রাধিকা আপতে: দ্য বিউটি উইদ ব্রেইন

তাঁর ব্যাপারে অনেকেই একটা কথা খুব বলেন ইদানিং। নবাগত অভিনেত্রী। কিন্তু, না। রাধিকা আপতে কিন্তু নবাগত কেউ নন। ইন্ডাস্ট্রিতে থেকেও তিনি বড় একটা সময় ছিলেন লোকচক্ষুর আড়ালে।

আজ থেকে ১৩ বছর আগে ‘ওয়াহ! লাইফ হো তো অ্যায়সি’ নামের একটি ফ্যান্টাসি সিনেমায় অভিষেক হয় তাঁর। শহীদ কাপুর, অমৃতা রাও ও সঞ্জয় দত্তর সাথে সিনেমাটিতে খুব ছোট্ট একটা পার্শ্ব চরিত্রে ছিলেন তিনি। আলাদা করে মনে রাখার কোনো কারণও নেই।

রাধিকা প্রথম মনে রাখার মত কাজ করেন ‘শোর ইন দ্য সিটি’ সিনেমায়। অভিষেকর ছয় বছর লাগে তাঁর আলোচনার রসদ জোগার করতে। ভাল কিছু পেতে অপেক্ষার প্রহর একটু লম্বা হলে ক্ষতিই বা কি!

রাধিকা অবশ্য কখনোই জনপ্রিয়তা পাওয়ার জন্য খুব একটা ছটফট করেননি। তিনি চেয়েছেন কেবল ভাল, মনে রাখার মত কাজ করতে। বোম্বে টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘আমি জনপ্রিয়তার পেছনে দৌঁড়াইনি। আমার পরিচিত হওয়ার ক্ষুধা ছিল না। আমার কাজ প্রশংসা পেলে ভাল লাগতো, এখনো লাগে। অনেক সময় লজ্জাও পেতে হত। সত্যি কথা বলতে কি, আমার চারপাশে কি ঘটে, সেসব আমি জানি না। আমি জনপ্রিয় হতে চাই না। আমি শুধু ভাল কাজ করতে চাই।’

রাধিকার সবচেয়ে বড় জব স্যাটিসফেকশন হল ‘টাকা’। হ্যাঁ, তিনিই নিজেই এই স্বীকারোক্তি দেন, ‘হ্যাঁ, টাকার জন্যই আমি ছবি সাইন করি। কারণ, একটা সময় তো টাকা নাও থাকতে পারে। তখন এই লাইফস্টাইল কিভাবে ধরে রাখবো। কোনো অভিনেতারই বাজার চিরকাল থাকে না। শুধু এই অভিনয়ে নয়, যেকোনো জব সেক্টরের জন্যই এই কথা প্রযোজ্য। আর এই পৃথিবীর কোনো কাজই আপনাকে শতভাগ তৃপ্তি দিতে পাররে না। তাই, কাজের ব্যাপারে অর্থকড়ি একটা বড় ব্যাপার।’

কালক্রমে ‘পারছেদ’, ‘কউন কিতনে পানি মে’, ‘হান্টার’, ‘বাদলাপুর’, ‘মাঝি: দ্য মাউন্টেন ম্যান’ সিনেমাগুলোতে তাঁর চরিত্রগুলোও প্রশংসিত হয়েছে। এমনকি করেছেন শর্ট ফিল্মও। ‘কৃতি’ ও ‘অহল্যা’র মত কাজ গুলো প্রশংসা কুড়িয়েছে।

এখন অবশ্য তিনি ব্যস্ত নেটফ্লিক্সে। ‘লাস্ট স্টোরিজ’, ‘স্যাকরেড গেমস’-এর পর তিনি এসেছেন ‘ঘউল’ নিয়ে। বলা হচ্ছে তিনি হচ্ছেন নেটফ্লিক্সে ভারতের মুকুটহীন সম্রাজ্ঞী।

পুনের ভেলোর শহরে ১৯৮৫ সালের সাত সেপ্টেম্বর তাঁর জন্ম। বাবা হলেন শহরের সাহয়াদ্রি হাসপাতালের শীর্ষস্থানীয় এক নিওরোসার্জন। বাবার বিচক্ষণতার গুণটা মেয়ের মধ্যে এসেছে। বলিউড ইন্ডাস্ট্রির প্রচলিত নায়িকাদের মত না হয়ে তিনি হেঁটেছেন ভিন্ন পথে।

বেছেবেছে ভিন্নধর্মী সব চরিত্র করেছেন, হাতে নিয়েছেন চ্যালেঞ্জিং সব স্ক্রিপ্ট। শুধু হিন্দী নয়, বাংলা, মারাঠি, তামিল, তেলেগু, মালায়ালাম – আঞ্চলিক ভাসার প্রায় সব ধরণের সিনেমাতেই দিব্যি রাধিকা স্বাচ্ছন্দ্যে কাজ করে যাচ্ছেন।

তাঁর অভিনয় গুনের কথা তো কম বেশি সবারই জানা। তবে, খুব কম লোকই জানেন না নাচেও বিশেষ পারদর্শীতা আছে তাঁর। লন্ডন থেকে তিনি সমসাময়িক নৃত্যের ব্যাপারে উচ্চতর ডিগ্রি নিয়ে এসেছেন। পুনের ফার্গুসন কলেজ থেকে এর আগে পড়াশোনা করেছেন অর্থনীতি নিয়ে। তখন থেকেই মারাঠি মঞ্চ নাটকে কাজ করতেন। সেখান থেকে পর্দায়! এজন্যই তো তিনি ‘বিউটি উইদ ব্রেইন’!

– এমটিভি ইন্ডিয়া ও পিংকভিলা অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।