তেলেগু ইন্ডাস্ট্রির আক্ষেপ কিংবা ভারতের সেরা সাইকোলজিক্যাল থ্রিলার

খুব কম সময়ই এমন হয় যে, একটা ছবির দর্শক থেকে শুরু করে প্রধান চরিত্র আর সহকারী চরিত্রগুলো ‍বুঝে উঠতে পারে না, কোনটা বাস্তব আর কোনটা কল্পনা! তেমনই একটা ছবি হল – ‘১: নেনোক্কাদিন’। তারপরও এটা তেলেগু ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির বড় একটা আক্ষেপের নাম। কারণ, বিশাল বাজেটের এই ছবিটি বক্স অফিসে মুখ থুবড়ে পড়েছিল।

শীর্ষ চরিত্রে অভিনয় করা মহেশ বাবুর ক্যারিয়ারের এটা অন্যতম সেরা ছবি, আবার অন্যতম বড় ডিজাস্টারও বটে। অথচ, ২০১৪ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটিকে ঘিরে উচ্ছ্বাসের কোনো কমতি ছিল না। শীর্ষ স্থানীয় ভারতীয় গণমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’ ছবিটাকে ‘অবিশ্বাস্য রকমের দর্শনীয়’ বলে রায় দিয়েছিল। আশাবাদী ছিলেন সমালোচক তারাণ আদর্শও।

ছবির গল্প আবর্তিত হয়েছে গৌতম নামের এক রকস্টারকে ঘিরে। এই চরিত্রটাই করেছেন মহেশ বাবু। ‘১: নেনোদাক্কিন’ মূলত সাইকোলজিক্যাল থ্রিলারের আড়ালে প্রতিশোধের গল্পই বলেছে। সঙ্গীত, বিজিএম কিংবা অভিনয় – বানিজ্যিক ও সফল ছবির যতগুলো ব্যাপার না হলেই নয়, তার সবই ছিল এর মধ্যে।

ছবিতে এমন কিছু টুইস্ট আর রোমাঞ্চ ছিল যা পর্দায় দর্শকদের আটকে রাখার জন্য যথেষ্ট ছিল। সবচেয়ে আকর্ষণীয় ব্যাপার হল ১৫ মিনিটের ক্লাইম্যাক্স, যেখানে খোলাসা হয় ছবির আসল রহস্যের। দারুণ প্রশংসা কুড়ায় আর. রত্নাভেলুর সিনেম্যাটোগ্রাফি।

একটা সমস্যা হল, দ্বিতীয়ার্ধে ছবির গতি খানিকটা কমে এসেছিল। যার কারণে, কিছু দর্শক হতাশ হন। তবে, সবচেয়ে সবচেয়ে বড় সমস্যা হল দর্শকরা এই গল্প হজম করার জন্য প্রস্তুতই ছিলেন না।

ভারতীয় থিয়েটারের দর্শকদের কাছে ছবিটা মনো:পুত না হলেও দেশের বাইরে ঝড় তোলে এই ছবি। যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে এটা ব্যবসায়িক সাফল্যের দিক থেকে চতুর্থ সেরা ছবি। মহেশ বাবু চেষ্টার কমতি রাখেননি। কিন্তু, সেটাও বিপর্যয় থামানোর জন্য যথেষ্ট ছিল না। ছবিটাকে তেলেগু ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিরই সবচেয়ে বড় অঘটনগুলোর একটি বলে বিবেচনা করা হয়।

যদিও, নির্মাতা সুকুমার পরিচালিত এই ছবিটি ছয়টি ভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত হয়। ক্লাসিক মূল্য বিবেচনা করে পরবর্তীতে ছবিটি তামিল, মালায়ালাম এমনকি হিন্দি ভাষাতেও ডাবিং করে মুক্তি দেওয়া হয়।

এই ছবি দিয়েই রুপালি পর্দায় অভিষেক হয় কৃতি শ্যাননের। পরে এই ছবিই তাঁর জন্য বলিউডের দরজা খুলে দেয়। যদিও, মজার ব্যাপার হল, কৃতি ছবির জন্য নির্মাতার প্রথম পছন্দ ছিলেন না। সুকুমার প্রথমে কাজল আগারওয়ালকে কাস্ট করেছিলেন। কিন্তু, শিডিউল না মেলায়, ছবি ছেড়ে দেন কাজল। কপাল খুলে যায় কৃতির।

অলিগলি.কমে প্রকাশিত সকল লেখার দায়ভার লেখকের। আমরা লেখকের চিন্তা ও মতাদর্শের প্রতি শ্রদ্ধাশীল। প্রকাশিত লেখার সঙ্গে মাধ্যমটির সম্পাদকীয় নীতির মিল তাই সব সময় নাও থাকতে পারে।