কুইনি বনাম মুশি: তুরুপের তাস হবেন কে!

এবারের বিশ্বকাপ হবে ব্যাটসম্যানদের। আসর শুরুর আগেই এমন ভবিষদ্বানী করে ফেলেছেন ক্রিকেট বোদ্ধাদের অনেকেই। আর লড়াইটা যখন বাংলাদেশ ও দক্ষিণ আফ্রিকার মধ্যে তখন দু’দলের ব্যাটিং সামর্থ্যের তুলনা হবেই। আর ম্যাচ জয়ের জন্য দু’দলই নির্ভর করবে দু’দলের দুই উইকেটরক্ষক-ব্যাটসম্যানের ওপর। তারা হলেন – বাংলাদেশের মুশফিকুর রহিম ও দক্ষিণ আফ্রিকার কুইন্টন ডি কক।

আন্তর্জাতিক অভিষেকের পর থেকেই বাংলাদেশ দলের অপরিহার্য্য অংশে পরিণত হয়েছেন মুশফিকুর রহিম। মুশফিকের ব্যাটিংয়ে যদি কোন একটা দুর্বলতা থেকে থাকে- সেটা তার স্ট্রাইক রেট। সেটা অবশ্য ম্যাচ পরিস্থিতির কারণেও তাকে স্লো খেলতে হয়।

প্রতিটি বিশ্বকাপেই মুশফিকের বিশাল অভিজ্ঞতা বাংলাদেশ দলের জন্য অত্যন্ত অপরিহার্য্য। তবে প্রয়োজনে বড় শট খেলতে পারদর্শী তিনি। ব্যাট হাতে তার রান, উইকেটকিপিং এবং বোলিং লাইন আপে অধিনায়ক মাশরাফি বিন মর্তুজাকে তার পরামর্শ ২০১৯ বিশ্বকাপে বাংলাদেশ দলের পক্ষে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

২০০৬ সালের আগস্টে হারারেতে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এক দিনের আন্তর্জাতিক ম্যাচে অভিষেক ঘটে মুশফিকের। ক্যারিয়ারে এ পর্যন্ত ২০৫ ওয়ানডেতে ১৯১ ইনিংসে ৩৪.৯৫ গড়ে ও ৭৮.১৬ স্ট্রাইক রেটে মোট ৫৫৫৮ রান করেছেন মুশফিক।

ছয়টি সেঞ্চুরি এবং ৩৩ টি হাফ সেঞ্চুরি করা এই তারকার সর্বোচ্চ ইনিংস ১৪৪ রানের। উইকেটরক্ষ হিসেবে তাঁর নামের পাশে রয়েছে ১৬৯ টি ক্যাচ এবং ৪২ টি স্টাম্পিং।

ম্যাচ ফিনিশার হিসেবে বাংলাদেশ দলে মুশফিকের কোনো বিকল্প নেই বললেই চলে। সর্বশেষ আয়ারল্যান্ডের মাটিতে অনুষ্ঠিত ত্রিদেশীয় সিরিজে তিনি ছিলেন দারুণ ছন্দে। এবার যদি, বিশ্বকাপেও সেই ধারাবাহিকতা রাখতে পারেন তিনি, তাহলে সেটা হবে মাশরাফি বিন মুর্তজার দলের জন্য বেশ ইতিবাচক একটা ব্যাপার।

এবারের আসরে ব্যাটিং লাইন আপে দক্ষিণ আফ্রিকা দলের অন্যতম ভরসা হতে পারেন উইকেটরক্ষক কুইন্টন ডি কক। যার প্রমাণ তিনি ইংল্যান্ড ম্যাচেই দিয়েছেন।

ইংল্যান্ডের কাছে প্রথম ম্যাচে ১০৪ রানে পরাজিত হওয়া দক্ষিণ আফ্রিকার হয়ে সম্ভবত একমাত্র কুইন্টন ডিককই কিছুটা প্রতিরোধ গড়ে তুলতে সক্ষম হয়েছেন। এ ছাড়া অতীত নিকটে দক্ষিণ আফ্রিকান খেলোয়াড়দের মধ্যে সবচেয়ে ধারাবাহিক খেলোয়াড়দের মধ্যে অন্যতম তিনি। বিশ্বকাপে দলটিকে বহু দূর যাওয়ার আশায় তিনি হবেন সবচেয়ে বড় অস্ত্র।

ইংল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে দলের সর্বোচ্চ ৬৮ রান করেছেন ডি কক এবং তিনি ছিলেন একমাত্র খেলেয়াড় যিনি আউট হওয়ার আগ পর্যন্ত ইংলিশ পেস আক্রমণকে ভালভাবে মোকাবেলা করতে পেরেছেন।

২০১৩ সালে পার্লে নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে ডি ককের ওয়ানডে অভিষেক ঘটে। তার পর থেকে দক্ষিণ আফ্রিকা ওয়ানডে দলের সাথী তিনি। এ সময়ে দলের ১০৭ ওয়ানডের মধ্যে সবক’টি ম্যাচে ও ইনিংসে খেলেছেন তিনি। ৯৫.৭৫ স্ট্রাইক রেটে ও ৪৫.৭৮ গড়ে তিনি মোট রান করেছেন ৪৬৭০।

ব্যক্তিগত সর্বোচ্চ ১৭৮ রানের ইনিংস খেলা ডি ককের আছে ১৪ টি সেঞ্চুরি এবং ২২ টি হাফ সেঞ্চুরি। উইকেটরক্ষক হিসেবেও সমান দক্ষতার মালিক ডি কক ১৫০ টি ক্যাচ নেয়ার পাশাপাশি স্টাম্পিং করেছেন আটটি।

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।