রানী পদ্মাবতীর মিথ ও বিভৎস ট্র্যাজেডি

ক’দিন আগেও সঞ্জয় লীলা বনসালীর ইতিহাস নির্ভর সিনেমা ‘পদ্মাবতী’ নিয়ে শুরু থেকেই প্রচুর মাতামাতি হয়েছে। জলঘোলাও কিন্তু কম হয়নি না, ইতিহাস বিকৃতের অভিযোগে উগ্রবাদীরা বেশ কয়েকবার হামলা চালিয়েছিল ছবির শুটিং সেটে। রাজস্থানের কট্টরপন্থী রাজপুত কর্নি সেনার হাতে শারীরিকভাবেও নিগ্রহের শিকার হয়েছিল ছবির কলাকুশলীরা।

সুলতান আলাউদ্দিন খিলজি কর্তৃক চিতোরগড় দুর্গ আক্রমণ এবং তার মোকাবেলায় সাহসী রাজা রাওয়াল রতন সিং-এর লড়াইয়ের গল্পটাই মূলত ‘পদ্মাবতী’ সিনেমায় আবর্তিত হয়েছে। এই লড়াইটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, তার কারণ—এর সঙ্গে রানি পদ্মাবতী ও তার শক্তিশালী চরিত্রও যে জড়িত!

দুর্দান্ত মেকিং আর পরিপার্শ্বিক উপজীব্যের সুবাদে আরো একটি মহাকাব্যিক হিস্ট্রিক্যাল সিনেমা যোগ হয়েছে বনসালীর ঝুলিতে। মূল তিনটি চরিত্রে দীপিকা পাড়ুকোন, রণবীর সিং ও শহিদ কাপুরের উপস্থিতি যেন সিনেমাপ্রেমিদের মনে উত্তেজনা বহুগুণে বাড়িয়ে দিয়েছে। তার আগের সিনেমা ‘বাজিরাও মাস্তানি’ কে যদি উৎকৃষ্ট বলা হয়, তাহলে ‘পদ্মাবতী’কে বলতে হবে সর্বোৎকৃষ্ট। বক্সঅফিস থেকেও বিপুল লাভ নিয়ে ফিরেছে এই ছবি।

তবে প্রশ্ন হল — কে এই রাণী পদ্মাবতী? বাস্তবে কি তার কোনো অস্তিত্ব ছিল নাকি শুধুই কল্পনা?

  • রানী পদ্মাবতী আসলে কে?

চিতোরের রানী পদ্মাবতীকে নিয়ে অজস্র মিথ রয়েছে। তার অস্তিত্ব সম্পর্কে কোনো শক্তিশালী প্রমাণ পাওয়া যায় না। এমনকি রাজপুত বা সুলতান সাম্রাজ্যের ঐতিহাসিক দলিল-দস্তাবেজেও রানূ পদ্মাবতীর উল্লেখ পাওয়া যায় না৷ তিনি কি ঐতিহাসিক কোনো চরিত্র, নাকি কবির নিছক কল্পনা—এ নিয়ে বিতর্ক চলে আজও।

পদ্মাবতীর উপাখ্যান সর্বপ্রথম লিখিতভাবে পাওয়া যায় মধ্যযুগীয় বিখ্যাত কবি মালিক মুহাম্মদ জায়সির লেখা ‘পদুমাবৎ’ কাব্যে। মহাকবি আলাওল আবার সেই কাব্য অনুবাদ করে বাংলা সাহিত্যে অমর হয়ে আছেন। জানা যায়, উত্তর ভারতের ‘সিঙ্ঘাল’ রাজ্যের রাজা গন্ধর্বসেনা এবং তার স্ত্রী চম্পাবতীর ঘরেই জন্মগ্রহণ করেন অনন্য সুন্দরী এই রানি। ছোটবেলায় তাকে যুদ্ধ-কৌশল ও অস্ত্র চালনায় উন্নততর প্রশিক্ষণ দেয়া হয়। পরিণত বয়সে তিনি বীরত্ব ও রণ-কৌশলের জন্য চারদিকে বেশ পরিচিত হয়ে ওঠেন। ফলে তার জন্য যোগ্য বর খুঁজে পাওয়াটা মুস্কিল হয়ে পড়ে।

রাজকুমারীর উপযুক্ত বর খোঁজার জন্য একটি স্বয়ংবর প্রতিযোগীতার আয়োজন করা হয়। যেখানে পুরুষদের জন্য চ্যালেঞ্জ ছিল একজন মনোনীত যোদ্ধাকে তলোয়ার যুদ্ধে পরাজিত করতে হবে, এবং যে পরাজিত করতে পারবে, সে-ই পদ্মাবতীর স্বামী হওয়ার যোগ্যতা রাখবে।

প্রথম স্ত্রী নাগমতি ও মায়ের আপত্তি সত্ত্বেও রাজকুমারীর অসামান্য রূপের কথা শোনে অন্যান্য রাজ-রাজড়াদের মত রাওয়াল রতন সিংও প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করার মনস্থির করলেন। কথিত আছে, স্বয়ং পদ্মাবতী নিজেই চিতোর রাজের সঙ্গে ছদ্মবেশে যুদ্ধে অবতীর্ণ হন! কিন্তু তাকে পরাজিত করতে সিসোড়িয়া বংশীয় এ রাজার খুব একটা বেগ পেতে হয়নি।

এরপর যা হবার তাই হল।

  • রাজা রাওয়াল রতন সিংয়ের পরিচয়

রাজা রাওয়াল রতন সিং ছিলেন সাহিত্য, সংস্কৃতি ও সংগীতের পৃষ্ঠপোষক। তার রাজসভায় জ্ঞানীগুণীদের বিশেষ কদর ছিল। স্ব-সম্মানে তাদেরকে বিভিন্ন পদও দেয়া হত। তেমনি তার দরবারে ঠাঁই পেয়েছিল রাঘব চেতন নামের এক চিত্রশিল্পী। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ পাওয়া গেল গোপনে জাদুবিদ্যা চর্চা এবং তন্ত্র সাধনার মাধ্যমে লোকজনের অনিষ্ঠ করার। অথচ, সে-সময় জাদুবিদ্যা চর্চা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ছিল। একদিন হাতে নাতে ধরা পড়লে রাজা রতন সিং খুবই রাগান্বিত হন, এবং তাকে অপমান করে রাজ্য থেকে বিতাড়নের নির্দেশ দিলেন।

এই অপমান রাঘব চেতন সহ্য করতে পারেনি। প্রতিশোধপ্রবণ হয়ে সে দিল্লির নিকটবর্তী একটি জঙ্গলে বসতি স্থাপন করে, যেখানে আলাউদ্দিন খিলজি শিকারের জন্য প্রতিনিয়ত আসতেন। মনে মনে সে এক জঘন্য ফন্দি আঁটতে থাকে।

সুলতান একদিন দলবল নিয়ে জঙ্গলে প্রবেশ করলে রাঘব তাঁর মায়াবী সুরে বাঁশি বাজাতে লাগলেন। তার চালে ভুল ছিল না, সুলতান নিজেও সংস্কৃতিমনা। সুরটি সুলতানকে প্রবলভাবে মোহাবিষ্ট করল, ফলে ধুরন্ধর রাঘব চেতনের ঠাঁই হয় দিল্লীর রাজ দরবারে। এ সুযোগের অপেক্ষাতেই ছিল রাঘব, এ যেন মেঘ না চাইতেই বৃষ্টি! সে সুলতানের কানে রানী পদ্মাবতীর সৌন্দর্যের গুণকীর্তন করে চিতোর আক্রমণে প্রলুব্ধ করতে থাকে।

  • সুলতান আলাউদ্দিন খিলজি: মিথ বনাম বাস্তবতা

সুলতান গিয়াসউদ্দিন বলবনের মৃত্যুর পর তাঁর সকল উত্তরাধিকারীদের হত্যা করেন প্রধান সেনাপতি জালালউদ্দিন খিলজি, এবং ১২৯০ সালে নিজেকে দিল্লির মসনদে অধিষ্ঠিত করেন। এ ঘটনার মধ্য দিয়ে ভারতীয় উপমহাদেশে ‘দাস’ বংশের অবসান ঘটে, এবং ‘খিলজি’ বংশের সূচনা হয়।

সুলতান জালালউদ্দিনের ছোট ভাই শিহাবউদ্দিনের পুত্র ছিলেন আলাউদ্দিন খিলজি। পিতার অকাল মৃত্যুর পর চাচা জালালউদ্দিনের অপত্যস্নেহে তিনি বেড়ে ওঠেন। পরবর্তীতে দুরন্ত যুবক আলাউদ্দিন জালালউদ্দিনের কন্যাকে বিয়ে করে ‘কারা’ রাজ্যের শাসনকর্তা নিযুক্ত হন।

কিন্তু, আলাউদ্দিনের বরাবরই লোভ ছিল মূল সিংহাসনের প্রতি। ১২৯৬ সালে তিনি নিজ পিতৃব্য ও খিলজি বংশের প্রতিষ্ঠাতা সুলতান জালালউদ্দিন খিলজিকে গোয়ালিয়রের এক অভ্যর্থনা অনুষ্ঠানে নির্মমভাবে হত্যা করেন, এবং রাজন্যদের সাথে হাত মিলিয়ে নিজেকে দিল্লি সিংহাসনের সর্বেসর্বা ঘোষণা করে বসেন। এরপর ১২৯৬ থেকে ১৩১০ পর্যন্ত টানা ২০ বছর সফলভাবে একচেটিয়া রাজত্ব করে যান।

আলাউদ্দিন ছিলেন অত্যন্ত দক্ষ প্রশাসক, এবং দুর্ধর্ষ সমরনায়ক। একই সঙ্গে অত্যাচারী ও খ্যাপাটে বাদশা হিসেবেও আলাদা কুখ্যাতি ছিল। রাজ্যের সীমান্তবর্তী এলাকায় বারংবার হওয়া মোঙ্গল আক্রমণ সফলভাবে প্রতিরোধের মধ্যদিয়ে তার রাজনৈতিক দুরদর্শীতার পরিচয় পাওয়া যায়।

মুদ্রাস্ফীতি রোধ ও সৈনিকদের সুবিধার্থে তিনি ভারতীয় উপমহাদেশে প্রথম বাজারদর নিয়ন্ত্রণ নীতি প্রবর্তন করেন। একই সঙ্গে দিল্লী সুলতানদের মধ্যে তিনিই প্রথম জমি জরিপ করেন, এবং রাজস্ব-ব্যবস্থায় বিরাট সংস্কার সাধন করেন। ভারতের উত্তর প্রদেশ ও দক্ষিণাত্যে বিস্তৃত সাম্রাজ্য স্থাপনের সঙ্গে সঙ্গে শাসনতন্ত্রে বৈপ্লবিক সংস্কার এনে দিল্লি সালতানাতকে এক শক্ত ভিতের ওপর দাঁড় করিয়ে গিয়েছিলেন। তাঁকে বলা হয়ে থাকে সুলতানি আমলের ‘শ্রেষ্ঠ সুলতান’।

  • মহামতি খিলজি ও পদ্মাবতীর যোগাযোগ

রানীর রূপের কথা শোনে আলাউদ্দিন খিলজি এতটাই মুগ্ধ হলেন যে, প্রাসাদে ফিরে দেরি না করেই তিনি রাজপুতদের সবচেয়ে শক্ত ঘাঁটি রাজস্থানের চিতোর অভিমুখে রওয়ানা হয়ে গেলেন। সময়টা ১৩০০ সালের শুরুর দিকে।

তিনি শীঘ্রই মেওয়ার রাজ্যের চিতোরে পৌঁছলেন, এবং দেখলেন দুর্গটি খুবই সুরক্ষিত, সেখানে আক্রমণ করা খুব একটা বুদ্ধিমানের কাজ হবে না। উপায়ান্ত না দেখে কৌশলের আশ্রয় নিয়ে পদ্মাবতীর স্বামী রাওয়াল রতনকে বার্তা পাঠানো হল। সুলতানের আরজি — চিতোরের প্রকৃত সৌন্দর্যের সঙ্গে স্রেফ একটিবারের জন্য সাক্ষাৎ করতে চান। তাকে এক ঝলক দেখামাত্রই তিনি দিল্লীর পথ ধরবেন।

প্রথা অনুযায়ী একজন রাজপুত নারীর জন্য কোনো অচেনা ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করাটা অসম্ভব, আর এই ধরণের প্রস্তাবও অসম্মানজনক। রানি পদ্মাবতী খিলজির নিষ্ঠুরতা সম্পর্কে অবহিত ছিলেন। সাক্ষাত যুদ্ধ ও প্রজাদের কথা ভেবে তিনি রাজি হলেন। কিন্তু শর্ত ছিল, তিনি সরাসরি সাক্ষাৎ করতে পারবেন না, শুধুমাত্র প্রতিচ্ছবি দেখতে পাবেন।

প্রাসাদের একটি কক্ষে বড় বড় কিছু আয়না এমনভাবে প্রতিস্থাপন করা হল, যাতে খিলজি কেবল তার প্রতিবিম্বই দেখতে পায়। এরমধ্যে সুলতান তার সফরসঙ্গী সামরিক গোয়েন্দাদের বলে রাখলেন, যেন চিতোর দুর্গের কৌশলগত দুর্বল জায়গাগুলো নির্ধারণ করে রাখে। যাই হোক, প্রতিচ্ছবি দেখামাত্রই যে কোনো মূল্যে রানীকে পাওয়ার জন্য সুলতান প্রায় উন্মাদ হতে বসলেন।

  • সুলতানের দুরভিসন্ধি

পদ্মাবতীর রূপ সুলতানের কল্পনাকেও যেন হার মানিয়ে গেল! রানীকে পাওয়ার জন্য তিনি প্রায় মরিয়া হয়ে ওঠলেন। প্রেমে এতটাই দৃঢ় হয়ে ওঠেন যে, যে করেই হোক রানিকে তার চাই-ই চাই!

প্রেমের যন্ত্রণা নিয়ে দুর্গ থেকে আপাতত বেরিয়ে আসলেন আলাউদ্দিন খিলজি। ফেরার পথে কিছুদূর পর্যন্ত রতন সিং তাকে এগিয়ে দিতে আসেন। ধুরন্ধর সুলতান এটাকেই সুযোগ হিসেবে বেছে নিলেন, আচমকা রতন সিংকে পাকড়াও করে কারাগারে নিক্ষেপ করেন। এবং চিতোরগড় কেল্লায় বার্তা পাঠান, রানি পদ্মাবতী খিলজি শিবিরে আত্মসমর্পণ করলেই রাজাকে মুক্তি দেওয়া হবে।

এই খবরে রাজপুত শিবির ফের উত্তপ্ত হয়ে ওঠল। ‘গোরা’ আর ‘বাদল’ নামের দুই সেনাপতি পাল্টা আক্রমণের সিদ্ধান্ত নিলেন, তারা দু’জনে পরামর্শ করে একটা সুচতুর ফন্দি আঁটেন। সুলতানের কাছে খবর পাঠানো হয়, রানি পদ্মাবতী তার দাসী-বাদিসহ পালকিতে করে আত্মসমর্পণে আসছেন।

পরদিন সকালেই শতাধিক পালকি খিলজির শিবিরের দিকে রওনা হয়ে যায়। কিন্তু পালকিতে রানি, দাসীবাঁদী কেউ ছিলেন না, ছিল চারজন করে ছদ্মবেশী রাজপুত যোদ্ধা ছিল। এই দুর্ধর্ষ সৈন্যদলটি খিলজি শিবিরে পৌঁছেই অতর্কিত হামলা চালায়। মুসলিম সৈনিকদের কিছু বুঝে ওঠার আগেই তাদের কচুকাটা করে রাজা রতন সিংকে মুক্ত করে নিয়ে আসে।

এই ঘটনায় খ্যাপাটে সুলতান আলাউদ্দিন খিলজির রোখ চেপে যায়। রাজপুতদের সমুচিত শিক্ষা দেয়ার জন্য তিনি তার বাহিনীকে চূড়ান্তভাবে চিতোর আক্রমণের নির্দেশ দেন। কিন্তু দুর্ভেদ্য ওই দুর্গে অনেক আক্রমণেও কোনো ফল না পাওয়ায় তারা একটানা দুর্গ অবরোধের সিদ্ধান্ত নিলেন।

দিনের পর দিন অবরুদ্ধ থাকায় দুর্গের রসদ ফুরিয়ে আসে। এবার রাজা রতন সিং-এর মুখোমুখি হওয়া ছাড়া উপায় নেই, তিনি রাজপুত সেনাদের শরীরে শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দিলেন। চিতোরের সৈন্যরা তাদের সর্বোচ্চ শক্তি নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়া সত্ত্বেও ফলাফল যা হবার তাই হল। অসম এক যুদ্ধে রাজা রাওয়াল রতন সিং-সহ অসংখ্য রাজপুত সেনা নিহত হন।

  • পদ্মাবতীর ‘জওহব্রত’ পালন

পদ্মাবতী ও দুর্গের অন্যান্য নারীরা বুঝতে পারলেন, খিলজি বাহিনীর সঙ্গে তাদের পুরুষদের জয় কস্মিনকালেও সম্ভব নয়। বিজয়ী সৈন্যদের হাতে দাসী-বাঁদী হওয়ার চেয়ে মৃত্যুকেই তারা বেশি সুখকর মনে করলেন। ওই রাতেই দুর্গের এক সুরঙ্গের ভেতরে বিশাল অগ্নিকুন্ড জ্বালানো হল।

ধর্মীয় সঙ্গীত গেয়ে গেয়ে রানীর নেতৃত্বে আগুনের দিকে এগিয়ে গেলেন নারীরা। সবার আগে ঝাঁপ দিলেন রানী পদ্মাবতী, এরপর একে একে অনুসরণ করলেন অন্য নারীরাও। তাদের ভয়াবহ আর্তনাদে আকাশ বাতাস ভারি হয়ে ওঠল। চিতোরগড় দুর্গের ইতিহাসে এটাই প্রথম জওহরের ঘটনা।

বিজয়ীর বেশে দুর্গে প্রবেশ করেন সুলতান আলাউদ্দিন খিলজি। কিন্তু ভেতরে ততক্ষণে রচিত হয়ে গেছে এক মর্মান্তিক ইতিহাস। নারীদের দেহাবশেষ আর ভস্ম ছাড়া সৈন্যরা আর কিছুই দেখতে পেল না। কথিত আছে, চারদিকে নারীদের ​আর্তনাদ এতটাই ভয়ঙ্কর ছিল যে, সুলতান কিছুটা ভেঙে পড়েন। এবং চিরস্থায়ীভাবে ওই সুরঙ্গ বন্ধ করে দেয়ার নির্দেশ দেন।

একরাশ মন বেদনা নিয়ে রাজধানী দিল্লীর দিকে রওয়ানা হলেন সুলতান। যাওয়ার আগে ছেলে খিজির খানকে চিতোরের শাসক হিসেবে নিযুক্ত করে যান। শাসকের নাম অনুসারে চিতোরের নতুন নাম হয় খিজিরাবাদ।

– আরভিসিজে.কম ও স্কুপহুপ.কম অবলম্বনে

Related Post

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।