোম্বে টকিজ’-এর মালিকানাধীন অভিনেত্রী দেবিকা রানী ও তাঁর স্বামী হিমাংশু রাই পুনের সামরিক ক্যান্টিনে দিলীপ কুমারের সাথে ভাগ্যক্রমে পরিচয় হয়। প্রথম পরিচয়ের দিনই সাধারণ একজন যুবক ইউসুফ খানের মাঝে একজন তারকার প্রতিচ্ছবি দেখতে পান তাঁরা।

  • মনোজ বাজপেয়ি

মনোজ বাজপেয়ি’র ব্যক্তিগত জীবনটাও কম সিনেম্যাটিক নয়। বাবা ছিলেন কৃষক। বাকি পাঁচ ভাই-বোনের সাথে মনোজও কাজ করতেন মাঠে। দিল্লীর ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামা (এনএসডি) তিনবার ফিরিয়ে দিয়েছিল তাঁকে। এরপর সেখানেই তিনি যোগ দিয়েছিলেন শিক্ষক হিসেবে।

  • দেব আনন্দ

চিরসবুজ অভিনেতা দেব আনন্দের জীবনের প্রথমভাগও সাদামাটা ছিল। তিনি ছিলেন মুম্বাইয়ের চার্চ গেটে অবস্থিত সেন্সর অফিসের সামান্য একজন কেরানি। মাসিক বেতন পেতেন মাত্র ১৬৫ ভারতীয় রুপি।

  • আরশাদ ওয়ার্সি

প্রতিভাবান এই অভিনেতা শুরুর জীবনে দরজায় দরজায়, বাসে-বাসে ঘুরে লিপস্টিক, নেইল পলিশ ইত্যাদি কসমেটিকস বিক্রি করতেন। পরে একটা ফটো ল্যাবে যোগ দেন। নাচ ও কোরিওগ্রাফিতে শখ থাকায় মুম্বাইয়ে আকবর সামির ড্যান্সিং গ্রুপে যোগ দেন। এছাড়াও ১৯৮৭ সালে তিনি ‘ঠিকানা’ ও ‘কাশ’ ছবিতে মহেশ ভাটের সহকারী হিসেবে কাজ করেন।

  • রাকেশ ওমপ্রকাশ মেহরা

স্বনামধন্য এই পরিচালক একটা সময় শ্যুটিং সেটে চা বিলি করার কাজ করতেন। এরপর তিনি পেটের দায়ে বাড়িতে বাড়িতে ঘুরে ভ্যাকুয়াম ক্লিনারের সেলসম্যান হিসেবেও কাজ করেছেন। ১৯৮৬ সালে তিনি বিজ্ঞাপনের দুনিয়ায় পা রাখেন।

  • জনি লিভার

পারিবারিক অভাব-অনটন তাঁকে অল্প বয়সে জীবিকা নির্বাহে নেমে যেতে বাধ্য করেছিল। মুম্বাইয়ের রাস্তায় কলম বিক্রি করতেন অভিনব কায়দায় – বলিউড তারকাদের কণ্ঠ নকল করে, কখনো বা নেচে-গেয়ে। বাবা প্রকাশ রাও ঝানুমালা হিন্দুস্তান লিভার লিমিটেডে ছোট একটা চাকরী করতেন। সেখানকার একটি অনুষ্ঠানে একবার জনি লিভারের যাওয়ার সুযোগ হয়। মঞ্চে গিয়ে উচ্চপদস্থ কিছু কর্মকর্তার মিমিক্রি করে আলোচিতও হন তিনি। তখন ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মীরাই তার নাম দেন জনি লিভার।

  • বোমান ইরানি

প্রথম জীবনে তিনি তাজমহল প্যালেস হোটেলের ওয়েটার হিসেবে কাজ করতেন। মা অসুস্থ হয়ে গেলে তিনি পারিবারিক ওয়েফারের দোকান দেখা শুরু করেন। এরপর স্ত্রী-আর বন্ধুদের চাপে একবার একটা বিজ্ঞাপনের অডিশনে যান। বিজ্ঞাপনে হাত পাকানোর পর আসেন বলিউডে। বাকিটা তো ইতিহাস!

  • পঙ্কজ ত্রিপাঠি

তিনি একটা হোটেলের রান্নাঘরে কাজ করতেন। সেখানে রাতের শিফট ১১টায় শুরু হয়ে সকাল সাতটায় শেষ হত। এরপর বাড়ি ফিরে পাঁচ ঘণ্টা ঘুমাতেন। দুপুর দু’টা থেকে সাতটা অবধি থিয়েটার করতেন। এরপর যোগ দেন দিল্লীর ন্যাশনাল স্কুল অব ড্রামায় (এনএসডি)।

  • জনি ওয়াকার

জনি ওয়াকার ছিলেন বাস কন্ডাক্টর। বাসেই নানারকম কাণ্ড ঘটিয়ে যাত্রীদের মনোরঞ্জন করতেন। বলরাজ সাহনি সেখান থেকেই তাঁকে ধরে নিয়ে আসেন। কালক্রমে জনি ওয়াকার হয়ে ওঠেন ভারতীয় সিনেমার ইতিহাসে অন্যতম সেরা কমেডিয়ানদের একজন।

– মেনএক্সপি ও ইন্ডিয়া টাইমস অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।